মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ২৩:০৫

অনেক অভিভাবক ক্রীড়াসহ সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণকে সময় নষ্ট করা বলে মনে করেন

-----মোহাম্মদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক

সেলিম রেজা
অনেক অভিভাবক ক্রীড়াসহ সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণকে সময় নষ্ট করা বলে মনে করেন

চাঁদপুর শহরের রহমত আবাসিক এলাকার সম্মুখস্থ ও লন্ডন ঘাটের নিকটস্থ পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক। মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরের অন্যতম শহীদের নামে স্বাধীনতোত্তরকালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও এটিকে কলেজ পর্যায়ে উন্নীত করার পেছনে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, তিনি হচ্ছেন জনাব মোহাম্মদ ওমর ফারুক। এ প্রতিষ্ঠানের খ্যাতিমান প্রধান শিক্ষক ছিলেন দু মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে আবুল হোসেন ঢালী ও মোস্তাফিজুর রহমান। বর্তমানে দুজনই মরহুম। তাঁদেরই সুযোগ্য উত্তরসূরি জনাব মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি স্বীয় যোগ্যতায় চাঁদপুর পৌরসভায় শিক্ষা অফিসার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বপালনের সুযোগ পেয়েছেন। সম্প্রতি তাঁরই মুখোমুখি হয়েছে চাঁদপুর কণ্ঠের পাক্ষিক আয়োজন ‘ক্রীড়াকণ্ঠ’ বিভাগ।

ক্রীড়াকণ্ঠ : শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াকে আপনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কতোটা গুরুত্ব দেন? দিয়ে থাকলে কেন?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াকে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া চর্চায় ব্যস্ত থাকলে সহজে বিপথগামী হয় না।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ের মাঠের কী অবস্থা? শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বড়ো আয়োজন হয় কি? বার্ষিক ক্রীড়া এবং আন্তঃশ্রেণি ক্রিকেট ও ফুটবল হয় কি?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : আমাদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ তেমন প্রশস্ত নয়। প্রতিবছরই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে খেলাধুলার বড় আয়োজন হয়ে থাকে। তাছাড়া বার্ষিক ক্রীড়া ছাড়াও আন্তঃশ্রেণি ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার আয়োজন দুটি আলাদা সময়ে সীমিত আকারে হয়ে থাকে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক আপনারা ক্লাবভিত্তিক, হাউস ভিত্তিক ক্রীড়াচর্চায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপৃত রাখেন কিনা?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : আমরা জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকি। পাশাপাশি সারা বছরব্যাপী শিক্ষার্থীদের ক্লাবভিত্তিক ক্রীড়া চর্চায় সম্পৃক্ত রাখি, যাতে করে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া চর্চার গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ে ক্রীড়া শিক্ষক আছে কি না এবং তার নাম কী? তিনি বিপিএড সনদে চাকরি পেয়েছেন, না শিক্ষা জীবনে ভালো খেলোয়াড় হওয়ার গুণে চাকরি পেয়েছেন? কীভাবে চাকরি পেয়েছেন সেটা জানার বিষয় নয়, তিনি ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে কতোটুকু দায়িত্ব পালন করছেন সেটা জানার বিষয়। জানাবেন কি?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : আমাদের বিদ্যালয়ে ক্রীড়া শিক্ষক আছে। তার নাম কাজী সুলতানা রাজিয়া। তিনি বিপিএড সনদের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। তিনি ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন খেলাধুলা পরিচালনাসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকেন।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার বিদ্যালয়ে ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা আছে কি? এ গেমসে মেয়েরা বেশি আগ্রহী না ছেলেরা?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : আমাদের বিদ্যালয়ে ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা রয়েছে। এ গেমসে ছেলে এবং মেয়ে শিক্ষার্থী উভয়েই বেশ আগ্রহী। অনেক শিক্ষার্থীই আউটডোর গেমসের চেয়ে ইনডোর গেমসে অধিক সাফল্য অর্জন করে থাকে। ইনডোর গেমসে সব বয়সী শিক্ষার্থীরা সহজেই অংশগ্রহণ করতে পারে। তাই ইনডোর গেমসে অংশগ্রহণের হার অপেক্ষাকৃত বেশি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রীড়াচর্চায় ঘাটতির ক্ষেত্রে মোবাইল আসক্তিকে আপনি কতোটা দায়ী করেন?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীরা ক্রীড়াচর্চার চেয়ে ডিজিটাল চর্চাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা ডিভাইস তথা মোবাইলে আসক্তি হয়ে পড়ছে। বলতে গেলে, মোবাইল আসক্তি ক্রীড়া চর্চার ক্ষেত্রে ৭০%-৮০% অন্তরায় তথা প্রতিবন্ধক বলে আমি মনে করি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াসহ সকল সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম জোরদার করলে কি মোবাইল আসক্তি দূর করা সম্ভব? এ সকল কার্যক্রম চালুতে আপনি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কোনো প্রতিবন্ধকতা অনুভব করেন কি? সে কি আর্থিক, উপকরণগত না অন্য কিছু?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : আমি মনে করি ক্রীড়াসহ সকল সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবধর্মী সৃজনশীলতা মোবাইল আসক্তি দূরীকরণে অবশ্যই ভালো ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অনীহা। অনেক সময় অভিভাবকরা পড়াশোনার জন্যে ক্রীড়াসহ সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে সময় নষ্ট বলে মনে করেন। এছাড়াও আর্থিক ও উপকরণগত সমস্যাও রয়েছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’ এ প্রবাদের যথার্থতায় ক্রীড়ার ভূমিকা কী?

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’ এটি প্রবাদ বাক্য হলেও এটি ধ্রুব সত্য। দেহ সুস্থ থাকলে মনও সুস্থ থাকে। ক্রীড়া আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। খেলায় সাফল্য অর্জন করলে একজন ব্যক্তি নিজের প্রতি আস্থা পায়, যা তার মানসিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করে। ক্রীড়া শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, বরং মনকে প্রফুল্ল, দৃঢ় ও ইতিবাচক করে তোলে। তাই বলা যায়, ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’Ñএই প্রবাদটির যথার্থতা প্রমাণে ক্রীড়ার ভূমিকা অপরিসীম।

ক্রীড়াকণ্ঠ : উপরের প্রশ্নমালার বাইরে আপনার অন্য কোনো বক্তব্য থাকলে বিবৃত করতে পারেন।

মোহাম্মদ ওমর ফারুক : সবশেষে বলা যায়, একটি সুস্থ, সচেতন ও উন্নত জাতি গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত দৈনন্দিন জীবনে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং অন্যদেরও এতে উৎসাহিত করা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়