বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৪

নবনির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ আজ

অনলাইন ডেস্ক
নবনির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ আজ

দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। এদিন সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সভায় সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। একই দিনে বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথগ্রহণ করবেন। সাধারণত বঙ্গভবনে এই শপথ অনুষ্ঠান হলেও এবার প্রথা ভেঙ্গে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত মঞ্চে এই আয়োজন করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির ইচ্ছাতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ ভবন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ত্যাগ ও স্মৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানেই ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠের মতো ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এই দক্ষিণ প্লাজাতেই সম্পন্ন হয়েছিলো। এসব আবেগ ও স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের জন্যে এই স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ইতোমধ্যে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এস এম নাসির উদ্দীন নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন। বর্তমান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী সিইসি এই দায়িত্ব পালন করবেন। শপথের পর সংসদ সদস্যরা খাতায় স্বাক্ষর করবেন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন।

শপথ গ্রহণের পর দুপুর ১২টায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং তিনি তাঁর মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। বিকেল ৪টায় উৎসবমুখর পরিবেশে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিএনপি জোট ২১২টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ৭৭টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকছে জামায়াতে ইসলামী জোট। অন্যদিকে, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি ৮টি আসনে জয়ী হয়েছেন।

নতুন সরকারের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিলুপ্তি ঘটবে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় সমন্বিতভাবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন করছে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। নতুন সরকারে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে নেয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিস্পোজাল ও কেনাইনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট।

শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় এরই মধ্যে দক্ষিণ প্লাজাজুড়ে সুইপিং করেছে বোম্ব ডিস্পোসাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা পোশাকে অবস্থান করছেন গোয়েন্দারা। সংসদের প্রবেশপথ ও ভেতরে মিলিয়ে নেয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা। এছাড়াও স্ট্যান্ডবাই থাকবে বিশেষায়িত সব ইউনিট।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বাসা থেকে সংসদের দক্ষিণ প্লাজার উদ্দেশে রওনা দেয়ার সময় থেকেই দেয়া হবে নিরাপত্তা। প্রটোকলের জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অর্ধশত গাড়ি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আনা-নেয়া থেকে শুরু করে রুটকেন্দ্রিক এবং সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’

শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় থাকবেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। কোনো শঙ্কা না থাকলেও নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। -দেশ রূপান্তর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়