প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১৯
ডাকাতিয়া নদী ভরাট করে ঘাট নির্মাণ, ট্রলার-মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
৭ দিনের মধ্যে রাবিশ অপসারণের নির্দেশ।। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ প্রশাসনের

চাঁদপুর শহরের ১০ নম্বর চৌধুরীঘাট এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর অংশে রাবিশ ফেলে ভরাট করে পণ্য ওঠানামার ঘাট নির্মাণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভরাট করা অংশ থেকে সাত দিনের মধ্যে সব রাবিশ অপসারণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
|আরো খবর
রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চাঁদপুর শহরের ১০ নম্বর চৌধুরীঘাট, কসাইখানা সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ) ধারা লঙ্ঘন করে ডাকাতিয়া নদীর একটি অংশে রাবিশ ফেলে ভরাট করা হয়। পরে ওই ভরাট করা জায়গা পণ্য ওঠানামার ঘাট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর সেখানে অভিযান চালায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।
এ সময় নদীর অংশ ভরাট করে ঘাট তৈরির ঘটনায় কাজী মোবারক করীম মেহেদী নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করেন। পাশাপাশি ভরাটকৃত অংশ খনন করে নদীতে ফেলা রাবিশ অপসারণ এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, চাঁদপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা। মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “পরিবেশ ও নদ-নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী দখল, ভরাট কিংবা পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
নদী রক্ষায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন
ডাকাতিয়া নদী চাঁদপুরের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর একটি। জেলার নৌ যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, পানি নিষ্কাশন এবং স্থানীয় পরিবেশ-প্রতিবেশের সঙ্গে এ নদীর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নদীর প্রবহমান অংশে রাবিশ, মাটি বা নির্মাণসামগ্রী ফেলে ভরাট করা হলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীর নাব্যতা ও জলজ জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তীর ও প্রবহমান অংশ দখল বা ভরাটের প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা কমে গেলে নৌযান চলাচল ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই শুধু জরিমানা নয়, ভরাট করা অংশ দ্রুত উদ্ধার, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় নদী ভরাট বা দখল না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুরের নদ-নদী ও জলাশয় রক্ষায় প্রশাসনের এমন অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, ডাকাতিয়া নদীসহ জেলার অন্যান্য নদী ও খাল দখল-দূষণমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








