শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩০

ধারাবাহিক উপন্যাস-৪২

নিকুঞ্জ নিকেতন

রাজীব কুমার দাস
নিকুঞ্জ নিকেতন

(পূর্ব প্রকাশের পর)

‘সারোয়ার-অনিমেষ তোমরা আমার কাছে আছ তো?’

‘আমরা কখনো আপনাকে ছেড়ে যাচ্ছি না দাদা।’

‘হা হা হা, তোমরা যাবে না আর আমি যদি চলে যাই?’

‘দাদা অমনভাবে বলবেন না প্লিজ। আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন। আপনার জন্য সকালের আড্ডাপার্টি অপেক্ষা করবে এবং অপেক্ষায় থাকবে ডাবওয়ালা, চায়ের দোকানিসহ সকলে। আপনি যখন ফিরবেন তখন তারাও আপনাকে নতুন করে বরণ করে নিবে। আমরা রাউন্ড দিয়ে এসে বেঞ্চিতে বসব তারপর ডাব খাব। এগুলো ফেলে আপনি কোথায় যাবেন।’

‘পিটার কোথায়, তাকে কেন দেখছি না।’

‘আছি তো দাদা আপনার পাশেই আছি।’

‘ওহে পিটার তোমরা আমার কত আপনজন হয়ে গেলে। একটা সময় বেশ আফসোস থাকত যে আমার মৃত্যুর সময় হয়তো কাউকে কাছে পাব না অথচ দেখ তোমাদের সঙ্গ আমাকে জীবন্ত করে তুলছে।’

‘দাদা আপনি একটু রেস্ট নেওয়ার চেষ্টা করুন তো।’

‘তুমি ঠিকই বলেছ সারোয়ার জীবনে এখন রেস্ট নেওয়া প্রয়োজন। বড় বেশি ক্লান্ত হয়ে গেছি। এখন তো চোখের সামনে কত কিছু ভাসে। গতকাল তনুশ্রী এসেছিল আমার কাছে আর আজ দেখ দরজার কাছে রাজীব দাঁড়িয়ে আছে। অসুস্থ্য হলে মনের মধ্যে কত কল্পনা বাসা বাঁধে। তখন প্রিয়জনদের মুখগুলো ভেসে আসে।’

‘দাদা ওটা আপনার কল্পনা নয়। সত্যি সত্যি রাজীব এসেছে।’

‘আরে না আমি সারাদিন ছেলেটার কথা ভাবি তো তাই চোখের সামনে ভাসছে।’

‘বাপি।’

শব্দটা শুনতেই নরেন্দ্রদা যেন প্রাণবন্ত হয়ে উঠলেন। এতক্ষণ যে লোকটা দুর্বলতায় কথা বলতে পারছিলেন না এখন নিজেই উঠে বসলেন।

[পরের পর্ব আগামী সংখ্যায় ছাপা হবে]

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়