বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮

এ স্থবিরতা দ্রুত কেটে যাক

অনলাইন ডেস্ক
এ স্থবিরতা দ্রুত কেটে যাক

মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় সেবাবঞ্চিত পৌরবাসী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রজ্ঞাপনে দেশের সকল পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের পদ থেকে অপসারণ করার পর থেকেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পৌরবাসী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলরদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৬ সেপ্টেম্বর তাদের পদ থেকে অপসারণ করে। এতে স্থবির হয়ে পড়ে পৌরসভার নাগরিক সেবা কার্যক্রম। সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, সনদ সংশোধন, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়িত সনদসহ বিভিন্ন সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, অনাপত্তিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর দিতে হয় কাউন্সিলরকে। বর্তমানে এসব সেবা পেতে নানা রকম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পৌরবাসী। পৌর কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি একাধিক সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং অধিকাংশ কর্মকর্তা না আসায় সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।

বালুরচর গ্রামের মোহাম্মদ হোসেন জানান, সনদ প্রাপ্তির জন্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের (কাউন্সিলর) সুপারিশ নিতে হতো। কিন্তু বর্তমানে সুপারিশ করার লোক না থাকায় ভোগান্তির মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে পৌরবাসীর। বারআনী গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান জানান, জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রত্যেকটি কাজের জন্যে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হচ্ছে। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের মতো জরুরি সেবাগুলোও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। ছেংগারচর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহ সুফিয়ান খান জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার একদিন পৌরসভায় আসেন। যতোটুকু পারছেন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি মাসিক সভা ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া নিয়মিত আসেন না। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের জন্যে উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়। এ বিষয়ে ছেংগারচর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) বলেন, আমি উপজেলা প্রশাসক এবং পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কেউ সেবা না পেলে তাকে তাঁর কাছে পাঠালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুধু ছেংগারচর নয়, চাঁদপুর জেলার অন্যান্য পৌরসভাসহ দেশের অধিকাংশ পৌরসভা, এমনকি দেশের বহু ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধি না থাকায় সামগ্রিক কার্যক্রমে, বিশেষ করে সেবা কার্যক্রমে কম-বেশি স্থবিরতা চলছে। তবে ছেংগারচর পৌরসভায় এ স্থবিরতা একটু বেশি, যেহেতু এখানে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার পদটিও খালি। অন্য পৌরসভা থেকে সপ্তাহে একদিন একজন এসে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে এ শূন্য পদে দায়িত্বপালন করছেন। নূতন সরকার সারাদেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ঘোষণা করলেই তবে ছেংগারচর পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দায়িত্বে আসবেন, তার জন্যে মাসের পর মাস যে অপেক্ষা করতে হবে সেটা নিশ্চিত। তার পূর্বে এ পৌরসভায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা পদে কি পূর্ণকালীন লোক নিয়োগ দেয়া যায় না? এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকারের জেলা পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। যদি সেটি করা না হয়, তাহলে ছেংগারচর পৌরবাসীর প্রতি যে বিমাতাসুলভ আচরণের সমতুল্য কাজ করা হবে-সেটি নির্দ্বিধায় বলা যায়। আমরা এ ব্যাপারে নবনির্বাচিত স্থানীয় এমপির মনোযোগ ও হস্তক্ষেপও প্রত্যাশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়