প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ২২:০৮
কচুয়ায় বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে থানায় মিথ্যা ছিনতাই মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে কচুয়া থানায় মো. জিয়াউদ্দিন চৌধুরী (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পাথৈর ইউনিয়ন, কচুয়া, চাঁদপুর) তাঁর আপন জেঠাতো ভাই 'মৎস্যমানব' হিসেবে পরিচিত মিজান চৌধুরী (শিক্ষক ও সাংবাদিক), সফিউল আলম চৌধুরী এবং ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। এই এজাহারকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন মিজান চৌধুরী ও তাঁর পক্ষ।
|আরো খবর
এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১১ জুন ২০২৬ খ্রি. মিজান চৌধুরী ও গোলাম মোস্তফা আপন চাচাতো ভাই জিয়াউদ্দিন চৌধুরীকে দুপুর ২টার সময় গালিগালাজ করে হত্যার হুমকি প্রদান করেন এবং সুযোগ পেলে পরিবারের সদস্যদের অপহরণ করে হত্যা করবেন বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে চলে যান। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুন ২০২৬ খ্রি. দুপুর দেড়টার সময় গোলাম মোস্তফার হুকুমে সফিউল আলম চৌধুরী, 'মৎস্যমানব' মিজান চৌধুরী ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন মিলে জিয়াউদ্দিনকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গলা চেপে ধরেন। একই সঙ্গে তাঁর বাম হাতের আঙুলে থাকা ৪ আনা স্বর্ণের আংটি, হাতের ঘড়ি ও পকেটের টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান; যার আনুমানিক মোট মূল্য ৮৩ হাজার ২৪৫ টাকা। এজাহারের সঙ্গে বহির্বিভাগীয় রোগীর টিকেট (রেজি. নং-২৯২০/১৪, Physical Assault, তারিখ-২৯ জুন ২০২৬ খ্রি.) সংযুক্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ খ্রি. সহকারী কমিশনার (ভূমি) কচুয়া, চাঁদপুর, এডিএম কোর্টের দরখাস্ত মামলা নম্বর ১৫৮৫/২০২৫-এর সরজমিন তদন্তের জন্যে মৎস্যমানব মিজান চৌধুরীর নিজ গ্রাম আতিশ্বরে যাওয়ার নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততার কারণে ১১ জুন সরজমিনে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয় মর্মে এসি ল্যান্ডকে জানানো হলে ২৯ জুন তদন্তের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সেই মোতাবেক উক্ত তারিখে কচুয়া এসিল্যান্ড অফিস থেকে তদন্তের জন্যে সার্ভেয়ার ইব্রাহীম খলিলসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত হন। চাঁদপুর, ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে মৎস্যমানব মিজান চৌধুরী ও সহকারী অধ্যাপক সফিউল আলম চৌধুরী উপস্থিত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তার নিকট বাড়ি ও জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করে স্থান ত্যাগ করতে চান। কিন্তু সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল ও তাঁর সহকর্মীদের উপস্থিতিতেই জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, বাবুল ও মাসুদ মিয়া মৎস্যমানব মিজান চৌধুরী ও তাঁর ভাই সফিউল আলম চৌধুরীর ওপর আক্রমণ করেন; যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ১১ জুন ২০২৬ খ্রি. মিজান চৌধুরী, সফিউল আলম চৌধুরী ও গোলাম মোস্তফাসহ সকলেই নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কর্মস্থলে উপস্থিতির নথিপত্র প্রতিবেদকের সংরক্ষণে রয়েছে। তাছাড়া ঘটনার দিন ২৯ জুন ২০২৬ খ্রি. যার হুকুমে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ভূমি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা চৌধুরী উক্ত তারিখে নিজ কর্মস্থলে কর্মরত ছিলেন। বিগত ৩০/৩৫ বছর যাবৎ চাকরিগত কারণে পরিবারের ৫ ভাই-ই ঢাকা ও কুমিল্লায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এমনকি গত ৩০/৩৫ বছরের মধ্যে ঈদের ছুটিতেও তাঁরা নিজ জন্মভূমি আতিশ্বর গ্রামে আসেননি।
মামলার বাদী মো. জিয়াউদ্দিন চৌধুরী এবং কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লিটন চন্দ্র দাস (বিএমডিসি রেজি নং- ১০৮৬৫৫) একই হাসপাতালে চাকরি করার সুবাদে পূর্বপরিচিত। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ খ্রি. মৎস্যমানব মিজান চৌধুরীসহ তিন ভাইয়ের কেউ বাড়িতে আসেননি এবং তাঁদের বসতঘর বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয় ব্যক্তিদের মারফতে জানা যায়, ২৯ জুন ২০২৬ খ্রি. পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. জিয়াউদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর আপন জেঠাতো ভাইদের মধ্যে কোনো প্রকার মারামারি হয়নি। স্থানীয় ব্লগার আল-আমিনের আইডি থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, জিয়াউদ্দিন, বাবুল ও মাসুদ মিলে মৎস্যমানব মিজান চৌধুরী এবং শিক্ষক ও সাংবাদিক সফিউল আলম চৌধুরীর ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজনের সাহায্যে তাঁরা নিজ ঘরে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ঢাকা ও কুমিল্লা চলে যান।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মো. জিয়াউদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর আপন জেঠাতো ভাইদের মধ্যে বিগত প্রায় ৩০ বছর যাবৎ জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তাই বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে ঘড়ি, আংটি ও টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। গত ২৯ জুন ২০২৬ খ্রি. ছিনতাইয়ের মতো কোনো ঘটনা ঘটে নাই; এজাহারে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক।








