বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪

মতলব উত্তরে নৌপুলিশের অবস্থা কি ‘বেড়ায় ক্ষেত খায়’-এর মতো?

অনলাইন ডেস্ক
মতলব উত্তরে নৌপুলিশের অবস্থা কি ‘বেড়ায় ক্ষেত খায়’-এর মতো?

মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিবছরই সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। উদ্দেশ্য একটাই—ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এবং দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা। কিন্তু মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মা ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বেচাকেনার যে চিত্র উঠে এসেছে, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তৎপরতা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অভিযান চলছে, জাল ও নৌকা জব্দ হচ্ছে, মামলা হচ্ছে, জেল-জরিমানাও দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপের কথা জানানো হলেও বাস্তব চিত্র বলছে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মোহনপুরের কুমারখোলা, নয়াকান্দি বটতলা ও একলাশপুর লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ইলিশের হাট ও আড়ত বসছে। দুর্গম চরাঞ্চলেও অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো, এত অভিযান ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরও যদি অবৈধ মাছ শিকার ও বেচাকেনা নির্বিঘ্নে চলতে থাকে, তবে এসব অভিযানের কার্যকারিতা কতটুকু?

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, স্থানীয় জেলেদের একাংশের অভিযোগ, নৌপুলিশের সঙ্গে কথিত সমঝোতা বা রফাদফার মাধ্যমে কেউ কেউ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকার করছেন। এ অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, যাদের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা, তাদের কারও বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে আপসের অভিযোগ উঠলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন উঠতেই পারে—দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান পরিচালনায় নৌযানের সংকটসহ বাস্তব সমস্যা রয়েছে, নাকি কোথাও দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য কিংবা অনৈতিক আপসের সুযোগ তৈরি হয়েছে? সমস্যার কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও সমীচীন নয়। প্রয়োজন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি এবং দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ।

মা ইলিশ রক্ষার অভিযান কেবল নদীতে জাল জব্দ বা জেলেদের আটক করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। অবৈধ মাছের উৎস, পরিবহন, আড়ত ও বিক্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করে সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে। একই সঙ্গে অভিযান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় দ্রুতগতির নৌযান নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশাসনের অভিযান আর বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে যদি এমন ব্যবধান থাকে, তাহলে জনমনে ‘বেড়ায় ক্ষেত খায়’—এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তবে এ প্রশ্নের জবাব মিলবে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই।

মা ইলিশ রক্ষা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়; এটি জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের অঙ্গীকার। তাই নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার আগেই মতলব উত্তরের মেঘনা নদী ও চরাঞ্চলে অবৈধ ইলিশ শিকার এবং বেচাকেনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় প্রতিবছরের অভিযান কাগজে-কলমে সফল হলেও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়