রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪১

বিএনপি সরকার গঠনের পর সহিংসতা কমেছে, বেড়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

-------যুক্তরাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট।।
বিএনপি সরকার গঠনের পর সহিংসতা কমেছে, বেড়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ও দৃশ্যমান উন্নতি এসেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটির প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ : পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক এক তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে ইউকে ভিজিটিং অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস (সিপিআইটি) ২০২৬ সালের ৭ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে একটি সরজমিন তথ্য-অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করে। ওই মিশনকালে সরকারি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক এবং গবেষকদের সাক্ষাৎকার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়। তবে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে এই স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিলো এবং বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এতে সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিলো।

যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অনেক বেশি স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে। একই সঙ্গে নাগরিক ও বিরোধী দলগুলোর জন্য উন্মুক্ত আলোচনা ও মুক্তমত প্রকাশের পরিসর বেড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ সফলভাবে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে বড় বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতা বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে। তবে এখনো যেসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে, সেগুলো মূলত স্থানীয় পর্যায়ের আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, সম্পত্তির বিরোধ কিংবা আঞ্চলিক রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে।

বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিকেই ইতোমধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত মামলার বড় একটি অংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা প্রায় ২১ হাজারেরও বেশি মামলা বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের জুলাই পরবর্তী প্রেক্ষাপট এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, সহিংসতা হ্রাস এবং আইনি সংস্কারের এক ইতিবাচক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়