প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭
আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আশিকাটি ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউসুফ মিন্টু মিয়াজী

“আসুন পরিবর্তনের প্রত্যয় নিয়ে একসঙ্গে পথচলি, আপনার ভোটের মাধ্যমেই শুরু হোক আগামীর আশিকাটির পরিবর্তন”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এমএ ইউসুফ মিন্টু মিয়াজী। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
|আরো খবর
নির্বাচিত হলে আশিকাটি ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও কল্যাণমুখী জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান ইউসুফ মিন্টু মিয়াজী। তাঁর অগ্রাধিকার তালিকার মধ্যে রয়েছে— ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংমুক্ত করা, দখলদারিত্ব প্রতিরোধ করা, শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা এবং নারীদের কুটিরশিল্পের সাথে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
পারিবারিকভাবেই বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ইউসুফ মিন্টু মিয়াজী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে আসেন। তাঁর প্রয়াত পিতা হাজী আব্দুল গফুর মিয়াজীও জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীদের নানাভাবে সহযোগিতা করে গেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক এবং চাঁদপুর জেলা যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে ইউসুফ মিন্টু মিয়াজী বলেন, “আমি যখন চাঁদপুর শহরের আল-আমিন একাডেমিতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, তখন ৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলাম; যেখানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন চাঁদপুর সরকারি কলেজের ছাত্র রাজু।”
তিনি আরও জানান, ২০১১-১২ সালে জেলা যুবদলের দায়িত্বে থাকার সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৬টি রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয় এবং তাঁকে ২০১৫ সালে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করতে হয়। তৎকালীন ফ্যাসিবাদের দোসরদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম খানের নেতৃত্বে তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এমনকি তাঁর বাড়ির সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে তাঁর বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই দুঃসময়ে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা ও অসুস্থ সন্তানসহ পরিবারকে দীর্ঘ সময় বাড়িছাড়া থাকতে হয়েছিলো।
কষ্টের সেই দিনগুলোতে রাজনৈতিক অভিভাবক ও সহযোদ্ধাদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমাদের চাঁদপুরের অভিভাবক, জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাই এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন ভাই আমার দুঃসময়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন। মানিক ভাই নিজ উদ্যোগে হাইকোর্ট থেকে আমার সব মামলার আগাম জামিনের ব্যবস্থা করেছেন এবং আমার পরিবারের পাশে থেকেছেন। আমি তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ইউসুফ মিন্টু মিয়াজী বলেন, “দলের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হইনি। আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমি তার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করবো।”
ডিসিকে /এমজেডএইচ








