প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৪১
মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি দূর করতে দেশবাসীর সহযোগিতা চান পানিসম্পদ মন্ত্রী
হাওর ও মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি, নাজমুল আহসানের অপকর্ম এবং ২৬% সুপেয় পানি তহবিল অপচয়ের লিখিত অভিযোগ

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি পুরোপুরি দূর করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।
|আরো খবর
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় সভায় উপস্থিত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, "মন্ত্রণালয়ের যে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি চিরতরে নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটিকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।"
**লিখিত অভিযোগ ও মেগা দুর্নীতির চিত্র**
আলোচনা সভায় দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিগত দিনের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি লিখিতভাবে তুলে ধরেন।
অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
* **হাওরাঞ্চলের দুর্নীতি:** নদী খনন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম।
* **টাকা হরিলুট:** পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে কোনো কাজ সম্পাদন না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন।
* **মেগা প্রকল্প ও ঠিকাদারি অনিয়ম:** বগুড়ায় শত শত কোটি টাকার দুর্নীতিসহ মেগা প্রকল্পগুলোতে অনিয়ম এবং ১১টি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার অপব্যবহার।
* **সাবেক সচিবের বিপুল সম্পত্তি:** মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নাজমুল আহসানের স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য।
* **তহবিল অপচয়:** দেশের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানি তহবিলের প্রায় ২৬ শতাংশ অর্থের অপচয়।
একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খরা ও বন্যা কবলিত এলাকার পানিসংকট নিরসনে টেকসই এবং সহজ কিছু সমাধানও প্রস্তাব করে কমিটি।
**উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি**
গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা সভায় দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
* **শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ:** কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, ড. জমিরুল আকতার এবং মহান গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের সহোদর ডা. নুরুজ্জামান।
* **বিশেষজ্ঞ ও আমলা:** সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. আব্দুল হক তালুকদার, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর পুত্রবধূ পারভীন নাসের খান ভাসানী, সাবেক উইং কমান্ডার মীর আমিনুল ইসলাম ও কবি কাজী আলম।
* **পানি ও নদী বিশেষজ্ঞ:** ড. প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন (অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল), গেরিলা লিডার ড. শফিকুল ইসলাম কানু এবং নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. প্রকৌশলী লুৎফর রহমান।








