বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯

জেলা শিল্পকলায় বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘বর্ষামঙ্গল’

কবির হোসেন মিজি
জেলা শিল্পকলায় বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘বর্ষামঙ্গল’

বর্ষার সৌন্দর্য, বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি ও সংগীতের আবেশে চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘বর্ষামঙ্গল’। গান, ছড়া, আবৃত্তি ও বর্ষার নানা অনুষঙ্গের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন।

গত বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৪টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির বাস্তবায়নে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন চাঁদপুর সরকারি গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক উম্মে রাইহানা।

বর্ষামঙ্গলের শুরুতেই সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় নজরুলসংগীত ‘গগনে আসিলো অতিথি সুদূর’। এরপর চর্যাপদের ‘জিম জিম করি আঁ’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। একক সংগীতে মধুরিমা পরিবেশন করেন বিদ্যাপতির ‘ভরা বাদর মাহ ভাদর’। খনার বচনের ‘যদি বর্ষে আগনে’ সমবেত ছড়া এবং লোকগীতি ‘আয় বৃষ্টি ঝেঁপে ধান দেবো মেপে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বর্ষার চিরচেনা আবহ ফুটে ওঠে।

অনুষ্ঠানে ‘বর্ষার আড্ডা’ শিরোনামে সমবেত আবৃত্তিও ছিলো অন্যতম আকর্ষণ। এরপর রবীন্দ্রসংগীত ‘এসো শ্যামল সুন্দর’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। একক সংগীতে রফিক আহমেদ মিন্টু পরিবেশন করেন ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’। এ ছাড়া প্রশিকা সরকার পরিবেশন করেন অতুলপ্রসাদের ‘বঁধুয়া, নিদ নাহি আঁখিপাতে’, অনিরুদ্ধ গোস্বামী নজরুলসংগীত ‘পরদেশী মেঘ যাও রে ফিরে’, উজালা চাকমা ‘শ্যামা তন্বী আমি মেঘবরণা’ এবং চয়ন সাহা ‘রিমঝিম রিমঝিমঝিম’ পরিবেশন করেন।

সমবেত পরিবেশনায় নজরুলসংগীত ‘যায় ঝিলমিল ঝিলমিল ঢেউ তুলে’ এবং দ্বৈত সংগীতে শুভ্রা ও নীরব পরিবেশন করেন ছড়াগান ‘মুক্তামালার ছাতি মাথায়’। সানজিদা আলম সাঞ্জু পরিবেশন করেন আধুনিক গান ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে’। একক আবৃত্তিতে জান্নাত পরিবেশন করেন জসীমউদ্দীন-এর ‘পল্লীবর্ষা’। পরবর্তীতে বাবুল চক্রবর্তী পরিবেশন করেন আধুনিক গান ‘ও বরষারে’। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান’। দীপা রায় চৈতী পরিবেশন করেন ‘আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন’ এবং চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান পরিবেশন করেন আধুনিক গান ‘ঘন বরষায়’।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘হৃদয়ে মন্দ্রিল ডমরু গুরুগুরু/আজি এ শ্রাবণনিশি’ গানটি। পুরো আয়োজনজুড়ে বর্ষার প্রকৃতি, বৃষ্টি, মেঘ, প্রেম, গ্রামীণ জীবন ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নানা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উঠে আসে।

বর্ষামঙ্গলের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাগুলোতে চাঁদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের অংশগ্রহণ ছিলো। শিল্পীদের গান, ছড়া ও আবৃত্তিতে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় উৎসবমুখর আবহ। বর্ষার চিরায়ত সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন জেলার সংস্কৃতি অঙ্গনেও সৃষ্টি করে প্রাণচাঞ্চল্য।

অনুষ্ঠানশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে উপস্থিত সবাই সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষার আবেশে সাজানো বর্ণিল আয়োজন ‘বর্ষামঙ্গল’।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়