বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও আইন সম্মেলনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত

আফছার হোসাইন, মিশর থেকে
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও আইন সম্মেলনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত

পরিবারই সমাজের মৌলিক ভিত্তি, ঐতিহ্যগত পরিবার ব্যবস্থা—যেখানে মা, বাবা ও সন্তানরা একত্রে বসবাস করে—সেটিই টেকসই সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বললেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিস সামিনা নাজ। জ্ঞানের বাতিঘর খ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও আইন অনুষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। 'একটি সুসংহত সমাজ গঠন, আধুনিক চ্যালেঞ্জে পরিবারকে রক্ষা' শীর্ষক এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ। ১৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দু দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি কায়রোর নাসর সিটিতে অবস্থিত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন মিশরের ধর্মমন্ত্রী , বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা আলেম, আইনবিদ, গবেষক, কূটনীতিক সহ মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিরা।

সম্মেলনের পূর্বে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ মিশরের ওয়াকফ মন্ত্রী, গ্র্যান্ড মুফতি এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থা, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন ও বাৎসরিক বৃত্তি বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। পরে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত তাদের জ্ঞানচর্চায় আরও মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিবার সমাজের মৌলিক ভিত্তি এবং ঐতিহ্যগত পরিবার ব্যবস্থা—যেখানে মা, বাবা ও সন্তানরা একত্রে বসবাস করে—সেটি টেকসই সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন রেজুলেশনে ‘ট্র্যাডিশনাল ফ্যামিলি’ ধারণার স্বীকৃতি এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন শাইখুল আজহারের প্রতিনিধি, গ্র্যান্ড মুফতি, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট, সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা। দেশটির জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করার পর অনুষদের কার্যক্রম তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতা আবদুল আতি আস-সানবাতি বলেন, পরিবার সমাজের মূল ভিত্তি হলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রভাবের কারণে এটি নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মেলনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিষয়ে গভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মিশরের ধর্মমন্ত্রী ড. ওসামা আল-আজহারি তাঁর বক্তব্যে পরিবারকে একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আলেম ও দাওয়াহ কর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্দোনেশিয়ার সুলতান আগুং ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. মাশদুর হাতুন। তিনি নববী দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যান্য বক্তা পরিবারকে সমাজের ‘সুরক্ষিত দুর্গ’ হিসেবে অভিহিত করে সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে পরিবারকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ইসলামিক আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, এতে অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত এবং অর্জিত জ্ঞান দেশে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে ইসলামিক থিওলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ ও মিরাজুর রহমান রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিকে তাদের জন্যে অনুপ্রেরণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন এবং এ জন্যে বাংলাদেশ দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সম্মেলনের শেষ দিনে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদ সাদিক ১৮ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেন। ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় দুদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারকেন্দ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতা জোরদারে এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়