প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯
জাতীয় ক্রীড়ানীতি ২০২৩ ও তৎপরবর্তী বিভিন্ন নীতিমালা

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিকারায়ন, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার বিকাশ এবং ক্রীড়াবিদদের জীবনমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় ক্রীড়ানীতি-২০২৩ (খসড়া)’ ও তৎপরবর্তী বিভিন্ন নতুন নীতিমালা (যেমন : জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন তহবিল নীতিমালা ও জাতীয় ক্রীড়া ভাতা নীতিমালা) বাস্তবায়ন করছে। ১৯৯৮ সালের পুরাতন ক্রীড়ানীতিকে যুগোপযোগী করে এই নতুন নীতিমালার কাঠামোগুলো সাজানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সর্বশেষ ক্রীড়ানীতি ও আধুনিক ক্রীড়া পরিকল্পনার মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো :
১. ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তা
নতুন নীতিমালার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ক্রীড়াকে একটি সম্মানজনক ও টেকসই পেশা হিসেবে গড়ে তোলা।
* জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন তহবিল : পদকজয়ী ও অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদদের অবসরোত্তর আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং চিকিৎসা সংকট দূর করতে এই বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
* জাতীয় ক্রীড়া ভাতা : অসচ্ছল ও সাবেক জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংগঠকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত ভাতার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
২. প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষামাঠ পর্যায় থেকে বিকাশ
* প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক : চতুর্থ শ্রেণী থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দিষ্ট খেলা বাধ্যতামূলক করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
* তৃণমূল অবকাঠামো নির্মাণ : ‘এক ইউনিয়নে এক খেলার মাঠ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত খেলার মাঠ ও আধুনিক ফুুটসাল গ্রাউন্ড তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
* নবাগত প্রতিভা অন্বেষণ : ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এবং বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৩. সুশাসন ও রাজনীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন
* সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ : বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর নির্বাচন নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য।
* ক্রীড়া অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার : স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস কমপ্লেক্সগুলোকে কেবল খেলাধুলার কাজেই নির্দিষ্ট রাখা এবং বাণিজ্যিক/অ-ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের জন্য স্টেডিয়াম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৪. নারীদের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া
নারী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সমসুযোগ প্রদান এবং পেশাদার নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন নীতিমালায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্যারা-অ্যাথলেট) ক্রীড়াবিদদের জন্য পৃথক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে।
৫. ক্রীড়া খাত ও অর্থায়ন (Sports Economy)
শুধুমাত্র সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতের স্পন্সরশিপ, স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি বা ক্রীড়া শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে নীতিগত সহজীকরণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ : বাংলাদেশের এই সর্বশেষ ক্রীড়া কৌশলের মূল সুর হলো “তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেট তৈরি করা এবং ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা”। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের পারফরম্যান্স বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র : অনলাইন।








