প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ১৩:১১
স্কুল হোস্টেলে ছাত্রের মৃত্যু, ২ দিন পর অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের বহুল আলোচিত স্কুল হোস্টেল ছাত্রের মৃত্যুর ২ দিন পর নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমীর দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অমানবিক নির্যাতন ও শিক্ষকদের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে নিহত মেহেদী হোসেনের বাবা জিয়াউদ্দিন জিয়া বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) রাত সাড়ে ৮ টায় ওই একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মন্নান ও দ্বাদশ শ্রেণীর ৭ জন শিক্ষার্থী সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ জন সহ মোট ১৮ জনের নামে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
|আরো খবর
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান ২০২৪ সালে ঐ একাডেমিতে আবাসিক ছাত্র হিসেবে ভর্তি হয়। পূর্ব থেকেই আবাসিক হলের জ্যেষ্ঠ ছাত্ররা কারণে অকারণে যখন তখন আবাসিকের কনিষ্ঠ ছাত্রদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতন চালাতো। এরই ধারাবাহিকতায় আপন নামের দ্বাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে একাডেমির দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আপন, হাবিব, জুবায়ের, সালমান, শামীম, জালিস, রাহাত সহ ৯/১০জন শিক্ষার্থী জিজ্ঞাসাবাদের নামে নিচের শ্রেণির ৭ম /৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী, ইসমাইল সহ বেশ ক'জনকে দফায় দফায় নির্যাতন চালায়। উপায়ন্তর না দেখে মেহেদীসহ নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে অবহিত করলে অধ্যক্ষ তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্যে বলেন। তারা সাথে সাথে লিখিত অভিযোগ দিলেও অধ্যক্ষ তা আমলে না নিয়ে কালক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অপরাধে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা মেহেদীকে সোমবার (১৫ জুন) রাত ১০ টা হতে ভোর ৪ টা পর্যন্ত দফায় দফায় আবারও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করলে সে মারা যায়। পরে কে বা কারা মেহেদীর লাশ চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান,
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টায় মেহেদী হাসানের পিতা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ আরো ৭জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ মামলাটি আমলে নিয়ে কাজ করছে।








