শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৮

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : নাগরিক ভাবনা

নির্দলীয় নির্বাচন হলে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাত তুলনামূলক কম হয়

........ সাঈদুর রহমান রাসেদ

চাঁদপুর কন্ঠ রিপোর্ট
নির্দলীয় নির্বাচন হলে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাত তুলনামূলক কম হয়

সাঈদুর রহমান রাসেদ-- একজন তরুণ সমাজ কর্মীর নাম। একটি সুন্দর বাসযোগ্য এবং মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেন। তাঁর গ্রামের তরুণ যুবকদের মাদক, অন্যায়, অসুন্দর থেকে দূরে রাখতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন ‘পথের দাবি’র ব্যানারে। ‘পথের দাবি’ তাঁর প্রতিষ্ঠিত একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানমানবকল্যাণই যার অঙ্গীকার। সংগঠনটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা, যুব উন্নয়ন, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের কল্যাণ ও একটি আদর্শ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষা সহায়তা প্রদান, বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প, মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে বিভিন্ন ক্রীড়া টুর্নামেন্টের আয়োজন, বৃক্ষরোপণ, ইফতার সামগ্রী বিতরণ, ঈদ উপহার প্রদান, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় তরুণ এই সমাজকর্মী রাসেদের নেতৃত্বে। এছাড়া প্রতিবছর রমজানে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভাজন, স্বৈরাচারী মনোভাব তাকে পীড়া দেয়। দেশকে ভালোবাসেন বলেই দেশ এবং সমাজ নিয়ে ভাবেন এবং কিছু অবদান রাখার চেষ্টা করেন।

তরুণ এই সমাজকর্মীর বাড়ি ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মিরপুর গ্রামে। 'স্থানীয় সরকার নির্বাচন : নাগরিক ভাবনা'য় তিনি কথা বলছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম ফরহাদের সাথে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : অতীতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

রাসেদ : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো মোটামুটি মিশ্র ধরনের ছিলো। অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা স্থানীয় উন্নয়নের আশায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদান করেছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো, সংঘর্ষ বা সহিংসতার অভিযোগও দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর প্রভাব অনেক সময় নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে। ফলে সব জায়গায় সমানভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সার্বিকভাবে বলা যায়, কিছু ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা সবসময় বজায় থাকেনি, যা উন্নত গণতন্ত্রের জন্যে একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় বা দলীয় কোনটি আপনার পছন্দ?

রাসেদ : আমি নির্দলীয় ব্যবস্থাকে বেশি উপযুক্ত মনে করি। কারণ নির্দলীয় নির্বাচন হলে প্রার্থীরা সাধারণত ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এতে দলীয় প্রভাব কম থাকে এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাতও তুলনামূলক কম হয়। ফলে ভোটাররা চাপমুক্তভাবে ভোট দিতে পারে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এ নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বা কাকে আপনি দেখতে চান?

রাসেদ : আমি এমন প্রার্থী দেখতে চাই, যিনি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে এলাকার উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেবেন। তার মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি থাকতে হবে এবং তিনি হবেন সৎ, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়পরায়ণ। এছাড়া তিনি সহিংসতা ও বিভেদ নয়, বরং শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে কাজ করবেন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আপনার নিজস্ব কোনো অভিমত আছে?

রাসেদ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে জনগণ সরাসরি তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, যারা স্থানীয় উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখে। আমার মতে, এই নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। এতে যেনো কোনো ধরনের প্রভাব, ভয়ভীতি বা অনিয়ম না থাকে। পাশাপাশি প্রার্থীদের যোগ্যতা, সততা ও জনগণের সেবার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে জরুরি হলো নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা বজায় রাখা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন রাজনীতি সঠিকভাবে এগুচ্ছে?

রাসেদ : এ প্রশ্নের উত্তর এককভাবে 'হ্যাঁ' বা 'না' বলা কঠিন। কারণ, এটি দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল। একদিকে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মতো ইতিবাচক দিক রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীমত প্রকাশের সীমাবদ্ধতা, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক সহিংসতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। আমার মতে, রাজনীতি আংশিকভাবে এগোচ্ছে, তবে এখনো অনেক উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সহনশীলতা, স্বচ্ছতা ও সকল পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়