প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩
নির্মম পরিস্থিতির শিকার যখন একজন প্রবাসী

দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যাদের ঘাম ঝরানো উপার্জন, সেই প্রবাসীদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও পারিবারিক প্রতারণার চিত্র নিত্যদিনের এক বেদনাবিধুর বাস্তবতা। ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরপোয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেনের গল্পটি কেবল একজন ব্যক্তির দুর্দশা নয়; এটি আমাদের সমাজব্যবস্থায় প্রবাসীদের প্রতি স্বজনদের অকৃতজ্ঞতা ও আইনি সুরক্ষার ভঙ্গুর রূপটিকে উন্মোচিত করেছে।
জীবনের মূল্যবান ১৮টি বছর সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রম করে কাটিয়েছেন কামাল হোসেন। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—পরিবারকে একটু স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া, ভাই-বোন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা। কিন্তু প্রবাস থেকে উপার্জিত অর্থ পাঠায়ে যাদের তিনি স্বাবলম্বী করেছেন, আজ দেশে ফেরার পর সেই সহোদররাই তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। জমিজমা দখল, বসতঘরের অংশ ভাঙচুর এবং প্রবাসে ফেরা আটকে দেওয়ার যে হুমকি তাকে দেওয়া হচ্ছে, তা চরম অমানবিক ও নিন্দনীয়। যে ব্যক্তি দেশের রেমিট্যান্স বাড়াতে ও পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের জীবনের সেরা সময় প্রবাসে কাটালেন, নিজের ভিটেমাটিতেই আজ তিনি ভীতি ও নিরাপত্তার সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
একজন প্রবাসীর উপার্জনে পুরো পরিবার উপকৃত হবে, অথচ তিনি দেশে ফিরলে নিজ অধিকার ও জমি থেকে বঞ্চিত হবেন—এই ধরনের মানসিকতা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় প্রকাশ করে। এই ধরনের ঘটনা সমাজে অন্যান্য প্রবাসীদের মনেও তীব্র ভীতি ও অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। প্রবাসীরা বাইরে গিয়ে যেমন দেশের জন্য লড়েন, দেশের মাটিতেও যদি তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা না থাকে, তবে তা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থার জন্য এক বিরাট ব্যর্থতা।
ফরিদগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এটি কেবল কামাল হোসেনের একার ভূমির বিরোধ নিষ্পত্তি নয়, বরং আইনের প্রয়োগ ঘটিয়ে প্রবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি নজির স্থাপন করা প্রয়োজন। সেই সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজপতিদেরও উচিত প্রবাসীদের প্রতি এমন চরম অন্যায় রুখে দিতে উদ্যোগী হওয়া। যে হাতগুলো দেশকে সমৃদ্ধ করছে, সেই হাতগুলোকে অন্তত নিজ ভিটায় নিরাপদে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়েরই নৈতিক দায়িত্ব।







