সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩১

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কারণে মডেল মসজিদটির এমন অবস্থা?

অনলাইন ডেস্ক
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কারণে মডেল মসজিদটির এমন অবস্থা?

চাঁদপুর সদর মডেল মসজিদ-নামেই যার মধ্যে আধুনিকতা, সৌন্দর্য ও আদর্শ ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা জড়িয়ে আছে। ২০২৩ সালে উদ্বোধনের পর স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় মানুষের আশা ছিলো, এটি শুধু দৃষ্টিনন্দন একটি ধর্মীয় স্থাপনা হবে না; বরং হবে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সেবার একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পর যে চিত্র সামনে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।

কয়েক মাস ধরে মাইক নষ্ট। ফলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান আশপাশের মানুষের কানে পৌঁছাচ্ছে না। বিশাল মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রবেশপথে হাঁটুসমান ঘাস, সিঁড়ির পাশে বটগাছের চারা, জমে থাকা বালু ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ-এসব কোনোভাবেই একটি ‘মডেল’ মসজিদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ওপর সিসি ক্যামেরা চালু নেই, জনবলও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কোথাও যন্ত্রপাতি বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ, কোথাও মেরামতের জন্যে অনুমোদনের অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের স্থবিরতার চিত্রই ফুটে উঠছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, মসজিদের একটি সাধারণ মাইক মেরামত করতেও যদি কয়েক মাস লেগে যায়, তাহলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক-এটি কি ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, নাকি সরকারি দপ্তরের দীর্ঘসূত্রতার শিকার? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে মাইক মেরামত, বিভিন্ন সরঞ্জাম বুঝিয়ে না দেওয়া এবং সিসি ক্যামেরা হস্তান্তর না হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। অন্যদিকে মসজিদ কর্তৃপক্ষও বলছে, তাদের আলাদা বাজেট নেই। অর্থাৎ দায়িত্বের জায়গাগুলো যেন একে অন্যের দিকে তাকিয়ে আছে।

এখানেই মূল প্রশ্ন-একটি সরকারি প্রকল্প নির্মাণ ও উদ্বোধন করেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের পর সেটি সচল, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও জনবান্ধব রাখার জন্যে প্রয়োজনীয় জনবল, রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট, যন্ত্রপাতি এবং দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন নিশ্চিত করা হয়নি কেন?

চাঁদপুর সদর মডেল মসজিদের ক্ষেত্রে গণপূর্ত বিভাগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত দূর করা জরুরি। কে কোন সম্পদ বুঝিয়ে দেবে, কে রক্ষণাবেক্ষণ করবে, নষ্ট হলে কোন দপ্তর ব্যবস্থা নেবে-এসব বিষয়ে যদি স্পষ্টতা না থাকে, তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাও ধীরে ধীরে অব্যবস্থাপনার শিকার হবে।

জনবল সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। এত বড় একটি কমপ্লেক্সে একজন খাদেম দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য কাজ সামলানো বাস্তবসম্মত নয়। তার ওপর সংশ্লিষ্ট খাদেম নিজেও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তাকর্মীর ঘাটতি এবং চুরি যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব সমস্যাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

মডেল মসজিদ কোনো সাধারণ সরকারি ভবন নয়। এটি ধর্মীয় উপাসনালয়, একই সঙ্গে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতীক। তাই এখানে সরকারি দপ্তরের চিরাচরিত ‘ফাইল চলছে’ সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি মাইক মেরামতের জন্যে যদি মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে সেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে জনবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তাই প্রমাণিত হয়।

আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরস্পরের ওপর দায় চাপানোর পরিবর্তে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেবে। মাইক সচল করা, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, সিসি ক্যামেরা চালু, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের সব মডেল মসজিদের জন্যে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো তৈরি করা জরুরি। কেননা মডেল মসজিদ শুধু স্থাপত্যের সৌন্দর্যে মডেল হয় না; ব্যবস্থাপনা, সেবা ও পরিবেশেও তাকে মডেল হতে হয়। চাঁদপুর সদর মডেল মসজিদের বর্তমান অবস্থা তাই সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের জন্যে একটি সতর্কবার্তা। এখন প্রয়োজন দায় এড়ানোর নয়-দায়িত্ব নেওয়ার।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়