প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৪৯
ফরিদগঞ্জে সরকারি খাল ভরাট করে বাড়ির রাস্তা নির্মাণ!
পানিবন্দি হবার আতঙ্কে এলাকাবাসী

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের দেইচর গ্রামের দক্ষিণ দেইচরে খাল দখল করে বালু ফেলে ব্যক্তিগত বাড়ির রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার কারণে কমপক্ষে ৩০টি বাড়ি এবং ৬/৭শত একর সম্পত্তির পানি নামার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পানিবন্দির আতঙ্কে আছে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।
অভিযোগ পেয়ে দক্ষিণ দেইচর গেলে দেখা যায়, স্থানীয় আজাদের দোকানের পাশ দিয়ে পশ্চিম দিকের খালটি অতি পুরনো একটি সরকারি খাল। এই খালের উপরই বালু দিয়ে ভরাট করে বাড়ির পথ নির্মাণ করছে। আর রাস্তাটি নির্মাণ করছেন ফাজিল খান বাড়ির মো. হারুন খান। তার আলিশান বিল্ডিংয়ে সংক্ষেপে যাওয়ার জন্যে তিনি এই পথ নির্মাণ করছেন।
এ সময় উৎসুক জনতার অনেকে এবং এলাকার সাইফুল আলম, খোরশেদ আলম, জসিম উদ্দিন, সাইফুল, ফারুক, বাবুল, মোবারক ও আকবরসহ এলাকার অনেকে বলেন, এটা একটা সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘদিনের পুরনো খাল। এই খাল দিয়ে এক সময় বড় বড় নৌকা চলাচল করতো। এই অঞ্চলের মানিকরাজ গ্রাম ও দক্ষিণ দেইচরের ৩০ থেকে ৪০টি বাড়ির পানি এবং এই এলাকার ৬/৭ শত একর সম্পত্তির বৃষ্টির পানি নামার একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু অভিযুক্ত হারুন এ খালের উপর রাস্তা নির্মাণ করে তার আলিশান বিল্ডিংয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করছে। যার কারণে আমাদের এই এলাকার হাজার হাজার মানুষকে পানিবন্দির আতঙ্কে ঠেলে দিচ্ছে। শত শত একরের মধ্যে বিভিন্ন ফসলাদি ও মাছ চাষীদের মধ্যে একটা হাহাকার তৈরি করে দিচ্ছে। তারা আরও বলেন, ইতঃপূর্বে এই খালের উপর বিশাল বাথরুমের ট্যাংকি তৈরি করে খালের অর্ধেক অংশ ভরাট করে ফেলেছে। এখন আবার বাকি অর্ধেক পথ নির্মাণ করতে গিয়ে ভরাট করে ফেলছে। এ বিষয়ে তারা বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি করতে গেলে এলাকার মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেয়। হারুন অন্য এলাকা থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী এনে এই এলাকার মানুষকে হয়রানি করে বলে তারা জানান।এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার এমরান হোসেন সরদার বলেন, ইতঃপূর্বে আমি তাদের বারণ করেছি। এখন আবার তারা পুরো খাল বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করছে। তার জন্য এলাকাবাসীর অনুরোধে আমি তাদের আজ আবার বারণ করতে এসেছি। কিন্তু তারা আমার কথাকে কোনো কর্ণপাত করে না। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্তরা নাকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করছে।
অন্যদিকে খাল ভরাটকারী হারুনকে না পেয়ে তার স্ত্রী পারুল বেগমের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের সাথে বুঝবেন। তারা নাকি প্রশাসনের সাথে সমঝোতা করেই খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করছেন বলে তিনি জানান।খালটি দ্রুত অবৈধ দখলকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার না করলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। তাই প্রশাসনের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। আসলে আমি ব্যবস্থা নেবো। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাবেন বলে তিনি জানান।








