প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-
গোটা হাজীগঞ্জ পৌরবাসীর সমর্থন চাই
— মেয়র প্রার্থী জাকির মজুমদার

জাকির মজুমদার মকিমাবাদ মজুমদার বাড়ির সন্তান। জন্ম ও বেড়ে ওঠা হাজীগঞ্জেই। কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হলেও নাড়ির টানে বারবার ফিরে আসেন প্রিয় হাজীগঞ্জে। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করেছেন। পেশায় সাংবাদিক হিসেবে দেশের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে কাজ করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিয়মিত জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। নিজেকে সব ধরনের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করেছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীতে অবস্থান করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
|আরো খবর
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ধারাবাহিক আয়োজনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তবে আমি শুধু একটি দলের নয়, গোটা হাজীগঞ্জ পৌরবাসীর সমর্থন চাই। আমি বিশ্বাস করি, পৌরবাসী সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত ব্যক্তিকেই তাদের নেতৃত্বে নির্বাচিত করবেন।”
জাকির মজুমদারের সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার পরিচিতি বলুন।
জাকির মজুমদার : আমি ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সেই ধারাবাহিকতায় সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। গত ৩২ বছর ধরে হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর এবং ঢাকায় প্রথম সারির বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছি।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন (উপজেলা/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ)-এ কোথা থেকে কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?
জাকির মজুমদার : আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আমি মেয়র পদে প্রার্থী।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?
জাকির মজুমদার: অতীতে আমি কোনো নির্বাচনে অংশ নিইনি। তবে ২০১০ সালে প্রথম হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ওই বছর নির্বাচনের তিন মাস আগে থেকে এলাকায় গণসংযোগ এবং পরিচিতিমূলক লিফলেট বিতরণও করি। কিন্তু ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি পর্যাপ্ত না থাকায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হয়নি।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন, নাকি নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?
জাকির মজুমদার : আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো দলের প্রতীক বা ব্যানারে নয়। তারপরও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমাকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে আমি শুধু জামায়াত নয়, সব দল-মত নির্বিশেষে গোটা হাজীগঞ্জ পৌরবাসীর সমর্থন চাই।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা যাচাই বা পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হচ্ছেন, নাকি বিজয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছেন?
জাকির মজুমদার : মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলতে পারি, জনগণের সমর্থন নিয়ে আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ। বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন?
জাকির মজুমদার : নির্বাচন হলো জনগণের মন জয়ের একটি প্রক্রিয়া। এখানে মানুষের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রজীবন থেকেই আমি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি। সাংবাদিকতার ৩২ বছরের পথচলায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও সমস্যার কথা লিখেছি এবং তাদের সমস্যা সমাধানে যথাসাধ্য ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ যদি আমাকে বিজয়ী করেন, তাহলে নাগরিক সেবা ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবো, ইনশাআল্লাহ। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি বছরের জুন মাস থেকেই গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করতে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
জাকির মজুমদার : নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে জনগণ তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে না। এতে জনগণের প্রকৃত মতামত ও রায় প্রতিফলিত হয় না। এমন পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করে। গত দু দশকে আমরা এর মূল্য অনেক দিয়েছি। অনেক প্রাণহানি ঘটেছে, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র অস্থিরতার মধ্যে পড়েছে। আমার পরামর্শ হলো—বর্তমান সরকার, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসন অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে ভোটারদের উদ্দেশে আপনি কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চান?
জাকির মজুমদার : নির্বাচন এলেই নানা প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। আমি সে পথে হাঁটতে চাই না। নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবা ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো। নাগরিক সেবায় হয়রানি সম্পূর্ণভাবে দূর করার চেষ্টা করবো। শহরের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সমস্যা সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করবো। সততা ও জবাবদিহিতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। জবাবদিহিতা শুধু মানুষের কাছেই নয়, মহান আল্লাহর কাছেও। যারা আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় রাখেন, তারা অবশ্যই জনগণের আমানত রক্ষা করবেন।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে বলতে পারেন।
জাকির মজুমদার : ভোট একটি নাগরিক অধিকার এবং একটি আমানত। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই তাদের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করবে। জনগণের এই অধিকার ও আমানত যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে। এটি বড় ধরনের জুলুম। অতীতে যারা এমন অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলো, তাদের পরিণতি আমরা দেখেছি। আশা করি, ভবিষ্যতে নতুন কোনো জালিমের উদ্ভব হবে না এবং সবাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরুন।
জাকির মজুমদার : সাংবাদিক, সংগঠক ও সমাজকর্মী।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








