প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০
হাজীগঞ্জে ৫ কিলোমিটার সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’, সংস্কারের দাবি
কাজিরগাঁও থেকে সুহিলপুর পর্যন্ত পুরো সড়ক জুড়ে গর্ত, বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা

হাজীগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন ও ব্যস্ততম সড়ক হাজীগঞ্জ আরএইচডি-রঘুনাথপুর জিসি। দীর্ঘ কয়েক বছর সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির হাজীগঞ্জ বিশ্বরোড থেকে সুহিলপুর বাজারের উত্তর অংশ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বড়ো বড়ো গর্ত ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের মরণফাঁদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
|আরো খবর
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ-রঘুনাথপুর সড়কের (রোড কোড-৪১৩৪৯২০০৩) রেললাইনের উত্তর অংশের কাজিরগাঁও থেকে সুহিলপুর বাজার পর্যন্ত পুরো সড়ক জুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। পিচ ঢালাই ও ইটের খোয়া উঠে যাওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী। নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত ৩০ জুন রাতে বাড্ডা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত ও চারজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা এই বেহাল দশার ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত চলাচলকারীরা জানান, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজীগঞ্জ ও কচুয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। এর পাশেই রয়েছে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা ও দুটি হাইস্কুল। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচুরা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
সিএনজি অটোরিকশা চালক আবুল কাশেম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সড়ক নয়, যেন মরণফাঁদ। দেশের এতো উন্নয়ন হলেও আমাদের এই সড়কের খবর কেউ নেয় না। প্রতিদিন যানবাহন উল্টে সাধারণ মানুষ আহত হচ্ছেন, কিন্তু প্রতিকার নেই।’
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ছোটখাটো খানাখন্দ তৈরির সময়ই যদি সড়কটি সংস্কার করা হতো, তবে আজ এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের গাফিলতির কারণেই জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করে সড়কটিকে পুরোপুরি নষ্ট হতে দেওয়া হয়, যাতে বড়ো বাজেটের নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা যায়। এটি সরকারি টাকা আত্মসাৎের একটি অপকৌশল হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)র হাজীগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম জানান, সড়কটির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা মেন্টেনেন্সের চাহিদা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি, আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, টালবাহানা বন্ধ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। অন্যথায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটলে এর দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারবে না। সূত্র : অগ্রযাত্রা প্রতিদিন।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








