প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯
এমন কম্পিউটার কোর্স বিরলদৃষ্ট

গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠের শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায়, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের সিইডিপি-আইডিজি কম্পিউটার ল্যাবে তিন মাসব্যাপী কম্পিউটার কোর্সের ৬ষ্ঠ ও ৭ম ব্যাচের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোর্স সমন্বয়ক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাসুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইকবালুর রহমান, পদার্থবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর জীবন কানাই সাহা, শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম প্রমুখ। মোট ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে এ সনদ বিতরণ করা হয়। অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাসুদুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার না জানলে তাকে সম্পূর্ণ শিক্ষিত বলা যায় না। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তোমাদের অর্জিত জ্ঞান কর্মজীবন কাজে লাগবে এবং তোমাদের মাধ্যমে অত্র কলেজের সুনাম দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুহাম্মদ কাইয়ুম ইসলাম ও ফাতেমা আক্তার।
আমরা সাধারণত যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্যে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বেরকারি/সরকারিভাবে গড়ে ওঠা কোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে দেখি। এতে বাড়তি ব্যয়ও মিটাতে হয়। আর চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে নিরাপদ পরিবেশে তিন মাস মেয়াদী কোর্সে কম্পিউটার শিখতে পারছে, সনদ পাচ্ছে। এমনটি আমাদের মতে বিরলদৃষ্ট। হয়তো অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে, যেটা গণমাধ্যমে আসে নি, যেমনটি চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজেরটি এসেছে। আমাদের বিশ্বাস, খুবই কম খরচে বা ফিতে এ কম্পিউটার কোর্স সম্পন্ন হচ্ছে। এজন্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই আমরা ধন্যবাদ জানাই। আমরা মনে করি, এজন্যে এ কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিশেষ মূল্যায়ন পেতে পারে।
আমাদের হাইস্কুল-কলেজ বা সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত কিশোর-তরুণ বয়সের মেয়ে শিক্ষার্থীরা নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে যেখানেই সহপাক্রমিক যা কিছুই শিখতে যায়, সেখানে নিরাপদ পরিবেশ পুরোপুরি পায় না। কোনো না কোনো ঘাটতি থেকেই থাকে। যাতায়াতকালে ও প্রশিক্ষণস্থলে উত্ত্যক্তও হয়ে থাকে। এমন বাস্তবতায় চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজস্ব আঙ্গিনায় অত্যাবশ্যকীয় কম্পিউটার শিখছে সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে আপনত্বের অনুভবে-এটা কম কিসে। এটা যদি গতানুগতিক কিছু হয়েও থাকে, তারপরও কম্পিউটার ল্যাব সমৃদ্ধ সরকারি-বেসরকারি যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যে অনুসরণীয় একটি বিষয়। চলমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার না জানলে কাউকে সম্পূর্ণ শিক্ষিত বলা যায় না বলে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাসুদুর রহমানের যে অভিমত, সেটা পুরোপুরি ঠিক। একসময় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যেই কম্পিউটার জানার আবশ্যকতা বলাবলি হতো, এখন মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা, যেটাই বলি না কেনো, কম্পিউটার না জানা সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীরও কি কোথাও কোনো দাম আছে? কম্পিউটার না জানলে এমন ডিগ্রিধারীকে নিরক্ষরের (!) সমতুল্য বলেই শ্লেষ করা হয়।






