রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২

১৯৭৩ সালের ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন’ সংশোধনের জোর দাবি

স্থানীয় সাংসদ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে জেলার সকল পত্রিকার সম্পাদকের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আকুল আবেদন

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৯৭৩ সালের ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন’ সংশোধনের জোর দাবি

স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর আধুনিকায়ন, মানোন্নয়ন ও টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে ১৯৭৩ সালের 'ছাপখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন' সংশোধনের দাবি জানিয়েছে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব ও স্থানীয় দৈনিকসহ সকল পত্রিকার সম্পাদক। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর নিকট আইনটি যুগোপযোগী করার আবেদন জানান। আবেদনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কার্যালয়ে প্রেরণ করেছেন। এর আগে গত ১১ আগস্ট জেলা থেকে প্রকাশিত স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকগণ প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বে এ সংক্রান্ত লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন, ১৯৭৩’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন, সংযোজন অথবা প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের জোর দাবি জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী ডিক্লারেশনপ্রাপ্ত সংবাদপত্রকে নিজ জেলা থেকেই মুদ্রণ ও প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনটি প্রণয়নের সময় এ বিধান কার্যকরের বাস্তবতা থাকলেও বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের পরিবর্তিত পরিমণ্ডলে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে চাঁদপুর থেকে প্রায় ২২টি দৈনিকসহ বেশ কিছু সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। তবে জেলায় আধুনিক অফসেট প্রেসের সুব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় প্রেসে ছাপাখানার মান তুলনামূলক নিম্নমানের হলেও উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। ফলে স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে তীব্র আর্থিক ও কারিগরি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকায় আধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তি ও উন্নত ছাপাখানা থাকায় তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত সেবা পাওয়া যায়। নিজ জেলার বাইরে দেশের যেকোনো নিবন্ধিত বা অনুমোদিত আধুনিক ছাপাখানা থেকে পত্রিকা মুদ্রণের আইনি সুযোগ দিলে সংবাদপত্রের মান বৃদ্ধি পাবে, পাঠকের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং প্রকাশনা ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে।

প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, "আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে জেলাভিত্তিক সংবাদপত্রগুলো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে পড়ছে এবং জাতীয় পত্রিকার সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে। এ খাতের অস্তিত্ব রক্ষা ও বিকাশে আইনি সংস্কার এখন সময়ের দাবি।"

চাঁদপুর প্রেস ক্লাব মনে করে, এই আইনি সংস্কার বাস্তবায়িত হলে শুধু চাঁদপুর নয়, সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংবাদপত্রগুলো আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পাবে। চাঁদপুর থেকে দাবিটি উত্থাপিত হলেও এটি বস্তুত সারাদেশের স্থানীয় পত্রিকা সম্পাদক ও প্রকাশকদের প্রাণের দাবি। আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিলে দেশের জেলা পর্যায়ের গণমাধ্যম খাত একটি টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়