মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪১

হাজীগঞ্জ পৌর ‘প্রশাসক’ হিসেবে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে হাসান মিয়াজী

কামরুজ্জামান টুটুল।।
হাজীগঞ্জ পৌর ‘প্রশাসক’ হিসেবে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে হাসান মিয়াজী

হাজীগঞ্জ পৌর ‘প্রশাসক’ হিসেবে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন হাসান মিয়াজী। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির পরীক্ষিত এবং দলের দুর্দিনে কর্মীদের মামলা-মোকদ্দমাসহ সকল বিপদে সহযোগিতা করার কারণে নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার শীর্ষে রয়েছেন হাসান মিয়াজী। নিজ এলাকায় নিজ অর্থায়নে রাস্তাঘাট নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা এবং দুস্থ-অসহায়দের পাশে থাকাই তার জনপ্রিয়তার মূল কারণ।

ব্যবসায়িকভাবে সফল হাসান মিয়াজীর কোনো পিছুটান নেই। যে কারণে তিনি পৌর প্রশাসক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলে বাজেট বরাদ্দের পুরোটা কাজে লাগাতে পারবেন বলে পৌরবাসী মনে করেন।

জানা যায়, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে ‘প্রশাসক’ নিয়োগের পর গুঞ্জন উঠেছে দেশের সকল পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করবে সরকার। এমন গুঞ্জনে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে আলোচনা চলছে। দুর্দিনে দলের ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় যেন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়—এমন প্রত্যাশা তাদের। আর সেই বিবেচনায় হাজীগঞ্জ পৌর প্রশাসক হিসেবে হাসান মিয়াজীর নাম বারবার উঠে আসছে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সহ-সভাপতি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, কারা-নির্যাতিত, আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ হাসান মিয়াজীকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান দলীয় নেতাকর্মী ও পৌরবাসী।

পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জানান, গত আওয়ামী সরকারের খামখেয়ালিপনা ও গত ১৮ মাস উন্নয়নবঞ্চিত রয়েছে হাজীগঞ্জ পৌরসভা। পৌরসভার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রশাসক হিসেবে হাসান মিয়াজীকে দেখতে চাই আমরা। এ ব্যাপারে চাঁদপুর কণ্ঠের কাছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান তারা।

উপজেলা পৌর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, আওয়ামী সরকারের পতনের পর প্রায় ডজনখানেক নেতা ও তাদের সমর্থকরা হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়ে তাদের প্রার্থিতার কথা জানিয়েছেন। সম্ভাব্য এ সকল প্রার্থীর মধ্যে ক'জন দলের দুর্দিনে অবদান রেখেছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন এবং আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান থাকলেও পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে আমরা পারিবারিক, সামাজিক, আর্থিক, রাজনৈতিক ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন একজন নেতাকে দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে কারা-নির্যাতিত বিএনপি নেতা হাসান মিয়াজী এগিয়ে রয়েছেন বলে তারা জানান।

উল্লেখ্য, হাসান মিয়াজী একাধারে ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ। ১৯৯৩ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় থেকেই তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করেন, যাতে তিনি আজ প্রতিষ্ঠিত। ব্যবসায়িক কারণে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তার আয়ের সিংহভাগ মানবহিতৈষী কাজে ব্যয় করেন। এর মধ্যে তিনি তার ব্যক্তি উদ্যোগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারসহ বিএনপির অসহায় দলীয় নেতাকর্মীদের আর্থিক সহযোগিতা, বসতঘর ও রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির) এবং ধর্মীয় কাজে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন এবং এখন পর্যন্ত এসব মানুষের পাশে আছেন।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে রাজধানীর রামপুরা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় (নং-১৯(৭) ২৪) হাসান মিয়াজীকে গ্রেফতার করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলার আসামি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও নিপুণ রায় চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

এছাড়া হাসান মিয়াজীকে নিজ এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হত্যা মামলার আসামি করে আটক করে জেলে পাঠানো হয়, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এর আগে ২০১৩ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে হাজীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় (নং-২৩) তাকে আসামি করা হয়। আর এভাবেই তিনি একের পর এক মামলার আসামি হয়ে ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়