মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২৯

স্বামীর মৃত্যুর পর নাছরুমের জীবনে কালমেঘের ছায়া

স্বামীর জন্যে নেওয়া ঋণের দায় নিচ্ছে না শ্বশুরবাড়ির লোকজন

স্টাফ রিপোর্টার।।
স্বামীর মৃত্যুর পর নাছরুমের জীবনে কালমেঘের ছায়া

বাংলা সিনেমার গল্পের মতো ঘটনা—প্রেম করে বিয়ে, সুখের সংসার, হঠাৎ দুর্যোগ। তবে শেষে মিলনের পরিবর্তে এই ঘটনায় সব হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন এক নারী। উল্টো শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই নারীর বিয়েকেই অস্বীকার করছে। এমনকি কাজীকে চাপ দিয়ে কাবিননামা বদলে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে ন্যায়বিচার ও স্বামীর ওয়ারিশ নিশ্চিত করতে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হোগলী গ্রামে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ নাছরুম আক্তার জানান, ‘উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হোগলী গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে সাইফুল ইসলাম মাসুমকে ভালোবেসে বিয়ে করার পর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর আমি শ্বশুরবাড়িতেই ছিলাম। শ্বশুর-শাশুড়িসহ সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক ছিল। হঠাৎ করেই প্রবাসে (সৌদি আরব) থাকা স্বামী ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়লে আমি আমার শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন সমিতি থেকে ৯ লাখ টাকা ঋণ তুলে তাকে পাঠাই। এ ছাড়া নিজের ও বোনের স্বর্ণালংকার বিক্রি ও বন্ধক রেখেও টাকা দিই। কিন্তু চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সৌদি আরবে আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়।’

নাছরুম আরও বলেন, "শ্বশুর আবুল বাশার বিভিন্ন সমিতির ঋণ পরিশোধে অসহযোগিতা শুরু করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে শ্বশুরবাড়িতে স্থানীয় ইউপি সদস্য, এলাকার লোকজন ও সমিতির লোকজনকে নিয়ে বসা হলে ঋণের টাকা পরিশোধ এবং আমার স্বামীর ওয়ারিশ বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই শ্বশুর আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরবর্তীতে ফরিদগঞ্জ থানা এলাকায় আরেকটি সালিসি বৈঠক হয় এবং সেখানেও প্রায় একই ধরনের সিদ্ধান্ত হয়। পুনরায় লিগ্যাল এইডে আরেকটি অভিযোগ করলে সেখানেও একই ধরনের রায় দেওয়া হয়। এরই মধ্যে শ্বশুর কৌশলে আমাকে বাপের বাড়িতে পাঠানোর নাম করে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেন। ফলে আজ অবধি আমি স্বামীর বাড়িতে যেতে পারিনি। গত প্রায় তিন মাস ধরে আমি বারবার স্বামীর বাড়িতে গেলেও দেখতে পাই ঘর তালাবদ্ধ। শ্বশুর-শাশুড়ি কৌশল করে সটকে পড়েছেন। ফলে একদিকে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আমি দিশেহারা, অন্যদিকে স্বামীর প্রকৃত ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমার আশঙ্কা, আমাকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করতেই এত টালবাহানা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তারা আমার বিয়ের কাবিনকে ভুয়া বলে অস্বীকার করছে। শুনেছি, বিয়ের কাজী যিনি কাবিননামা করেছিলেন, তাকে চাপ দিয়ে তা বদলে ফেলার চেষ্টা চলছে। ফলে বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি আমার অধিকার ফিরে পেতে চাই।"

স্থানীয় তৈয়বেন্নেছা (তৈয়বা), ইউছুপ মিজি, জসিম উদ্দিন ও মো. হোসেন জানান, মাসুম প্রবাসে থাকলেও তার স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গেই থাকতেন। তাদের মধ্যে সুসম্পর্কই ছিল। কিন্তু মাসুম সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করার পর থেকেই সংসারে অশান্তি নেমে আসে। বিভিন্ন সমিতি থেকে নেওয়া ঋণসহ নানা ঝামেলা নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। এরপর হঠাৎ করেই বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। মাঝে মাঝে মাসুমের স্ত্রী এসে ঘুরে যান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আহসান উল্লাহ হৃদয় জানান, মাসুমের মৃত্যুর পর তাদের সমস্যা নিয়ে বাড়িতে, থানার সামনে এবং লিগ্যাল এইডের মামলার শুনানির সময় তিনি গিয়েছিলেন। সবখানেই মাসুমের স্ত্রীকে তার ওয়ারিশ বুঝিয়ে দেওয়া এবং শ্বশুরকে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসবের কিছুই করা হয়নি। শ্বশুরের দাবির কারণে মাসুমের স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলেও আজ অবধি তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসতে পারেননি। মাসুমের স্ত্রী আদালতে মামলা করেছেন বলে শুনেছেন এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচার পাবেন।

এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম মাসুমের বাবা আবুল বাশারকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি তার ভাই আবুল হোসেনের হাতে ফোনটি দেন। পরবর্তীতে আবুল হোসেন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমরা যা কিছু করেছি, আইনের মাধ্যমেই করেছি।" এ সময় তিনি নাছরুমের বিয়ের কাবিন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়