প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৬
পটিয়ায় ধরা চাঁদপুরের সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, নিখোঁজের নাটক ভেস্তে গেল

চাঁদপুরের আলোচিত প্রতারক স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে অবশেষে পরিবারসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) ভোর ৫টায় চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ।
|আরো খবর
চাঁদপুর সদর মডেল থানার চৌকস উপপরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের একজন পরিচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা, স্বর্ণালংকার নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং আমানতের টাকা না দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি সপরিবারে পলাতক ছিলেন।
কীভাবে গ্রেপ্তার হলেন :
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ তাকে খুঁজছিলো। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তার অবস্থান চট্টগ্রামের পটিয়ায় শনাক্ত করে। এরপর এসআই কালাম গাজীর নেতৃত্বে একটি টিম বৃহস্পতিবার রাতেই চাঁদপুর থেকে রওনা হয়। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পটিয়ার একটি বাসা থেকে পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাদের চাঁদপুরে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আদালতে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, "পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এসআই কালাম গাজীর দক্ষতায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
গুজবের অবসান :
পিন্টু দাসের আত্মগোপনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ায়। তারা প্রচার করতে থাকে যে "হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ" এবং এর পেছনে সাম্প্রদায়িক কারণ রয়েছে বলে অপপ্রচার চালায়।
শুক্রবারের এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সেই গুজবের অবসান হলো। প্রমাণিত হলো যে, এটি কোনো সাম্প্রদায়িক নিখোঁজের ঘটনা নয়; বরং প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত একজন ব্যবসায়ীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা।
এ ঘটনায় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যেসব ব্যক্তি না জেনে সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছিলেন, তারা এখন কী বলবেন? একটি সাধারণ প্রতারণার মামলাকে সাম্প্রদায়িক রং দিয়ে যারা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই সফল অভিযানের জন্যে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ এবং এসআই কালাম গাজীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা দাবি জানিয়েছেন, যারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়েছে, সেই সব ভণ্ড ও গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক—যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে গুজব ছড়ানোর সাহস না পায়।








