প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২২
১০ মিনিটে ক্যান্সার টেস্ট’ নিয়ে ড. আবু সিনার নতুন সাফল্য
ব্রেস্ট ক্যান্সারের অগ্রগতি শনাক্তে মিথাইলস্কেপ প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা, গবেষণা প্রকাশিত ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ

ক্যান্সার শনাক্তকরণে আলোচিত ‘১০ মিনিটে ক্যান্সার টেস্ট’ নামে পরিচিত মিথাইলস্কেপ প্রযুক্তির গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছেন বাংলাদেশি গবেষক ড. আবু সিনা। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত সর্বশেষ গবেষণা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক জার্নাল সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত হয়েছে।
|আরো খবর
নতুন এই গবেষণায় মিথাইলস্কেপ প্রযুক্তির আরও বিস্তৃত ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। শুধু ক্যান্সার শনাক্তকরণ নয়, বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিভিন্ন পর্যায়ে রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ বা ট্র্যাক করার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে বলে গবেষণায় প্রমাণের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রযুক্তিটিকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা। কম খরচে পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি করতে মিথাইলস্কেপকে একটি ডিসপোজেবল ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটি আরও সহজ, ব্যবহারবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরীক্ষাপদ্ধতিতে রূপ নেয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একজন বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে মিথাইলস্কেপ প্রযুক্তির উদ্ভাবন থেকে শুরু করে এর পরবর্তী গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে নিজের আনন্দ ও গর্বের কথা জানিয়েছেন ড. আবু সিনা।
গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি এখন ধীরে ধীরে বাস্তব চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রয়োগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রিজলভ হেলথের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির ক্লিনিক্যাল স্টাডি ও বাণিজ্যিকীকরণের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
গবেষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগঘন স্মৃতি :
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সঙ্গে ড. আবু সিনার গবেষকজীবনের একটি আবেগঘন স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন মিথাইলস্কেপের ‘১০ মিনিটের ক্যান্সার টেস্ট’ গবেষণাকে এগিয়ে নিতে ১০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।
দুঃখজনকভাবে সম্প্রতি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ড. আলাউদ্দিন। গবেষণার প্রতি তাঁর বিশ্বাস, সহযোগিতা ও উদার অবদানকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন ড. আবু সিনা ও তাঁর গবেষণা দল।
প্রকাশিত গবেষণাপত্রের অ্যাকনলেজমেন্ট অংশে ড. আলাউদ্দিনের অবদান স্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গবেষণাটি তাঁকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
ক্যাপশন :ডক্টর আবু সিনা ও তাঁর সহকর্মীবৃন্দ।
একক অর্জন নয়, পুরো দলের সাফল্য :
নিজের এই আন্তর্জাতিক অর্জনকে একক সাফল্য হিসেবে দেখছেন না ড. আবু সিনা। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের গবেষণা, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের পরিশ্রম, মেন্টরদের দিকনির্দেশনা, সহযোগীদের সহায়তা এবং পরিবারের নিরন্তর সমর্থনের সম্মিলিত ফল এই অর্জন। তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, সহকর্মী, মেন্টর, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
গবেষণাগারের একটি উদ্ভাবন যখন ধীরে ধীরে মানুষের বাস্তব জীবনে ব্যবহারের সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যায়, তখন সেটি শুধু একজন গবেষকের সাফল্য নয়—বরং একটি দীর্ঘ গবেষণা-যাত্রার অর্জন। মিথাইলস্কেপ প্রযুক্তির সর্বশেষ এই অগ্রগতি সেই পথেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশি গবেষকের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে নতুন গবেষণা প্রকাশ এবং ক্লিনিক্যাল প্রয়োগের দিকে অগ্রযাত্রা দেশের বিজ্ঞান ও গবেষণাক্ষেত্রের জন্যেও নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক খবর।
ডিসিকে /এমজেডএইচ









