সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮

এমন মানবিকতা দৃষ্টান্তমূলক

অনলাইন ডেস্ক
এমন মানবিকতা দৃষ্টান্তমূলক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মানবিকতার এক উজ্জ্বল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘এম ইসলামিক ইনস্টিটিউট গাজী কমপ্লেক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা কারী মোরসালিন। চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কেতুয়া গ্রামের মরহুম নাসির উদ্দিন সাগরের এতিম সন্তানদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি নাসির উদ্দিন সাগরের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে তার শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ খবর জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও রায়পুরের গাজী কমপ্লেক্সে অবস্থিত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘এম ইসলামিক ইনস্টিটিউট’-এর প্রতিষ্ঠাতা কারী মোরসালিন। তিনি সাগরের পুত্র সন্তান রাসেল মাহমুদ (নাবিল)-এর ভরণপোষণ, বাসস্থান ও গুণগত শিক্ষার সমস্ত ব্যয়ভার আজীবন বহন করার ঘোষণা দেন এবং তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে কারী মোরসালিন বলেন, “ইসলাম আমাদের এতিমদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। নাসির উদ্দিন সাগরের অকাল প্রয়াণে তার পরিবার আজ অভিভাবকহীন। সমাজের সচ্ছল মানুষের দায়িত্ব এসব এতিম শিশুর পাশে দাঁড়ানো। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি মাত্র। শিশুটি যেন সুন্দর পরিবেশে বড়ো হয়ে দেশের একজন সুনাগরিক এবং আদর্শ মানুষ হতে পারে, সেজন্যে আমি সবার দোয়া কামনা করছি।” কারী মোরসালিনের এই মহানুভবতা ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। অনেকেই বলছেন, বর্তমান সমাজে যখন মানুষ নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, তখন একজন এতিম সন্তানের পাশে এভাবে দাঁড়িয়ে কারী মোরসালিন যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং সমাজের অন্যান্য বিত্তবানদের জন্যে অনুকরণীয়।

মানুষ মানুষের জন্যে-এ কথাটি আবারো তুলে ধরলেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের কারী মোরসালিন। তিনি নাছির উদ্দিন সাগরের এতিম শিশুর লেখাপড়া ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে আপাতত দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। সময়ান্তরে কারী মোরসালিনের কারণে এতিম নাবিল যদি সুশিক্ষিত হয়ে কর্মজীবী হতে পারে, তাহলে এ মানবিকতা উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আমরা কারী মোরসালিনের সামর্থ্য ও শিশু নাবিলের সাফল্যের জন্যে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানাই।

কোন্ পিতার আকস্মিক মৃত্যুর জন্যে তার সন্তান বা পোষ্য যে কখন এতিম হয়ে যায়-সেটা মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউই বলতে পারে না। সেজন্যে তাঁর দরবারে প্রার্থনা জানাই, তিনি যেনো দুর্ঘটনাজনিত আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা অনেক কমিয়ে দেন। একটি অকাল মৃত্যু কারো কারো জন্যে সারা জীবনের কান্নায় পরিণত হয়। এ কান্নায় অনেক সমব্যথী শোকাহতদের নিতান্তই মৌখিক সান্ত্বনা দিতে পারে, তবে তাদের মধ্যে খুবই নগণ্যসংখ্যক কার্যকরভাবে পাশে দাঁড়াতে পারে। এঁদেরই একজন লক্ষ্মীপুরের কারী মোরসালিন। আমরা তাঁর অসামান্য মানবিকতার জন্যে তাঁকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই এবং পরম করুণাময়ের কাছে সুস্থতার সাথে তাঁর দীর্ঘ নেক হায়াত প্রত্যাশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়