বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৬

চোখ ধাঁধানো অবিশ্বাস্য আয়োজনে

এসপিএলের তৃতীয় আসরের সফল সমাপ্তি

মো. মঈনুল ইসলাম কাজল
এসপিএলের তৃতীয় আসরের সফল সমাপ্তি

নান্দনিক কারুকাজ, গ্যালারি, প্যাভিলিয়ন, সরাসরি সম্প্রচার, জাতীয় পর্যায়ের অতিথিদের আগমন, সাজসজ্জা সহ কোনে কিছুতেই কমতি ছিলো না শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ (এস পিএল)-এর আসরে। কোনটা উদ্বোধনী ম্যাচ অথবা ফাইনাল সেই হিসেব করাটাই ছিলো কঠিন। প্রতিটি খেলায় পুরস্কার বিতরণ ও নানান পেশায় আলোকিত মানুষদের সম্মানিত করা ছিলো উল্লেখযোগ্য অংশ। মিডিয়া পার্টনার, কমেন্ট বক্স , আতশবাজির ঝলকানি সহ কী ছিলো না এসপিএলে! বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুলের আগমন, পেস বোলার সাইফুদ্দিন, গানের যুবরাজ ও বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর, কমেডিয়ান হারুন কিসিঞ্জার ছাড়াও সরকারের সচিব, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে আলোকিত করেছেন শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ (এসপিএল)-এর তিনটি আসর। এসপিএলকে উজ্জীবিত করতে এগিয়ে আসেন বেশ ক’টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। দুঃসাহসিক এ আয়োজনের প্রতিটি আসরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার চাপ মাথায় নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষের। এ বর্ণিল আয়োজনের একমাত্র কারিগর ক্রিকেট পাগল ক্রীড়া সংগঠক সাদ্দাম হোসেন মিঠু।

ক্রিকেটকে ভালোবেসে শূন্য হাতে যাত্রা শুরু হয় তাঁর। প্রথম আসরের মাঝ পথে এসে ভেঙ্গে পড়েন মিঠু। চোখের জলে বুক ভাসায়ে আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সফলভাবে সম্পন্ন করেন প্রথম আসর। অতীতের কষ্ট ভুলে আবারো ঝাঁপিয়ে পড়েন সিজন-২ মিশনে। আসরটি শুরু হওয়ার পর মাঝ পথে এসে শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশানুরূপ সহযোগিতা না পেয়ে সিদ্ধান্ত নেন আর কখনো এমন আয়োজন করবেন না। মানসিকভাবে দিশেহারা হয়ে এ স্বপ্ন দেখায় ইতি টানতে মনস্থির করে ফেলেন ক্রীড়া প্রেমিক সাদ্দাম হোসেন। বছর না যেতেই তার আর ঘরে বসে থাকা হয়নি। আবারো নেমে পড়েন সিজন-৩ মিশনে। শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে টেপ টেনিস ক্রিকেটের ইতিহাসে সারাদেশ থেকে ৩২টি দল নিয়ে শুরু হয় শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ (এসপিএল) সিজন-৩। এসপিএল দেখতে এসে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল মন্তব্য করেন, সাদ্দাম হোসেন মিঠুর একটা নয়, পুরো দেড়টা সমান কলিজা। জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আসিফ আকবর বলেছেন, সাদ্দাম হোসেন মিঠুর মতো ক্রীড়া সংগঠক সারাদেশে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

এদিকে সাদ্দাম হোসেন মিঠুর এসপিএল শুধু শাহরাস্তি ও চাঁদপুরে নয়, পুরো সারাদেশে সাড়া জাগিয়েছে। ইতোমধ্যেই শাহরাস্তিতে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই জায়গা নির্ধারণের জন্যে পরিদর্শন করতে আসবেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাদ্দাম হোসেন মিঠু।

মিঠু জানান, আরো বড় পরিসরে সিজন-৪ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গেলো আসরে পাকিস্তানের খোলোয়াড় দেখা গেলেও আগামী আসরে ভারতের খেলোয়াড় দেখা যাবে। মিঠু জানান, বর্তমান আসরে ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখনো প্রায় ১৭ লাখ টাকা দেনা রয়েছেন। গত ২৬ জানুয়ারি সিজন-৩-এর ফাইনালে ভিক্টোরি সুপার হিরোজ ও জিমজন ঢাকা-এর মধ্যকার খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভিক্টোরি সুপার হিরোজ চ্যাম্পিয়ন হয়।

দেনার দায়ে ডুবে থাকা সাদ্দাম হাল ছাড়তে রাজি নন। ক্রিকেটকে সর্বোচ্চ জায়গায় নিয়ে যেতে তাঁর চেষ্টা কখনো থেমে যাওয়ার নয়। তাঁর দেহ ও মন আবর্তিত হচ্ছে শুধুই ক্রিকেটকে ঘিরে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়