সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৩

প্রিকশাস পিউবার্টি এবং কনিষ্ঠ বাবা-মা

ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
প্রিকশাস পিউবার্টি এবং কনিষ্ঠ বাবা-মা

চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রিকশাস পিউবার্টি মানে হলো নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই অতি অল্প বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে আপতিত হওয়া। এটি অস্বাভাবিক। তবে এটা কখনও কখনও স্বাভাবিক বিকাশের অস্বাভাবিক রকমফের হিসেবে বর্ণিত হয়।

প্রিকশাস পিউবার্টির দুটো ধরন আছে। একটা হচ্ছে সত্যিকারের প্রিকশাস পিউবার্টি আর অন্যটি হলো অলীক প্রিকশাস পিউবার্টি। অল্পকিছু সংখ্যক শিশুদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে আঘাত বা টিউমারের কারণে প্রিকশাস পিউবার্টি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সংজ্ঞায় মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে আট বছর এবং ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে নয় বছরের আগে বয়ঃসন্ধিকালে আপতিত হওয়াই প্রিকশাস পিউবার্টি।

মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, শারিরীকভাবে কম সক্রিতা, দৈহিক স্থূলতাসম্পন্নরাই প্রিকশাস পিউবার্টিতে আপতিত হয়। স্থূলতা বলতে উচ্চতা ও বয়স সাপেক্ষে স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে কমপক্ষে দশ কেজি ওজন বেশি হওয়া। এরকম মেয়েশিশুদের নয় বছরে পড়ার আগেই স্তনের বৃদ্ধি ঘটে এবং বারো বছরের আগেই মাসিক চক্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও কিছু কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসলে মেয়েশিশুদের ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। জীনগত এবং পরিবেশেগত কারণেও প্রিকশাস পিউবার্টি দেখা দিতে পারে। শ্বেত বর্ণধারী মেয়ে শিশুর চাইতে কৃষ্ণ বর্ণধারী মেয়েশিশুর প্রিকশাস পিউবার্টির হার বেশি। রক্তে মেলাটোনিন যাদের বেশি তাদের ক্ষেত্রেও প্রিকশাস পিউবার্টির হার বেশি। পারিবারিক ইতিহাসে দেখা যায়, কোনো কারণ ছাড়াও প্রিকশাস পিউবার্টি হতে পারে।

প্রিকশাস পিউবার্টির উদাহরণ

মাম-জি : নাইজেরিয়ার এক মেয়েশিশু যার জন্ম ১৮৭৫/৭৬ সালে। মাত্র সতের বছর বয়সে সে নানী হয়ে যায়। নাইজেরিয়ার ক্যালাবার দ্বীপে তার বাড়ি। সাত বছর বয়সে তাকে দ্বীপের শাসক আক্কিরির হেরেমে নিয়ে যাওয়া হয়। এর অল্পকিছুদিনের মধ্যেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। আট থেকে নয় বছরের মাথায় সে একটা কন্যা সন্তান প্রসব করে। আবার তার এ কন্যাশিশুটিও একই হেরেমে আট থেকে নয় বছর বয়সে সন্তানের মা হয়। অর্থাৎ মাম-জি সতের বছর বয়সে নানী হয়ে যায়।

হ্সি পরিবার

উনিশশো দশ সালে চীনে নয় বছরের এক ছেলে শিশু আট বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুর গর্ভে সন্তানের পিতৃত্ব অর্জন করে। এরাই পৃথিবীর কনিষ্ঠতম দম্পতি যারা বাবা-মা হয়েছে যুগপৎ। এ পরিবারকে হ্সি পরিবার নামে চেনে সবাই।

সবচেয়ে খুদে মা লিনা মেদিনা

লিনা মেদিনার জন্ম পেরুর টিক্রাপোতে। পুরো নাম লিনা মার্সেলা মেদিনা দে হুরাদো। তার বাবা টিবুরেলো মেদিনা এবং মা ভিক্টোরিয়া লোসিয়া। অন্য আট ভাইবোনের তুলনায় লিনা একটু তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যায়। বিশেষ করে ওই বয়সে তাঁর স্তনের বৃদ্ধি সকলের চোখে পড়ে। মাত্র আট মাস বয়সে লিনা ঋতুমতী হয়ে যায়। পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই লিনা গর্ভবতী হয়ে যায়। এ গর্ভ সঞ্চারের জন্যে তার বাবাকে সন্দেহ করে পুলিশ নিয়ে গেলেও তা প্রমাণের অভাবে নাকচ হয়ে যায়। মাত্র পাঁচ বছর সাত মাস একুশ দিন বয়সে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার মধ্য দিয়ে লিনা মেদিনা ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। অকাল বয়ঃসন্ধির এটাই কনিষ্ঠতম উদাহরণ। জন্মের সময় লিনা মেদিনার ছেলের ওজন ছিল দুই কেজি সাতশো গ্রাম। সিজার অপারেশনকারী ডাক্তারের নামে সে ছেলের নামকরণ করা হয়েছিল জেরার্ডো। দশ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত জেরার্ডো জানতো লিনা মেদিনা তার বড় বোন। দশ বছর পূর্ণ হওয়া পরেই সে জানতে পারে লিনা মেদিনা তার মা। ডাক্তারের ক্লিনিকে চাকরি করে লিনা তার প্রথম সন্তানের পড়াশুনার খরচ চালিয়ে যান। অস্থিমজ্জার রোগে আক্রান্ত হয়ে জেরার্ডো চল্লিশ বছর বয়সে উনিশশো উনআশি সালে মৃত্যু বরণ করে। লিনা মেদিনা বড় হয়ে রাউল জুরাদোকে বিয়ে করেন এবং বিয়ের দুবছরের মাথায় উনিশশো বাহাত্তর সালে তার আরেকটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। লিনা মেদিনা আজ অবধি বেঁচে আছেন এবং এখন তার বয়স বিরানব্বই। তিনি কখনও কাউকে তার প্রথম মাতৃত্বের ব্যাপারে কোনো তথ্য প্রদান করেননি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়