প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৭
স্কুল ফিডিং নিয়ে যখন এমপির হুঁশিয়ারি

মতলব উত্তর ও দক্ষিণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং (পুষ্টিকর খাবার) কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা পচা খাবার সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। এটা আমার কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে রুটি-কলা বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং স্থানীয় তদারকি জোরদার করতে তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। মতলব উত্তরে স্কুল ফিডিং (মিড-ডে মিল) কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা খাবারে আবারও নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠলে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এ হুঁশিয়ারি দেন। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) ওটারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশিকুজ্জামান বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ৩৫৪ শিক্ষার্থী রয়েছে। আজ প্রায় ২০০টি ডিম পচা পাওয়া গেছে। ডিমগুলো বাইরে থেকে ভালো মনে হলেও ভেতরে নষ্ট ছিলো। শুরুতে ভালো মানের খাবার সরবরাহ করা হলেও এখন নিম্নমানের খাবার আসছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
৬ এপ্রিল একই উপজেলার প্রভাতী শিশুকানন মান্দারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির রুটি খেয়ে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় রুটিতে পচন ও দুর্গন্ধ থাকার কথা জানান অভিভাবকরা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৯ মার্চ থেকে মতলব উত্তর উপজেলায় ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ ধরনের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের কথা রয়েছে।
এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, স্কুল ফিডিং নিয়ে ‘প্রত্যাশী’ নামক সংস্থাটি কার্যত অতিরিক্ত বাণিজ্য করছে। সেজন্যে তারা চাঁদপুর জেলা সদর থেকে কিছুটা প্রত্যন্ত এলাকার মতলব উত্তরকেই যেনো টার্গেট করছে। পচা রুটি সরবরাহ করার রেশ কাটতে না কাটতেই তারা পচা ডিম সরবরাহ করলো মতলব উত্তরেই। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি ছাড়াই ‘প্রত্যাশী’ যেভাবে পচা খাবার সরবরাহ করে চলছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় এসে গেছে। বিক্ষোভের আঁচ টের পেয়ে চাঁদপুর-২ আসনের এমপির হুঁশিয়ারি সময়োপযোগী বলে আমরা মনে করি। পুষ্টিকর খাবার প্রাপ্তির লোভে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়ানোর নামে পচা খাবার, নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করার কার্যক্রম নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া দরকার। এজন্যে ‘প্রত্যাশী’ নামক খাবার সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রত্যাশিত পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় হওয়া বাঞ্ছনীয়। তারা সক্রিয় না হলে বুঝে নিতে হবে অন্য কিছু। এই অন্য কিছুতে কারো লাভালাভ আছে কিনা সে সম্পর্কে কৌতূহলী হওয়া ছাড়া উপায় নেই।




