শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫

এটি উন্নয়নের বুলি কপচানোদের জন্যে পরিহাস!

অনলাইন ডেস্ক
এটি উন্নয়নের বুলি কপচানোদের জন্যে পরিহাস!

‘ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট দিয়ে দু উপজেলার হাজারো মানুষের চলাচল’ শিরোনামে গতকাল চঁাদপুর কণ্ঠে যে সংবাদটি পরিবেশিত হয়েছে, সেটি পড়ে পাঠকমাত্রকেই বিরক্ত হতে হয়েছে। সংবাদটিতে প্রতিবেদক মো. নাছির উদ্দিন যে ছবি সংযুক্ত করেছেন, তাতেই যেনো অভিব্যক্ত হয়েছে ভুক্তভোগীদের বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। সংবাদটিতে প্রতিবেদক লিখেছেন, একটি কালভার্ট, যেটি দু উপজেলার যাতায়াতের সেতুবন্ধন, সেটিই এখন হয়ে উঠেছে মৃত্যুফঁাদ। কালভার্টটির অবস্থান হলো কচুয়া উপজেলার ৮নং কাদলা ইউনিয়নের দরবেশগঞ্জ বাজারে, উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে। গুরুত্বপূর্ণ এই কালভার্টটি প্রায় এক বছর ধরে ভেঙ্গে পড়ে আছে। এলাকাবাসী বারবার কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করলেও কালভার্টটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। স্কুলপড়ুয়া শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা সহ প্রতিদিন হাজারো মানুষ কচুয়া ও হাজীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এ ভাঙ্গা কালভার্ট দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। কালভার্টটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীনভাবে বেড়ে গেছে। অনেক পুরোনো এই কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙ্গে পড়ে আছে। ভাঙ্গা কালভার্ট দেখে স্থানীয় এক ধনাঢ্য ব্যক্তি আখের মজুমদার কাঠ দিয়ে সংস্কার করে দেন। তারপরও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। কচুয়া ও হাজীগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক মাঠ থেকে ফসল আনা-নেওয়া, বিক্রির জন্যে বাজারে যাতায়াত এবং শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে চলাচলের জন্যে এ কালভার্ট সম্বলিত রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার একর ফসলি জমির কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একমাত্র মাধ্যম এই কালভার্ট। স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, মাইক্রোচালক, অটোচালক, রাজনীতিবিদ ও মসজিদের ইমামরা জানান, প্রতিদিন এই ভাঙ্গা কালভার্ট দিয়ে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে সমস্যা হচ্ছে। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায় কে নেবে? বর্তমানে কালভার্টটি নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যে কোনো সময় বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দ্রুত নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানাই। এ এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন কালভার্টটি নিয়ে। দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করতে পারবে।

কাদলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, আমি এই কালভার্টের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে আসছি। আমি আশাবাদী, উপজেলা প্রশাসন এই সপ্তাহেই কাজটি সম্পন্ন করবে। আমি সবসময় জনগণের পাশে আছি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি। কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আব্দুল আলীম লিটনের নিকট কালভার্টটির বিষয়ে জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এই কালভার্টটি দ্রুত মেরামত বা পুনঃনির্মাণ না হলে যে কোনো সময় বড়ো ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

আমরা দু উপজেলার সেতুবন্ধনরূপী কালভার্টটির চরম দুর্দশাকে উন্নয়নের বুলি কপচানো এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধির জন্যে পরিহাস হিসেবেই মনে করছি। কালভার্টটি ভেঙ্গে পড়ে জানমালের বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবার আগেই উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা কালভার্টটির স্থলে নূতন কালভার্ট নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা পর্যায়ে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী ও হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়