প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৩
উচ্ছেদে নিঃস্ব মহামায়া বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, পুনর্বাসনের দাবি

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মহামায়া বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
|আরো খবর
অভিযানে মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট ও স্থাপনা এক্সাভেটর (ভেকু) দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের পর চরম বিপাকে পড়েছেন মহামায়া বাজারের অনেক ক্ষুদ্র ও ফুটপাত ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো ব্যবসা করে পরিবার পরিচালনা করে আসা এসব ব্যবসায়ী দোকান হারিয়ে এখন দিশেহারা।
উচ্ছেদের সময় অনেক ব্যবসায়ীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তাদের ভাষ্য, ছোট একটি দোকানই ছিলো পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন। সেটি হারিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, “এই ছোট ব্যবসাটুকুই ছিলো আমাদের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল। এটি দিয়েই সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতাম। দোকান ভেঙে দেওয়ার পর এখন আমরা পথের ফকির হয়ে গেছি। সামনে কীভাবে সংসার চালাবো, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
তারা আরও বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাজের বিরোধিতা করছি না। মহাসড়ক ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা প্রয়োজন—সেটি আমরা বুঝি। কিন্তু আমাদেরও তো বাঁচতে হবে। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, কোনো খাস বা সরকারি জায়গায় আমাদের জন্যে বিকল্প ব্যবসার ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারবো।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারি জায়গা মুক্ত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা উচিত। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে তাদের জন্যে বিকল্প বাজার বা দোকানের ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন সরকারি জায়গা দখলমুক্ত থাকবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও জীবিকার সন্ধান পাবেন।
উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সওজের জায়গা দখলমুক্ত হলেও ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত তাদের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।







