সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়

ঈদে মিলাদুন্নবী ও জন্মবার্ষিকী পালন

অনলাইন ডেস্ক
ঈদে মিলাদুন্নবী ও জন্মবার্ষিকী পালন

হযরত আব্বাস (রা.) নূর নবী (দ.)-এঁর জন্ম প্রসঙ্গে ৯ম হিজরিতে একটি কবিতায় বলেছেন : অর্থ ‘হে প্রিয় রাসূল, আপনি যখন ভূমিষ্ট হন, তখন পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল এবং আপনার নূরের ছটায় চতুর্দিক আলোময় হয়ে গিয়েছিল।’ (নশরুত ত্বীব, মাওয়াহিব, বেদায়া ও নেহায়া)

বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হাসসান বিন সাবিত (র.) মীলাদুন্নবী (দ.) বর্ণনা প্রসঙ্গে একখানি কবিতাগ্রন্থ লিখেছিলেন এবং হুযুর নবী করিম (দ.)-কে শুনিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যার নাম রাখা হয়েছিল ‘দিওয়ানে হাসসান বিন সাবিত’। তিনি লিখেন, অর্থÑ ‘হে প্রিয় রাসূল (দ.), আপনি সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটিমুক্ত হয়েই মাসুম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন। মনে হয়, যেন আপনার ইচ্ছা অনুযায়ীই আপনার বর্তমান সুরত পয়দা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ আযানের মধ্যে আপন নামের সাথে আপনার নাম সংযোজন করেছেন, যখন মুয়াযযিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আযানে উচ্চারণ করেন, ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলাল্লাহ’ [দ.]। আর আল্লাহ আপন নামের অংশ দিয়ে তাঁর প্রিয় হাবীবের নাম রেখেছেন। আরশের অধিপতি হলেন ‘মাহমুদ’ এবং ইনি হলেন ‘মুহাম্মদ (দ.)।’

মাহমুদ থেকে মুহাম্মদ নামের সৃষ্টি হয়েছে এবং আহাদ থেকে আহমদ নামের সৃষ্টি হয়েছে (আল হাদীস)। মাহমুদ থেকে মুহাম্মদ গঠনে একটি ‘ওয়াও’ অক্ষর বাদ দিতে হয় এবং আহাদ থেকে আহমদ গঠনে একটি ‘মীম’ অক্ষর যোগ করতে হয়। যোগ বিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি সুফী-সাধকগণের নিকট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থাৎ মাহমুদ ও মুহাম্মদ এবং আহাদ ও আহমদ অতি ঘনিষ্ঠ। আল্লাহর নামটি চার অক্ষরবিশিষ্ট এবং মুহাম্মদ ও আহমদ নামটিও চার অক্ষরবিশিষ্ট। প্রধান ফেরেশতা, প্রধান আসমানী কিতাব, প্রধান সাহাবী, প্রধান মাযহাব ও প্রধান তরীকার সংখ্যা চার চার এবং সৃষ্টির প্রধান উপাদানও চারটি। যথাÑ আব, আতিশ, খাক, বাদ (আগুন, পানি, মাটি, বায়ু)। কালেমা তাইয়েবার তাওহীদ অংশ বারো অক্ষরবিশিষ্ট এবং রিসালাত অংশও বারো অক্ষরবিশিষ্ট। নবী করীম (দ.)-এঁর নামকরণ এবং কালেমাতে আল্লাহর সাথে মুহাম্মদ নাম সংযোজন, সবই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। এতে মানুষের কোনো হাত নেই। সুতরাং এই পরিকল্পনার তাৎপর্য পূর্ণভাবে উপলব্ধি করাও মানুষের সাধ্যাতীত ব্যাপার।

এখানে উপরোল্লিখিত হযরত আব্বাস ও হযরত হাসসান (রা.) সাহাবীদ্বয়ের কাব্য রচনার ঘটনাটি ঈদে মীলাদুন্নবী [দ.] উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন ও স্মরণিকা প্রকাশের একটি উত্তম দলীল ও প্রকৃষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তায়ালা কোরআন মাজীদে সূরা ইউনুসের ৫৮নং আয়াতে মীলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে প্রতি বৎসর ঈদ ও পবিত্র আনন্দানুষ্ঠান পালনের কথা উল্লেখ করেছেন। সূরা বাক্বারাতে মূসা (আ.) ও বনী ঈসরাইলগণের নীলনদ পার হওয়া এবং প্রতি বৎসর এ উপলক্ষ্যে আশুরার রোযা ও ঈদ পালন করা এবং সূরা মায়েদায় ঈসা (আ.) ও বনী ঈসরাইলের হাওয়ারীগণের জন্য আকাশ থেকে আল্লাহ কর্তৃক যিয়াফত হিসেবে মায়েদা অবতীর্ণ হওয়া উপলক্ষ্যে প্রতি বৎসর ঐ দিনকে ঈদের দিন হিসেবে পালন করার কথা কোরআনে উল্লেখ আছে (সূরা মায়িদা ১১৪)।

বনী ঈসরাইলের উপর আল্লাহর রহমত নাযিলের স্মরণে যদি প্রতি বৎসর ঐ দিনে ঈদ পালন করা যায়, তাহলে আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত রাহমাতুল্লিল ‘আলামীন [দ.]-এঁর আগমন দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বৎসর ঈদে মীলাদুন্নবী (দ.) পালন করা যাবে না কেন? হুযুর করীম [দ.]-কে এক সাহাবী জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ (দ.)! প্রতি সোমবার আপনার রোযা রাখার কারণ কী?” হুযুর (দ.) বললেন, ”এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই (সোমবার, ২৭ রমযান) আমার উপর কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।” [সহীহ মুসলিম ২৬১৩-২৬১৬ বাঃ ইঃ ফাঃ, ২৬০৩-২৬০৬ ইংরেজী মুসলিম শরীফ]

উক্ত প্রমাণাদিই ঈদে মীলাদুন্নবী [দ.] পালনের স্বপক্ষে জোরালো দলীল।

উল্লেখ্য, মু’মিনের ঈদ মাত্র দু’টি নয়, ঈদ মোট ৯টি। যথাÑ (১) ঈদে রামাদ্বান, (২) ঈদে কোরবান, (৩) ঈদে আরাফা, (৪) ঈদে জুমআ, (৫) ঈদে শবে বারাআত, (৬) ঈদে শবে ক্বাদর, (৭) ঈদে আশুরা, (৮) ঈদে নুযুলে মায়েদা এবং (৯) ঈদে মীলাদুন্নবী। সবগুলোই কোরআনে, হাদীসে ও বিভিন্ন গ্রšে’ উল্লেখ আছে। (চলবে)

সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়