প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭
মুসলমানগণ মিলাদুন্নবী (দ.) তথা নবীজির জন্মদিবস পালন করে, মৃত্যু দিবস নয়

আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, (হে নবী) আপনিও মৃত্যুবরণ করবেন আর তারাও মৃত্যু বরণ করবেন। (সূরা আল-যুমার, আয়াত ৩০)। “প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)। আসল কথা রাসুলুল্লাহ (দ.) মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে আবার আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত। তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না। (সূরা বাকারা-১৫৪)। উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শহীদগণ কবরে জীবিত। দেখুন শহীদগণ মৃতুর পরেও তারা জীবিত।
সুতরাং এখানে মৃত্যু হচ্ছে ইহকাল থেকে পরকালে যাবার একটি সেতু, শহিদগণের অনেক ঊর্ধ্বে নবীদের স্থান! আমাদের নবীর ব্যাপারে ইরশাদ করেন, “তবে কেমন হবে যখন আমি (আল্লাহ) প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো এবং হে মাহবুব, আপনাকে তাদের সবার ব্যাপারে সাক্ষী ও পর্যবেক্ষণকারী স্বরূপ উপস্থিত করবো?” (সূরা নিসা-৪১)। মহানবী (সাঃ) যা জানেন না বা দেখেন নি সে সম্পর্কে তো তঁাকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে বলা হবে না। “এবং জেনে রেখো, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন” (সূরা হুজুরাত-৭)। “অতঃপর তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তঁার রাসূল।” (সূরা তওবা-৯৪)।
এবং “আপনি বলুন: আমল করে যাও; অতঃপর তোমাদের আমল প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তঁার রাসূল এবং মো’মেন মুসলমানবৃন্দ”। (সূরা তওবা-১০৫)। সুতরাং যিনি মৃতুর পরেও উম্মতের আমলনামা প্রত্যক্ষ করবেন।
ইবনুল কায়্যিম-লিখেন যে-“যদিও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মোবারক হযরত আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর রূহের সাথে রফীকে আলায় রয়েছেন, কিন্তু এতদ্বসত্বেও তঁার রূহ মোবারক তঁার শরীর মোবারকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে, যে কারণে তিনি সালাম দাতার উত্তর দিয়ে থাকেন। (যাদুল মা’আদ খণ্স ২, পৃঃ ৪৯)। সহীহ হাদিসের আলোকে হযরত মূসা (আ:) ও অন্যান্য আম্বিয়া (আ:) মৃত্যুর পর তঁাদের মাযার-রওজায় জীবিতাবস্থায় বর্তমান। দলিল নং-- ১
হযরত আনাস বিন মালেক (রা:) বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ (দঃ) (ﷺ)- এর হাদীস, যিনি বলেন: “আমি আগমন করি”; আর হযরত হাদ্দিব (রা:)-এর বর্ণনায় হাদীসের কথাগুলো ছিল এ রকম – “মে’রাজ রজনীতে ভ্রমণের সময় আমি লাল টিলার সন্নিকটে হযরত মূসা (আ:)-কে অতিক্রমকালে তঁাকে তঁার রওযা শরীফে নামায আদায়রত অবস্থায় দেখতে পাই। (সহীহ মুসলিম , হাদীস নং : ৫৮৫৮)।
দলিল নং- ২
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছিলাম। আমি দেখলাম, আল্লাহর রাসুল (দঃ) কারো সাথে মুসাফাহা করলেন, অথচ আমি কাউকে দেখলামনা। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কারো সাথে মুসাফাহা করলেন, অথচ আমরা তঁাকে দেখলামনা। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উনি হচ্ছেন আমার ভাই ঈসা ইবনু মারইয়াম। আমি তঁার তাওয়াফ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছিলাম, অতঃপর (তাওয়াফ শেষ হলে) আমি তঁাকে সালাম দিলাম। (তাফসীরে রুহুল মা’আনী-১১/২১৮)
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম কাস্তাল্লানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “এ কথা প্রমাণিত যে, আম্বিয়ায়ে কেরাম হজ্জ করেন এবং তালবিয়াহ পাঠ করেন”। (যুরকানী ‘আলাল মাওয়াহিবঃ ৭/৩৬৫, ১১/৩৬৭)
দলিল নং- ৩
অতঃপর আমি মসজিদটির কিবলার দিকে এলাম। তারপর তিনি ওখানে বুরাকটি বঁাধলেন। তারপর আমি বাইতুল মুকাদ্দাসের মুসজিদে-আকসায় ঢুকলাম। অতঃপর আমার সামনে নবীদের জমায়েত করা হল। তারপর জিবরীল আমাকে এগিয়ে দিলেন। পরিশেষে আমি তঁাদের ইমামতি করলাম (তফসীর ইবনে কাসীর, ৩য় খণ্ড, ৭ম পৃষ্ঠা)
দলিল নং- ৪
বাইহাকীর বর্ণনায় আছে, পৃথিবীর অতি নিকটবর্তী ফেরেশতার নাম ইসমায়ীল। তার সামনে আছে সত্তর হাজার ফেরেশতা। তার প্রত্যেক ফেরেশতার সাথে একলাখ ফেরেশতার বাহিনী আছে। তিনি বলেন, অতঃপর জিবরীল আকাশটির দরজা খোলার প্রার্থনা করলেন। বলা হল, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। আবার বলা হল, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ।
বলা হয়, তার কাছে লোক পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, হ্যঁা। অতঃপর আদম (আ.) কে সেই আকৃতিতে দেখা গেল যে-আকৃতিতে আল্লাহ তাকে প্রথম দিনে সৃষ্টি করেছিলেন (তাফসীর ইবনে কাসীর ৩য় খন্ড, ১৩ পৃষ্ঠা)।
দলিল নং-- ৫
তারপর আমাদের ২য় আসমানে চড়ানো হল। অতঃপর জিবরীল দরজা খোলার প্রার্থনা করলেন। তখন বলা হল, আপনি কে? তিনি বললেন জিবরীল। বলা হল, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। বলা হল, তার কাছে (দূত) পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, পাঠানো হয়েছে। অতঃপর আমাদের জন্য দরজা খোলা হল। হঠাৎ আমি দুই খালাতো ভাইকে পেলাম। তারা হলেন, ঈসা ইবনে মারয়্যাম এবং ইয়াহ্ইয়া ইবনে যাকারিয়্যা। তারা দু’জন আমাকে স্বাগতম জানালেন এবং আমার ভালোর জন্য দুআ দিলেন (মুসলিম, ১ম খন্ড, ৯১ পৃষ্ঠা)।
দলিল নং-- ৬
তারপর একে একে চতুর্থ আকাশে হযরত ইদ্রিস (আ.), পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন (আ.), ষষ্ঠ আকাশে হযরত মুসা (আ.) এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তারপর সপ্তম আসমানে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে—জিবরীল (আ.) বললেন, ইনি আপনার বংশ পিতা, তঁাকে সালাম করুন। তাই আমি তাকে সালাম দিলাম। তিনিও সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন নেক পুত্র ও নেক নবীকে স্বাগতম। তারপর আমাকে সিদরাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত তোলা হল। অত:পর হঠাৎ দেখলাম, ওর ফলগুলো বড় বড় কলসির মত এবং ওর পাতাগুলো হাতীর কানের মত। তিনি বললেন, এটা সিদরাতুল মুন্তাহা। ওখানে ৪টি নদী আছে। দুটি নদী ভেতরমুখী এবং দুটি নদী বাহিরমুখী। আমি বললাম, এ দুটি কি? হে জিবরায়ীল! তিনি বললেন, ভেতরমুখী দুটো জান্নাতের মধ্যকার নদী। আর বাহিরমুখী দু’টি (মিসরের) নীল এবং (ইরাকের) ফোরাত নদী। তারপর আমার জন্য বাইতুল মা’মূরকে তোলা হল। তারপর আমার কাছে কতিপয় পাত্র আনা হল- মদের পাত্র ও দুধের পাত্র এবং মধুর পাত্র। আমি দুধটাকে গ্রহণ করলাম। জিবরীল বললেন, এটাই তো প্রকৃত স্বভাব যার উপরে আপনি আছেন এবং আপনার উম্মতও আছেন (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত, ৫২৭পৃষ্ঠা)
দলিল নং- ৭
আমি আসমানে বাইতুল মামুরে পিট ঠেকিয়ে সুন্দরতম পুরুষের বেশে আমাদের বংশ পিতা হযরত ইবরাহীমকে দেখলাম। তার সঙ্গে কিছু লোকও ছিল। আত:পর আমি তঁাকে সালাম দিলাম। তিনিও আমাকে সালাম দিলেন। অতঃপর আমি আমার উম্মতকে দু’টি দলে দেখলাম। একটি ভাগ এমন যাদের দেহে সাদা কাপড় রয়েছে। তারা যেন কাগজের মত। আর একটি ভাগ এমন যাদের দেহে ছাইরং কাপড় রয়েছে। অত:পর আমি বাইতুল মামূরে প্রবেশ করলাম। (বাইহাকীর দালা-য়িলুন নুবুওঅহ্, ২য় খন্ড ১৩৯ পৃষ্ঠা)
দলিল নং- ৮
হযরত মূসা (আ:) ও অন্যান্য আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দ তঁাদের মাযার-রওযায় জীবিতাবস্থায় বর্তমান হযরত আনাস বিন মালেক (রা:) বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর হাদীস, যিনি বলেন: “আমি আগমন করি”; আর হযরত হাদ্দিব (রা:)-এর বর্ণনায় হাদীসের কথাগুলো ছিল এ রকম – “মে’রাজ রজনীতে ভ্রমণের সময় আমি লাল টিলার সন্নিকটে হযরত মূসা (আ:)-কে অতিক্রমকালে তঁাকে তঁার রওযা শরীফে নামায আদায়রত অবস্থায় দেখতে পাই। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৫৮)
দলিল নং- ৯
সুনান বাজজারে সহি সনদে বর্ণিত হাদিস আল্লাহর হাবিব এরশাদ করেন উনার সাহাবিদেরকে, আমার ওফাতের পর তোমরা বিলাপ করে কেদোনা। কেননা আমি রাসুল সবার মত মারা যাবোনা। আমি রাসুল রওজা শরিফ হতে তোমাদের আমল দেখতে পাবো । যখন দেখব তোমরা ভালো কাজ করছো তখন আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবো আর যখন দেখবো তোমরা খারাপ কাজ করছো তখন আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবো হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন- নবীরা কবরে জীবিত, আর তারা সেখানে নামায পড়েন । (মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীসনং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫,) মুসলমানদের আকিদা হচ্ছে-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলমে বরযখে নিজ কবর মুবারকে স্বশরীরে জীবিত আছেন। তাইতো কোনো মুসলমান দূর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠৃ করলে সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে তা ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট পেঁৗছানো হয় এবং তিনি তাগ্রহণ করেন। এছাড়া কেউ রওযা মুবারকের নিকট এসে সালাত ও সালাম পাঠকরলে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সরাসরি শুনতে পান।
( সহিহ মুসলিম, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৭৮/ সুনানু বাইহাকি, হাদিস: ১৫৮৩)
দলিল নং-১০
হযরত আবূ হোরায়রা (রা:)-এর সূত্রে বর্ণিত; মহানবী (দ:) এরশাদ ফরমান: “আমি নিজেকে ’হিজর’-এর মধ্যে পেলাম এবং কোরাইশ গোত্র আমাকে মে’রাজের রাতের ভ্রমণ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিল। আমাকে বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়, যা আমার স্মৃতিতে রক্ষিত ছিল না। এতে আমি পেরেশানগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম; এমন পর্যায়ের পেরেশানির মুখোমুখি ইতিপূর্বে কখনো-ই হই নি। অতঃপর আল্লাহ পাক বায়তুল মাকদিসকে আমার চোখের সামনে মেলে ধরেন। আমি তখন এর দিকে তাকিয়ে তারা (কুরাইশবর্গ) যা যা প্রশ্ন করছিল সবগুলোরই উত্তর দেই। আমি ওই সময় আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দের জমায়েতে নিজেকে দেখতে পাই। আমি হযরত মূসা (আ:) কে নামায পড়তে দেখি। তিনি দেখতে সুদর্শন (সুঠাম দেহের অধিকারী) ছিলেন, যেন শানু’য়া গোত্রের কোনো পুরুষ। আমি মরিয়ম তনয় ঈসা মসীহ (আ:)-কে দেখি নামায আদায় করতে; সকল মানবের মাঝে তঁার (চেহারার) সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য হলো উরওয়া ইবনে মাস’উদ আস্ সাকাফী (রা:)-এর সাথে। আমি হযরত ইবরাহীম (আ:)-কেও সালাত আদায় করতে দেখি; মানুষের মাঝে তঁার (চেহারার) সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য হলো তোমাদের সাথী (মহানবী স্বয়ং)-এর সাথে। নামাযের সময় হলে পরে আমি তাতে ইমামতি করি। নামায শেষে কেউ একজন বল্লেন, ‘এই হলেন মালেক (ফেরেশতা), জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণকারী; তঁাকে সালাম জানান।’ আমি তঁার দিকে ফিরতেই তিনি আমার আগে (আমাকে) সালাম জানান।” (সহীহ মুসলিম, ১ম খণ্ড, হাদীস নং ৩২৮; ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানী (রহ:)-ও এটিকে নিজ ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৮৩ পৃষ্ঠায় সমর্থন দিয়েছেন).
দলিল নং-১১
ইবরাহিম ইবনে শায়বান বলেন: আমি কোনো এক বছর হজ্জ্বে গেলে মদীনা মোনাওয়ারায় মহানবী (দ:)-এর রওযা শরীফে যেয়ারত উদ্দেশ্যে যাই। তঁাকে সালাম জানানোর পরে ’হুজরাহ আস্ সাআদা’র ভেতর থেকে জবাব শুনতে পাই: ‘ওয়া আলাইকুম আস্ সালাম’। (এই বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন মোহাম্মদ ইবনে হিব্বান (রহ:) এর সূত্রে আবূ নু’য়াইম তঁার কৃত ‘আৎ তারগিব’ পুস্তকে; ইবনে আন্ নাজ্জার নিজ ‘আখবার আল-মদীনা’ গ্রন্থে ১৪৬ পৃষ্ঠা। ইবনে জাওযী স্বরচিত ‘মুতিরআল-গারাম’ বইয়ের ৪৮৬-৪৯৮ পৃষ্ঠায়, এটি উদ্ধৃত করেন; আল-ফায়রোযাবাদী এ রেওয়ায়াত তার ‘আল-সিলাত ওয়াল্ বুশর’ পুস্তকে ৫৪ পৃষ্ঠায়, এবং ইবনে তাইমিয়া নিজ ‘এয়াতেদা’ আল-সীরাত আল-মুস্তাকীম’ গ্রন্থের ৩৭৩-৩৭৪ পৃষ্ঠায় এই বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে।)
দলিল নং- ১২
হযরত সাইয়্যেদাহ আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেন: “যে ঘরে মহানবী (দ:) ও আমার পিতা (আবূ বকর – রা:)-কে দাফন করা হয়, সেখানে যখন-ই আমি প্রবেশ করেছি, তখন আমার মাথা থেকে পর্দা সরিয়ে ফেলেছি এই ভেবে যে আমি যঁাদের যেয়ারতে এসেছি তঁাদের একজন আমার পিতা ও অপরজন আমার স্বামী। কিন্তু আল্লাহর নামে শপথ! যখন হযরত উমর ফারূক (রা:) ওই ঘরে দাফন হলেন, তখন থেকে আমি আর কখনোই ওখানে পর্দা না করে প্রবেশ করি নি; আমি হযরত উমর (রা:) এর প্রতি লজ্জার কারণেই এ রকম করতাম।” (মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২০২ পৃষ্ঠা, হাদীস ২৫৭০১)
দলিল নং- ১৩
হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম এর কবরের জীবন হুবহু জিবীত থাকা সত্য ও হক্ব। ইমাম বাইহাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয় বস্তুর উপর একটি সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার (রহ:) ফতহুল বারী ৬:৩৫২ এবং হাফেজ সাখাবী ‘আল কাওলুল বদী’ এ উক্ত হাদিসকে বিশুদ্ধ সনদ বিশিষ্ট বলেছেন। এছাড়া আল্লামা সাখাবী(রহ:) লিখেন যে- আমরা ঈমান রাখি সত্যায়ন করি যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে জিবীত এবং তঁাকে রিযিক দেয়া হয় এবং তঁার শরীর মোবারক কে মাটি খায়না অর্থাৎ নষ্ট করে না। আর এর উপর উম্মতের ইজমা এবং ইত্তেফাক। (আলকওলুল বদী’- ১২৫)
দলিল নং- ১৪
হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সংগী সাথীরা যখন ফিরে আসতে থাকে, সাথীরা জুতার আওয়াজ শোনা যায় এমন দূরত্বে চলে আসে এমন সময় দুজন ফেরেশতা তার কবরে আগমন করে। উক্ত ব্যক্তিকে বসিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারনা কি। যদি লোকটি ঈমানদার হয় তখন সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। এ কথা বলার পর ফেরেশতাদ্বয় তখন তাকে বলে, হে বান্দা তুমি তোমার দোযখের ঠিকানাটা দেখে নাও। তোমার এ সাক্ষীর কারণে মহান আল্লাহ পাক তোমার দোযখের ঠিকানাটাকে বেহেশতের ঠিকানায় পরিণত করে দিয়েছেন। তখন সে ব্যক্তি উভয় ঠিকানাই দেখেতে পাবে। তার কবরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে। আর মৃত্যু ব্যক্তি যদি মুনাফিক অথবা কাফের হয় ।তখন তাকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) দেখিয়ে বলা হবে এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি। উত্তরে তখন সে বলবে, আমিতো তার সম্পর্কে কিছুই জানি না লোকেরা তার সম্পর্কে যা সব বলত আমিও তাই বলতাম। তখন উক্তি ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলবে তুমি তাকে জানতেও চাও নাই অথবা পড়েও দেখ নাই । অত’পর লোহার হাতুড়ী দ্বারা তাকে এমন ভাবে প্রহার করা হবে যে, প্রহারের আঘাতে সে এমন ভাবে চিৎকার করতে থাকবে। জ্বিন ও মানুষ ছাড়া এই চিতকার সবাই শুনতে পারে। (বোখারী শরীফ, হাদিস নং -১২৫৭ ই.ফা)
দলিল নং- ১৫
হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত মহানবী (দ;) এরশাদ করেন যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখল সেই অচিরেই জাগ্রত অবস্থাতে আমাকে দেখতে পাবে ,শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারেন না । (সহীহ বোখারী শরিফ -হাদিস নং -৬৫৯২)
দলিল নং- ১৬
হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে?
উত্তরে তিনি বললেন-হ্যঁা!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯)
দলিল নং- ১৭
আবূ ইয়ালার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে ও ইমাম বায়হাকী (রহ:)-এর ‘হায়াত আল-আম্বিয়া’ পুস্তকে হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত আছে যে নবী করীম (দ:) এরশাদ ফরমান: ‘আম্বিয়া (আ:) তঁাদের মাযার-রওযায় জীবিত আছেন এবং তঁারা (সেখানে) সালাত আদায় করেন’।” (ইমাম সুয়ুতী কৃত ‘আল-হাওয়ী লিল্ ফাতাউইয়ী’, ২য় খণ্ড, ২৬৪ পৃষ্ঠা) ইমাম হায়তামী (রহ:) ওপরে বর্ণিত সর্বশেষ হাদীস সম্পর্কে বলেন, “আবূ ইয়ালা ও বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন
এবং আবূ ইয়ালার এসনাদে সকল বর্ণনাকারী-ই আস্থাভাজন।” ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানী (রহ:)-ও এই রেওয়ায়েতকে সমর্থন দিয়েছেন নিজ ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৮৩ পৃষ্ঠায়। কাদিমী কুতুবখানা সংস্করণের ৬০২-৬০৩ পৃষ্ঠায়) সুতরাং কোরআন এবং সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে নবীগন জীবিত, অস্কীকারকারী মুসলমানদের মধ্যে অন্তরভুক্ত নয়। সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! নবী করীম ﷺ-এর মুবারক জন্ম সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য মহান নিয়ামত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “আপনি বলে দিন, আল্লাহর দয়া ও তঁার রহমতের ওপরই তারা যেন আনন্দিত হয়।”(সূরা ইউনুস, ৫৮)
যে ব্যক্তি এ মহান নিয়ামত হুযূর আকরাম ﷺ-এর জন্ম মুবারকের সময় আনন্দ প্রকাশ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে মহান প্রতিদান ও বিপুল সওয়াব দান করেন। সহীহ বুখারী শরীফ এবং অন্যান্য বহু কিতাবে কিছুটা শব্দের পার্থক্যসহ এই ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সহীহ বুখারী শরীফ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৬৪ এর বর্ণনায় রয়েছে: “হযরত উরওয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সুওইবা ছিলেন আবু লাহাবের দাসী। আবু লাহাব তাকে মুক্ত করে দিয়েছিল। তিনি নবী পাক (সাঃ)-কে দুধ পান করিয়েছিলেন। আবু লাহাব মারা যাওয়ার পর তার পরিবারের কোনো একজন তাকে স্বপ্নে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় দেখল। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, “তুমি কী পেয়েছ?” আবু লাহাব বলল, “তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আমি কোনো শান্তি পাইনি; তবে সুওইবাকে মুক্ত করার কারণে এই আঙুল দিয়ে আমাকে পানি পান করানো হয়।” (সহীহ বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৬৪, হাদীস নং ৪৭১১)
সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখ তঁাদের শরহে অন্যান্য হাদীসগ্রন্থের বরাতে বিস্তারিত ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী উমদাতুল কারী, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪৫-এ লিখেছেন:
সুহাইলী উল্লেখ করেছেন যে, হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন: “আবু লাহাব মারা যাওয়ার এক বছর পর আমি তাকে স্বপ্নে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় দেখলাম। সে বলল, ‘তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আমি কোনো আরাম পাইনি; তবে প্রতি সোমবার আমার আজাব হালকা করা হয়।’” তিনি বলেন, এর কারণ হলো, নবী (সাঃ) সোমবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সুওইবা আবু লাহাবকে তঁার জন্মের সুসংবাদ দিয়েছিল। তখন আবু লাহাব তাকে মুক্ত করে দিয়েছিল।
(উমদাতুল কারী, কিতাবুন নিকাহ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৪৫)
এই বর্ণনাটি বিভিন্ন শব্দে নিম্নোক্ত কিতাবগুলোতেও উল্লেখ হয়েছে: আস-সুনানুল কুবরা, ইমাম বায়হাকী মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক
জামে‘উল আহাদীস ওয়াল মারাসীল কানযুল উম্মাল হাফেয ইবনে নাসিরুদ্দীন দামেশকী রহমাতুল্লাহি আলাইহির বক্তব্য সালেহীন পূর্বসূরি ও উম্মতের আলেমদের মধ্যে হাফেয শামসুদ্দীন ইবনুল জাযারী এবং হাফেয শামসুদ্দীন ইবনে নাসিরুদ্দীন দামেশকী নবী করীম (সাঃ)-এর জন্মের সময় আনন্দ ও খুশি প্রকাশের পক্ষে এই ঘটনা দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন।
হাফেয শামসুদ্দীন ইবনে নাসিরুদ্দীন রহঃ বলেছেন, “এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী করীম (সাঃ)-এর জন্মে আনন্দিত হয়ে সুওইবাকে মুক্ত করার কারণে আবু লাহাবের জাহান্নামের আজাব সোমবারের দিনে হালকা করা হয়।” এরপর তিনি কবিতা পাঠ করেন। তার মর্মার্থ: “যে ব্যক্তি কাফির, যার নিন্দায় সূরা লাহাব নাযিল হয়েছে এবং যে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে-সে যখন আহমদে মুজতবা (সাঃ)-এর মিলাদে আনন্দিত হওয়ার কারণে প্রতি সোমবার তার আজাব হালকা হওয়ার উপকার পায়, তাহলে সেই ব্যক্তির কী পরিমাণ সওয়াব হবে, যে সারাজীবন আহমদে মুজতবা (সাঃ)- এর মিলাদের আনন্দ প্রকাশ করেছে এবং ঈমানের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে!” (শরহুল মাওয়াহিব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬১; সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬৭)
ইবনে আবদুল ওয়াহহাব নজদীর পুত্র শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব তঁার “মুখতাসার সীরাত রাসুল ” গ্রন্থে লিখেছেন: “আবু লাহাবের মুক্ত করা দাসী সুওইবা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে দুধ পান করিয়েছিলেন। আবু লাহাব তাকে তখন মুক্ত করেছিল, যখন সে তাকে তঁার ﷺ জন্মের সুসংবাদ দিয়েছিল। আবু লাহাব মৃত্যুর পর তাকে স্বপ্নে দেখা গেল। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘তোমার অবস্থা কী?’ সে বলল, ‘আমি আগুনের আজাবে আছি; তবে প্রতি সোমবার আমার আজাব হালকা করা হয় এবং আমি এই দুই আঙুলের মধ্য থেকে পানি চুষে পান করি।’ সে তার আঙুলের মাথার দিকে ইশারা করল। ‘আর এটি এজন্য যে, যখন সুওইবা আমাকে নবী (সাঃ)-এর জন্মের সুসংবাদ দিয়েছিল এবং তঁাকে দুধ পান করিয়েছিল, তখন আমি তাকে মুক্ত করেছিলাম।’” এরপর শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব মিলাদের পক্ষে ইবনে জাওযীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন: ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন:
“যখন আবু লাহাবের মতো কাফির—যার নিন্দায় কুরআনে একটি সূরা নাযিল হয়েছে—নবী (সাঃ)এর জন্মের রাতে আনন্দিত হওয়ার কারণে প্রতিদান লাভ করে, তাহলে তঁার উম্মতের সেই মুসলমান তাওহীদবাদীর কী অবস্থা হবে, যে তঁার জন্মে আনন্দিত হয়?”
হাফেযুল হাদীস আল্লামা ইবনুল জাযারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: “যখন আবু লাহাবের মতো কাফির—যার নিন্দায় কুরআন পাক নাযিল হয়েছে—রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্মের আনন্দের কারণে ভালো প্রতিদান লাভ করেছে, তখন নবী করীম ﷺ-এর উম্মতের সেই মুসলমান মুওয়াহ্হিদের কী অবস্থা হবে, যে রাসূল (সাঃ)-এর জন্মের আনন্দ প্রকাশ করে এবং তঁার ভালোবাসায় নিজের সামথর্য অনুযায়ী সম্পদ ব্যয় করে?” তিনি আরও বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তঁার মহান অনুগ্রহে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭)
ইমাম ইবনে জাওযী জলীলুল কদর মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনে জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: “যখন আবু লাহাব কাফির—যার নিন্দা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে—আপনি রাসুল (সাঃ)-এর জন্মে আনন্দিত হওয়ার কারণে এই অবস্থায় রয়েছে, তাহলে সেই মুসলমান মুওয়াহ্হিদের কী বলা যায়, যে আপনি রাসুল (সাঃ)-এর জন্মে আনন্দিত ও প্রফুল্ল?”
(বয়ানুল মাওলিদুন নববী, পৃষ্ঠা ৭০; সূত্র হিসেবে উদ্ধৃত: মুখতাসার সীরাতুর রাসূল, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব নজদী)
মিলাদুন্নবী (সাঃ)-এর আনন্দ প্রকাশ করা পূর্ববর্তী আলেমদের কাছে পছন্দনীয় আমল ছিল। লেখক : খতিব, হযরত মাদ্দাহ খঁা (র.) জামে মসজিদ, আলীগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, চঁাদপুর।








