প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০
চাঁদপুরে ১৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ, আতঙ্কে পাঠদান

চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় ১ হাজার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৩টির ভবন চরম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। কোথাও ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে ঢুকছে পানি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। এতে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ ইচলী জনতাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর একটি উদাহরণ। ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও পিলারের রড বের হয়ে এসেছে, কোথাও দেখা যাচ্ছে ইট ও সিমেন্ট। শিক্ষকদের কক্ষের একটি হেলে পড়া দেয়াল আলমারি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায়ই দেয়াল ও ছাদ থেকে খসে পড়ে পলেস্তারা। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে চুইয়ে পড়ে পানি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলে, বিদ্যালয়ে আসতে তাদের ভয় হয়। বৃষ্টি হলে পানি গায়ে পড়ে। আবার মাঝে মাঝে পলেস্তারা খসে পড়ে। তাদের দাবি, বিদ্যালয়টি নতুন করে নির্মাণ করা হোক।
অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে তাদের ভয় হয়। তবু সন্তানদের মানুষ করতে স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। তাদেরও দাবি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা জানান, শিক্ষক মিলনায়তনের অবস্থাও ভঙ্গুর। দেয়াল ও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। এক পাশের দেয়াল আলমারি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে।
দক্ষিণ ইচলী জনতাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াছমিন বলেন, আমাদের অফিস রুম ও শ্রেণিকক্ষ ভাঙা। ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন।
চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, জেলার ৮ উপজেলায় ১ হাজার ১৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৩টির ভবন চরম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।








