শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৭:৫২

ফরিদগঞ্জে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
ফরিদগঞ্জে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে

ফরিদগঞ্জে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ক'টি ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও মামলা হলেও চোরের দল ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদিকে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) পৌর এলাকার কাছিয়াড়া গ্রামের নেছার পাটওয়ারীর ছেলে মো. সোহাগ পাটওয়ারীর নিজ বাসার সামনে থেকে তার মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে পশ্চিম রূপসা গ্রামের সৌরভ আলীর ছেলে মো. স্বপনের অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) রাতে কালির বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী মো. ফরহাদ হোসেনের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ শাশিয়ালী গ্রামে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দিবাগত রাতে প্রবাস ফেরত আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। উল্লেখিত ঘটনাগুলো ছাড়াও গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন, গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন, পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী প্রবাস ফেরত আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি প্রবাস থেকে এসেছি চলতি সপ্তাহে। আসার তিনদিন পর মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাই। পরদিন সকালে বাড়িতে এসে দেখি টিনের চাল কেটে চোর ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ প্রায় ১২ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিশ এসে গেছে, কিন্তু চোর এখনো ধরা পড়েনি।

মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সোহাগ পাটওয়ারী বলেন, আমার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি চুরির ঘটনায় হতবাক হয়ে গেছি। এর মাস কয়েক আগে একবার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

ভুক্তভোগী ঔষধ ব্যবসায়ী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, সোমবার রাতে প্রতিদিনের ন্যায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। মঙ্গলবার সকালে দোকানে এসে দেখি টিনের চাল কেটে চোর চক্র প্রবেশ করে আমার দোকান থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।

শাশিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা রিপন মজুমদার, নান্নু দেওয়ান ও মিলনসহ আরো ক'জন জানান, আমাদের গ্রামে ও আশপাশে অনেকগুলো চুরির ঘটনা ঘটছে। কারো হাঁস-মুরগী, গরু ছাগল এবং বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র চুরি হয়। একের পর এক চুরির ঘটনায় আমরা সাধারণ মানুষ আতঙ্কে আছি। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি, প্রশাসন যেনো দ্রুত চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করে।

চুরির ঘটনার শিকার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটওয়ারী বলেন, আমার পরিষদ থেকে গত সপ্তাহে আমার নিজের আইফোন সিক্সটিন প্রোম্যাক্স মোবাইল চুরি হয়ে যায়। প্রায় দু লাখ টাকা দিয়ে মোবাইল ফোনের সেটটি কিনেছিলাম। এ ঘটনা থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, মোবাইল এখনও উদ্ধার হয়নি।

গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, আমার ইউনিয়নে সম্প্রতি চুরির হিড়িক পড়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ থেকে ৭টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমি পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানিয়েছি।

গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহআলম শেখ বলেন, আমার এলাকায় গত ক'দিন বেশ ক'টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের উৎপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চুরির ঘটনাগুলো আমি উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করেছি।

চোর ধরতে ও চুরি ঠেকাতে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চাইলে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, চুরির ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। চুরির ঘটনা কেনো বা কী কারণে বাড়লো তা আমরা খতিয়ে দেখছি বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়