প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২০
এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় দু নেতার বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ
পুলিশের পোশাক পরে অপহরণ ও চাঁদা আদায়

গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাত ৯টায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে কাচ্চা কলোনীর মোহাম্মদ আল-আমিন দেওয়ানের ওপর আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে । এ ঘটনায় পুলিশ সুপার বরাবর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
|আরো খবর
এ অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তামিম খান মো. আল-আমিন দেওয়ানের পূর্ব পরিচিত হাইমচরের আলগী বাজারের রব বেপারী বাড়ির মো. ওমর ফারক বেপারীর মাধ্যমে আপস করার কথা বলে মো. আল-আমিন দেওয়ানকে কাচ্চা কলোনীর পূর্ব পাশে বাংলোর সামনে ডেকে নিয়ে যায় । মোহাম্মদ আল-আমিন দেওয়ান ও ওমর ফারুক কিছুক্ষণ কথা বলার পর তিনটি হাইস গাড়িতে করে ২৫ থেকে ২৭ জন অপরিচিত পুলিশ পোশাক পরিহিত ও অন্য লোকসহ এনসিপি চাঁদপুর সদরের মুখ্য সমন্বয়ক তামিম খান উপস্থিত হয়। পুলিশ পোশাক পরিহিত সন্ত্রাসী তামিম খান গ্রুপসহ গাড়ি থেকে নেমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আল আমিনকে বলে, আমরা এনসিপির মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর লোক। আজ তোরে শেষ করে ফেলবো। এ বলে হামলা শুরু করে নির্যাতন, লাথি, ঘুষি দেয়াসহ ডান হাতে সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। হাত থেকে রক্তপাত করে তামিম খানসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মারতেছে আর বলতেছে, ২২ কোটি টাকা কোথায়? এ সময় মোহাম্মদ আল-আমিন দেওয়ান বলেন, আমি কোনো টাকা কিংবা কোনো সংগঠনের বিষয়ে কিছুই জানি না। পরে তারা বলে, কোরআন শরীফ কসম করে বল এ সম্পর্কে তুই কিছুই জানিস্ না। পরে আল-আমিন দেওয়ানের ডেকে আনা ব্যক্তি মোহাম্মদ ওমর ফারুককে দিয়ে কোরআন শরীফ আনা হলে কোরআন শরীফ ছুঁয়ে কসম করে আল আমিন দেওয়ান বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং ২২ কোটি টাকার বিষয় নিয়েও কিছুই জানি না। তারপরও তামিম খান আল আমিন দেওয়ানকে বলে, আমার নেতা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছে তোর থেকে টাকা উঠাতে হবে। তুই বাঁচতে পারবি না। তোর সকল কিছুই আমরাই করছি। এ সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আল আমিন দেওয়ানকে পেছন থেকে লাথি মারলে তার হাতে থাকা পবিত্র কোরআন শরীফ ছিটকে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর জোর করে আল আমিন দেওয়ানের দু হাত পেছনে বেঁধে এবং চোখে কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে গাড়িতে উঠিয়ে অজ্ঞাত একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে ২৫ থেকে ২৭ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীসহ সারারাত আল-আমিন দেওয়ানের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে আল-আমিনকে সন্ত্রাসী তামিম বলে, আমাদের দুটি শর্ত না মানলে তোকে মেরে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হবে স্বৈরাচারের দলের লোক বলে। জীবন রক্ষা করার জন্যে আল-আমিন দেওয়ান তাদের দেয়া দুটি শর্ত মেনে নেয়।
প্রথমত মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীকে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত এই ঘটনা কারো কাছে বা আইনের আশ্রয়ে নিতে পারবে না। পরে সকাল ৯টার সময় একটি মাইক্রো গাড়িতে করে মিশন রোডের মাথায় এনে ছেড়ে দেয়া হলে আল-আমিন দেওয়ান স্থানীয় ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন। কিন্তু সন্ত্রাসী তামিম গ্রুপের ভয়ে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হননি। এ ঘটনা তখন পুলিশ প্রশাসনকে জানালে তারা নীরবতা পালন করে।
এ ব্যাপারে আল আমিন দেওয়ান বলে, বাধ্য হয় জীবন রক্ষার জন্যে তাদের দেয়া ৩০ লক্ষ টাকার শর্তে টাকা ধার দেনা করে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে সন্ত্রাসী তামিম খানকে। তামিম খান টাকা পেয়ে বলে, এই টাকা আমি খাবো না, এই টাকা যাবে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ভাইয়ের কাছে। তখন সন্ত্রাসী তামিম খান বলে, বাকি টাকা কবে দিবি? একটা পর্যায়ে আমি টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে বেড়াই। টাকা দেয়ার মতো সামর্থ্য নেই আমার। তারপরও তারা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতন-অবিচার করছে। চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে মিথ্যা বানোয়াট অপপ্রচার করে চলছে আমার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে তামিম খান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আল আমিন দেওয়ান সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রতারণা করে ৩ টি মামলায় গ্রেফতার হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সে মিথ্যা সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে জোড়পুকুর পাড়ের আম্মাজান স্টোরের মালিকের ভাইয়ের নিকট হতে টাকা আদায়কালে আটক হয়। আমাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় আল আমিনের বিরুদ্ধে জিডি করি। আর আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ মিথ্যা।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








