প্রকাশ : ১২ মে ২০২৫, ০৫:১৪
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় চালক আটকা, আহত-২

|আরো খবর
আটকে পড়া চালককে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উদ্ধার
দুর্ঘটনার পরপরই শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পিকআপ ভ্যানের ভেতর থেকে আটকে পড়া চালক মোহাম্মদ সাগরকে উদ্ধার করে। তাঁকে ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। মোহাম্মদ সাগরের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার নতুল্লা বাজার এলাকায়, তাঁর পিতা শাহজাহান। উদ্ধার কাজের সময় স্থানীয় জনসাধারণ ও পথচারীরা উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন।
আহত অপর ব্যক্তি ও যানজট পরিস্থিতি
আহত অপর ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ সোহাগ, পিতা আব্দুল কাদের সিকদার, তাঁরও বাড়ি বরিশাল সদরের নতুন বাজার এলাকায়। দুর্ঘটনার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সার্ভিস রোডে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার কারণে পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পিকআপটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং রাস্তার এক পাশে থাকা যাত্রীছাউনীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। চালক সম্ভবত ক্লান্তি বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার তীব্রতায় গাড়ির সামনের অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে যায় এবং চালক সাগর গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের নিচে আটকা পড়েন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মন্তব্য
শ্রীনগর থানার দায়িত্বরত অফিসার জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একজন সিনিয়র সদস্য জানান, "আমরা দ্রুততার সাথে সাড়া দিয়ে আহতদের উদ্ধার করেছি। গাড়ি আটকে পড়ায় জটিলতা ছিল, তবে সফলভাবে ম্যানুয়ালি কেটে উদ্ধার করি।"
চিকিৎসা পরিস্থিতি
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চালক সাগরের পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে অবজারভেশনে রয়েছেন। অপর আহত সোহাগের শরীরে কেটে যাওয়া ক্ষত রয়েছে, তবে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
“এই রাস্তায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু দ্রুতগামী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীনতা দিনকে দিন ভয়াবহ হচ্ছে।”—স্থানীয় এক বাসিন্দা
এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি এবং রাস্তার পাশে থাকা যাত্রীছাউনী ও স্টলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফলোআপ
শ্রীনগর থানা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ থেকে জানা গেছে, আহতদের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে ঢাকায় রেফার করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।