প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৯
প্রকাশিত সংবাদকে অসত্য দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ

সম্প্রতি চাঁদপুর কণ্ঠসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চাঁদপুরের বাখরপুরে প্রবাসী পরিবারের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসত্য এবং আমাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টামাত্র। মূল সত্য গোপন করে এবং আমাদের (বিবাদী পক্ষ) কোনো বক্তব্য না নিয়ে প্রকাশিত এই একপেশে সংবাদের আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
প্রকৃত সত্য ও আইনগত ব্যাখ্যা হলো :
ক্রয়সূত্র ও দখল (১৯৮১ সাল) : আমাদের মরহুম পিতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ জিতু মিয়া ১৯৮১ সালে মূল মালিক মোসাম্মৎ আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে আইনসম্মতভাবে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। যার দাগ খতিয়ান হচ্ছে--বি.এস. ১০৬৯, রেজিস্ট্রিকৃত ২৪৯৮ নম্বর ছাপ কবালা দলিলমূলে সি.এস. ৩২০ এবং ৩২১ দাগ বি.এস. ১০৬৯ দাগে ০৬ শতক ভূমি। রেজিস্ট্রির দিনেই নির্দিষ্ট চৌহদ্দিসহ বিক্রেতা আনোয়ারা বেগম ক্রেতা জিতু মিয়া কবিরাজকে দখল বুঝিয়ে দেন। ১৯৮১ সাল থেকেই (দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে) এই ৬ শতাংশ জমি আমাদের পিতা ও আমাদের পরিবারের নিরঙ্কুশ দখলে রয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
বাদী মোক্তার কবিরাজের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি : মামলার বাদী মোক্তার কবিরাজ আমাদের পিতা জমি কেনার দীর্ঘ ৩২ বছর পর (২০১২ সালে) একই দাগ/খতিয়ানের অন্য অংশ থেকে জমি ক্রয় করেন। নিজের কেনা জমি চিহ্নিত বা দখল না করতে পেরে দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে দখলে থাকা আমাদের বৈধ জমির ওপর তিনি লোলুপ দৃষ্টি দেন এবং মিথ্যা অভিযোগ আনছেন।
আদালতের রায় ও আইনি সত্যতা : বাদী এর আগেও একই বিষয়ে তিন (৩) বার মামলা দায়ের করেছিলেন এবং প্রতিবারই বিজ্ঞ আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও দলিল পর্যালোচনা করে আমাদের (বিবাদী) পক্ষে রায় প্রদান করেছেন।
বারবার মামলায় হেরে গিয়ে একই বিষয়ে বাদী জজকোর্টে আপিল করে এবং বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আদালত যেখানে ৩বার আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেখানে ‘অবৈধ দখল’-এর অভিযোগ তোলা আদালত অবমাননার সামিল।
সম্মানহানির অপচেষ্টা ও প্রবাসীদের জড়িয়ে মিথ্যাচার :
সংবাদে দাবি করা হয়েছে, প্রবাসী পরিবারের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই প্রবাসে থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা ‘রেমিটেন্স যোদ্ধা’ এবং মাত্র একজন ভাই দেশে থেকে পারিবারিক ব্যবসা ও সম্পত্তি দেখাশোনা করছেন। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে বাদীপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘প্রবাসী’ কার্ড খেলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
মনগড়া বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রলেপ : আমাদের মরহুম পিতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ জিতু মিয়া এলাকার একজন অত্যন্ত সৎ, ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। মৃত্যুর আগে জায়গা ফেরত দেয়ার যে কথা সংবাদে বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও কাল্পনিক। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বলে একটি সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সকলের প্রতি আমাদের বিনীত নিবেদন : বিষয়টি যেহেতু বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন এবং পূর্বেও আদালত ৩ (তিন) বার আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তাই বিচারাধীন বিষয় নিয়ে পত্রিকায় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একপেশে তথ্য প্রকাশ করে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও বেআইনি।
আমরা সকল সংবাদমাধ্যম ও সর্বসাধারণকে এই বিভ্রান্তিকর সংবাদে কান না দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালগুলোকে এই প্রতিবাদলিপিটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশের অনুরোধ করছি।
প্রতিবাদকারী : মো. ইব্রাহিম খলিল, পিতা-মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ জিতু মিয়া, গ্রাম : বাখরপুর (বাংলাবাজার সংলগ্ন), ইউনিয়ন-চান্দ্রা, উপজেলা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর। জিডি নং ৪১০/২৬।








