প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪০
হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের সারথি: নাটেহরার মৃৎশিল্পী নিকুঞ্জ পাল

বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ যখন প্লাস্টিক আর অ্যালুমিনিয়ামের ভিড়ে কোণঠাসা, ঠিক তখনো বংশপরম্পরায় মাটির গন্ধে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনছেন এক শিল্পী। তিনি নিকুঞ্জ পাল। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার নাটেহরা গ্রামের এই নিভৃতচারী শিল্পী নিজের নিপুণ হাতে মাটি দিয়ে গড়ে তুলছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী।
|আরো খবর
এক জীবনযুদ্ধের গল্প নিকুঞ্জ পাল জানান, এটি তার পৈতৃক পেশা। শৈশব থেকেই মাটির তালকে ছাঁচে ফেলে রূপ দেওয়ার শিল্পটি তিনি রক্তে বয়ে বেড়াচ্ছেন। আধুনিকতার ভিড়ে মাটির জিনিসের চাহিদা কমলেও তিনি হাল ছাড়েননি। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই তার তৈরি পণ্যের একটা আলাদা কদর এখনো রয়ে গেছে।
তার সংগ্রহে রয়েছে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত এবং শৌখিন নানা সামগ্রী: গৃহস্থালি পণ্য: মাটির চায়ের কাপ, পানির কলস এবং পিঠা তৈরির নানা নকশা করা সাজ। প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ: মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখার বক্স এবং টাকা জমানোর শৈল্পিক মাটির ব্যাংক। শিশুদের খেলনা ও শৌখিন পণ্য: বাংলা নববর্ষ ও মেলা উপলক্ষে তিনি তৈরি করেন মাটির হাতি, ঘোড়া, গরু, টিয়া ও পায়রাসহ হরেক রকমের মাটির পুতুল।
হাজীগঞ্জের গ্রাম ছাড়িয়ে তার তৈরি এই শৈল্পিক পণ্যের দেখা মেলে চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট বাজারের গোপাল দে ম্যানশনের সামনে। প্রতি সপ্তাহের দুই থেকে তিন দিন বিকেলে তিনি সেখানে তার পসরা সাজিয়ে বসেন। সুলভ মূল্যে খাঁটি মাটির জিনিস কিনতে শহরবাসী ও পথচারীরা ভিড় জমান তার কাছে।
"মাটির জিনিসের প্রতি মানুষের টান এখনো ফুরিয়ে যায়নি। মেলা বা উৎসব ছাড়াও অনেকে ঘর সাজাতে কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে আমার তৈরি পণ্য কিনে নিয়ে যান।" — নিকুঞ্জ পাল
বাংলার এই আদি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নিকুঞ্জ পালের মতো কারিগরদের কদর ও সহযোগিতা প্রয়োজন। প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশবান্ধব মাটির তৈরি সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে আমরাও পারি আমাদের এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে।






