প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৬
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়
হুজুরের দেহতত্ত্ব
প্রসঙ্গ : নবী করিম (দ.)-এর দেহ মোবারক নূর-নাকি মাটি?

নুরের দেহ মোবারক : ১০টি দলীল
এবার আমরা নূরের দেহের পক্ষের কিছু রেওয়ায়াত পেশ করে প্রমাণ করবো- নবী করিম (দঃ)-এঁর দেহ মোবারকও নূরের তৈরী ছিল।
(১) যারকানী শরীফ ৪র্থ খন্ড ২২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
অর্থঃ- সূর্য, চন্দ্রের আলোতে নবী করিম (দঃ)-এঁর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তো না। কেননা, তিনি ছিলেন আপাদমস্তক নূর। (যারকানী)
(২) ইমাম কাযী আয়ায (রঃ) শিফা শরীফের ১ম খন্ড ২৪২ পৃষ্ঠায় লিখেন-
অর্থঃ-নূরের দলীল হিসেবে ছায়াহীন দেহের যে রেওয়ায়াত পেশ করা হয়, তা হচ্ছে- দিনের সূর্যের আলো কিংবা রাতের চাঁদের আলো- কোনটিতেই হুযুর (দঃ)-এঁর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তো না। কারণ তিনি ছিলেন আপাদমস্তক নূর।” (শিফা শরীফ)
(৩) আশ্রাফ আলী থানবী সাহেব তার ‘শুকরুন নি’মাতি বিযিকরি রাহমাতি’ গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় স্বীকার করেছেন:-
অর্থঃ-“এ কথা সর্বজন স্বীকৃত ও প্রসিদ্ধ যে, আমাদের হুযুর (দঃ)-এঁর দেহের ছায়া ছিল না। কেননা আমাদের হুযুর (দঃ)-এঁর মাথা মোবারক হতে পা মোবারক পর্যন্ত শুধু নূর আর নূর ছিলেন।” (শোক্রে নে’মত)
(৪) ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী (রঃ) ’আন-নে’মাতুল কোবরা’ গ্রন্থের ৪১ পৃষ্ঠায় হাদীস লিখেন :
অর্থঃ-হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত- “তিনি বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী করিম (দঃ)-এঁর কাপড় মোবারক সেলাই করছিলাম। এমন সময় প্রদীপটি (কোন কারণে) নিভে গেল এবং আমি সুঁচটি হারিয়ে ফেললাম। এর পরপরই নবী করিম (দঃ) অন্ধকারে আমার ঘরে প্রবেশ করলেন।
তাঁর চেহারা মোবারকের নূরের জ্যোতিতে আমার অন্ধকার ঘর আলোময় হয়ে গেল এবং আমি (ঐ আলোতেই) আমার হারানো সুঁইটি খুঁজে পেলাম।”
সুবহানাল্লাহ! মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, নূরের চেহারা-আর তারা বলে মাটির চেহারা। নাউযুবিল্লাহ!
(৫) মাওলানা আবদুল আউয়াল জৌনপুরী সাহেব তাঁর ‘উমদাতুন নুকুল’ গ্রন্থে লিখেছেনঃ-
অর্থঃ-“নবী করিম (দঃ) মায়ের গর্ভেই যে নূর ছিলেন-এর দলীল হচ্ছে যাকারিয়ার বর্ণিত হাদীস”- নবী করিম (দঃ) নয় মাস মাতৃগর্ভে ছিলেন, এ সময়ে বিবি আমেনা (রাঃ) কোন ব্যাথা বেদনা অনুভব করেননি বা বায়ু আক্রান্ত হননি এবং গর্ভবতী অন্যান্য মহিলাদের মতো কোনো আলামতও তাঁর ছিল না। হুযুর [দঃ]-এঁর দেহ যে মাতৃগর্ভে নূর ছিল, এটাই তার প্রমান।
(৬) মিশকাত শরীফের হাদিসে নবী করিম (দঃ) এরশাদ করছেনঃ-
অর্থঃ-“আমার জন্মের প্রাক্কালে তন্দ্রাবস্থায় আম্মাজান দেখেছিলেন- একটি নূর তাঁর গর্ভ হতে বের হয়ে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ পর্যন্ত আলোকিত করেছে। আমি আমার মায়ের দেখা সেই নূর।” (মিশকাত শরীফ)
(৭) ইমামে আহ্লে সুন্নাত শাহ আহমাদ রেযা খান বেরলভী (রঃ) হাদায়েকে বখ্শিশ গ্রন্থের ২য় খন্ড ৭ পৃষ্ঠায় ছন্দে লিখেন:
অর্থঃ-“হে প্রিয় রাসুল! আপনি তো আল্লাহর নূরের প্রতিচ্ছবি বা ছায়া। আপনার প্রতিটি অঙ্গই এক একটি নূরের টুক্রা। নূরের যেমন ছায়া হয় না, তদ্রূপ ছায়ারও প্রতিচ্ছায়া হয় না। কাজেই আপনারও প্রতিচ্ছায়া নেই, কেননা আপনি নূর এবং আল্লাহর নূরের ছায়া।”
(৮) মাকতুবাতে ইমামে রাব্বানী ৩য় জিলদ, মাকতুব নং ১০০ তে হযরত মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রঃ) লিখেছেন- “হযরত রাসুলে করিম (দঃ)-এঁর সৃষ্টি কোনো মানুষের মতো নয়। বরং নশ্বর জগতের কোন বস্তুই হযরত নবী করিম (দঃ)-এঁর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে স্বীয় নূর দ্বারা সৃষ্টি করছেন।”
(৯) আশ্রাফ আলী থানবী তার নশরুতত্বীব গ্রন্থের ৫ম পৃষ্টায় একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন- “হে জাবের! আল্লাহ তায়ালা আপন নূরের ফয়েয বা জ্যোতি হতে তোমার নবীর নূর সৃষ্টি করেছেন।” (নশরুতত্বীব ৫ পৃষ্ঠা)
(১০) তাফসীরে সাভী, সূরা মায়েদা, ১৫নং আয়াত “ক্বাদ যাআকুম মিনাল্লাহি নূর’’ এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন :- “আল্লাহপাক তাঁকে নূর বলে আখ্যায়িত করার কারণ হচ্ছে- তিনি সকল দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নূর সমূহের মূল উৎস।”
এছাড়াও দেহ মোবারকের প্রতিটি অঙ্গ নূর হওয়ার বহু দলীল বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। সুতরাং সৃষ্টির আদিতেও তিনি নূর, মায়ের গর্ভেও নূর এবং দুনিয়াতেও দেহধারী নূর- এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে নূরকে বাশারী সুরতে ও কভারে আবৃত করে রাখা হয়েছে মাত্র। যেমন তারের কাভারে বিদ্যুতকে আবৃত করে রাখা হয়। এতসব প্রমাণ সত্ত্বেও নবী করিম (দঃ)-কে মাটির সৃষ্টি বলার কোনই অবকাশ নেই। এরকম ধারণা পোষণের কারণে ঈমান ও আক্বীদা গোমরাহ হবার উপাদান নিহিত রয়েছে। আর সঠিক ঈমান ও আক্বীদা আমলের পূর্ব শর্ত। (চলবে) সূত্র : নূরনবী, লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (রঃ)।








