প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২০
ফরিদগঞ্জে ৩৫ শতাংশ সম্পত্তির ওপর নিষেধাজ্ঞার নামে পুরো ব্রিক ফিল্ডে কাজ বন্ধ!
কয়েক লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ

আর্থিক লেনদেন ও চুক্তিনামাকে কেন্দ্র করে একটি ব্রিক ফিল্ডের ৩৫ শতাংশ সম্পত্তির ওপর কার্যক্রম বন্ধের নোটিস প্রদান করে পুরো ৬ একর সম্পত্তির ওপর ব্রিক ফিল্ডের দৈনন্দিন কাজ বন্ধ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ব্রিক ফিল্ডের ধারাবাহিক কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মালিক পক্ষের প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগকারী আব্দুল কুদ্দুস পাঠান এই প্রতিবেদককে অবহিত করেন।
|আরো খবর
অন্যদিকে নোটিসের বাদিপক্ষ বলেন, কার্যক্রম বন্ধ থাকার জন্যে পুরো ব্রিক ফিল্ডের ওপরেই তাদের আবেদন আছে। এমনই ঘটনা ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর বাজার সংলগ্ন এমচিবি ব্রিক ফিল্ডে।
এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগকারী আব্দুল কুদ্দুস পাঠান বলেন, উল্লেখিত নোটিসটির মাধ্যমে আমার ব্রিক ফিল্ডের কার্যক্রম একটি পক্ষ পুলিশের মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়। যার কারণে আমাকে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ সময় নোটিসে দেখা যায়, প্রথম পক্ষ জসীম উদ্দীন, পিতা-শাহ আলম মিজি, গ্রাম- মানিকরাজ এবং জসিম উদ্দিন পাঠান, পিতা মৃত-আব্দুল জলিল পাঠান, গ্রাম-গাজীপুর। এদের বিজ্ঞ আদালতে দরখাস্ত মামলা নং ৩৭৮ /২৬, ধরা-১৪৫ কাঃ বিঃ, স্মারক নং ৪৩৯, তারিখ- ০৫-০৪-২০২৬ । এতে দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন আব্দুল কুদ্দুস পাঠান, পিতা মৃত আব্দুল জলিল পাঠান। নোটিসে উল্লেখ করা হয়, গাজীপুর মৌজার বিএস ১১৭ নং খতিয়ানে, ৭ নং দাগে ৬ শতাংশ, বিএস ৪২৬ নং খতিয়ানের ১৩৩ নং দাগে ২১ শতাংশ এবং বিএস ৪৫৫ নং খতিয়ানের ১৩৪ নং দাগে ৮ শতাংশ এবং মোট ৩৫ শতাংশ সম্পত্তির সমস্যার সমাধানের আগে উল্লেখিত সম্পত্তির ওপর কোনোরকম কার্যক্রম না করে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করেন।
কিন্তু সংবাদকর্মীকে অভিযোগকারী ব্রিক ফিল্ডের ভাড়াটিয়া দাবিদার আব্দুল কুদ্দুস পাঠান বলেন, ব্রিক ফিল্ডটি তিনি নোটিস প্রদানকারী পক্ষদের কাছ থেকে ভাড়ায় পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কাজ করছে। আর এই ব্রিক ফিল্ডটি প্রায় ৬ একর সম্পত্তির উপর। সব সম্পত্তির মূল মালিক মাহবুব চেয়ারম্যান। নোটিসে যে দাগগুলোর সম্পত্তি উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্রিক ফিল্ডের কাজে আসে না এবং এগুলো পরিত্যক্ত জায়গা। আর নোটিসে আমার ব্রিক ফিল্ডের কাজ বন্ধ রাখতে হবে এমন কোনো উল্লেখ নেই। কিন্তু প্রথম পক্ষের নোটিসের কারণে ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই সঞ্জয় চক্রবর্তী কেনো আমার ব্রিক ফিল্ডের কাজ বন্ধ করলেন সেটা আমার বোধগম্য নয়। যার কারণে প্রতিদিন আমার লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। আমি প্রশাসনের মাধ্যমে এর বিচার চাই এবং আমার ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।
অন্যদিকে নোটিসের প্রথম পক্ষ জসিম উদ্দিন বলেন, ব্রিকফিল্ড আমাদেরই। আব্দুল কুদ্দুস পাঠানকে আমরা ব্যবস্থাপক হিসেবে রেখেছি। কিন্তু তিনি আমাদের সাথে ঠিকমত কাজ করেন না, হিসাব দেন না, হিসাব চাইলে তিনি আমাদেরকে মালিকানা হিসেবে অস্বীকার করেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, আব্দুল কুদ্দুসের কাছে তারা ব্রিকফিল্ড ভাড়া দেন নি। এছাড়া তিনি আরো বলেন, আব্দুল কুদ্দুসের কাছ থেকে তারা ২ লক্ষ ইটের ১৮ লক্ষ টাকা পাওনা আছেন। মালিকানা উদ্ধারের জন্যেই তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।
এ সময় ব্রিক ফিল্ডের সরদার মিলন তপাদার বলেন, ব্রিক ফিল্ডে কর্মরত তার শ্রমিকদের লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। সব কিছুই আব্দুল কুদ্দুস পাঠানের মাধ্যমে হয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে ব্রিক ফিল্ডে কাজ বন্ধ থাকার কারণে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। কয়লা কোম্পানির সেলসম্যান বলেন, এ পর্যন্ত আমার সাথে যে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে, তার সবকিছুই আব্দুল কুদ্দুস পাঠানের সাথেই হয়েছে। আর আমি আগে থেকেই জানতাম এই ব্রিকফিল্ডের মালিক আব্দুল কুদ্দুস।
নোটিস প্রদানকারী ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ৩৫ শতাংশ সম্পত্তির ওপরেই মূলত নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু বাদী পক্ষের চাওয়া পাওয়া বা এই ঘটনা নিয়ে যে ঝামেলা হয়েছে তা সমাধান হওয়ার লক্ষ্যেই মূলত পুরো ব্রিক ফিল্ডের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ব্রিক ফিল্ড এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








