প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৪
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়
হুজুরের দেহতত্ত্ব
নূরে মোহাম্মদীর (দ.) স্থানান্তর : আদম (আ.)-এঁর ললাটে

হযরত আদম (আঃ)-এর দেহ পৃথিবীর মাটি দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে। বিবি হাওয়া (আঃ) হযরত আদম (আঃ)-এঁর বাম পাঁজরের হাড় দ্বারা পয়দা হয়েছেন। হযরত ঈসা (আঃ) শুধু রূহের দ্বারা পয়দা হয়েছেন। সাধারণ মানব সন্তান পিতা-মাতার মিলিত বীর্যের নির্যাস তথা শুক্রাণু থেকে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রিয় নবী ও আল্লাহর প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দঃ) আল্লাহর নূর হতে পয়দা হয়েছেন। কোরআন ও হাদীসের দ্বারাই এ সত্য প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং “সকল মানুষই মাটির সৃষ্টি”- এরূপ দাবি করা গোমরাহী ছাড়া আর কিছুই নয়। (”মিন্হা খালাক্নাকুম” আয়াতের ব্যাখ্যা দেখুন।)
পৃথিবীর চল্লিশ হাজার বছরের সমান ঐ জগতের চল্লিশ দিনে হযরত আদম (আঃ) -এঁর খামিরা শুকানো হয়েছিল। তারপর হযরত আদম (আঃ) -এঁর দেহে রূহ্ ফুঁকে দেয়া হয়েছে। বর্ণিত আছে- প্রথমে আদম (আঃ)-এঁর অন্ধকার দেহে রূহ প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ললাটে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দঃ) -এঁর নূর মোবারকের অংশবিশেষ স্থাপন করা হয় এবং এতে দেহের ভিতর আলোর সৃষ্টি হয়। তখনই আদম (আঃ) মানবরূপ ধারণ করেন এবং হাঁচি দিয়ে “আল্হামদুলিল্লাহ” পাঠ করেন। আমাদের প্রিয় নবী (দঃ)ও সৃষ্টি হয়েই প্রথমে পাঠ করেছিলেন “আল্হামদুলিল্লাহ”। তাই আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির প্রথম প্রতিনিধি হযরত আদম (আঃ) এবং বিশ্বজগতের প্রতিনিধি হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দঃ) -এঁর প্রথম কালাম “আল্হামদুলিল্লাহ” দিয়ে কোরআন মজিদ শুরু করেছেন (তাফসীরে নঈমী)।
এভাবে ঐ জগতের এক হাজার আট কোটি বৎসর পর মুহাম্মদী নূর হযরত আদম (আঃ) -এঁর দেহে স্থানান্তরিত হয়। প্রথমে ললাটে, তারপর ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলীতে এবং পরে পৃষ্ঠদেশে সেই নূরে মোহাম্মদী (দঃ) কে স্থাপন করা হয়। এরপর জান্নাতে, তারপর দুনিয়াতে পাঠানো হয় সে নূরকে। ১০৬ মোকাম পাড়ি দিয়ে তিনি অবশেষে মা আমেনার উদর হতে মানব সূরতে ধরাধামে আত্মপ্রকাশ করেন। (১০৬ মাকামের বর্ণনা সুন্নীবার্তা মীলাদুন্নবী সংখ্যায় দেখুন)।
হযরত আদম (আঃ) কে বলা হয় প্রথম বাশার অর্থাৎ প্রকাশ্য দেহধারী মানুষ। এর পূর্বে কোনো বাশার ছিল না। আমাদের প্রিয় নবী (দঃ) তো হযরত আদম (আঃ) -এঁর সৃষ্টির লক্ষ-কোটি বৎসর পূর্বেই পয়দা হয়েছিলেন। তখন তিনি বাশারী সুরতে ছিলেন না এবং তাঁর নামও বাশার ছিল না। তাঁর বাশারী সুরত প্রকাশ হয়েছে দুনিয়াতে এসে। এটা উপলব্ধি করা এবং হৃদয়ঙ্গম করা ঈমানদারের কাজ- (জাআল হক- বাশার প্রসঙ্গ)। তাই তাঁকে “ইয়া বাশারু” বলে ডাকা হারাম (১৮ পারা)।
হযরত আদম (আঃ) -এঁর সৃষ্টির পূর্বে নবীজী ছিলেন মোজাররাদ এবং নবী খেতাবে ভূষিত- (মাওয়াহেব ও মাদারেজ)। মৌলুদে বরজিঞ্জি নামক বিখ্যাত আরবি কিতাবের লেখক ইমাম ও মোজতাহেদ আল্লামা জাফর বরজিঞ্জি মাদানী (রঃ) লিখেন- “যখন আল্লাহ তায়ালা হাকিকতে মুহাম্মদী প্রকাশ করার ইচ্ছে করলেন-তখন হযরত আদম (আঃ) কে পয়দা করলেন এবং তাঁর ললাটে হযরত মুহাম্মদ (দঃ) -এঁর পবিত্র নূর স্থাপন করলেন।” আহ্সানুল মাওয়ায়েয কিতাবে উল্লেখ আছে, একদিন আল্লাহর কাছে হযরত আদম (আঃ) নূরে মুহাম্মদী (দঃ) দর্শনের জন্য প্রার্থনা করলেন। তখন আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আঃ) -এঁর ডান হাতের শাহাদাত অঙ্গুলীর মাথায় নূরে মুহাম্মদী প্রদর্শন করালেন। মধ্যমা আঙ্গুলীতে হযরত আবু বকর, অনামিকায় হযরত ওমর, কনিষ্ঠায় হযরত ওসমান ও বৃদ্ধাঙ্গুলীতে হযরত আলী (রঃ) , এই সাহাবী চতুষ্ঠয়ের দেদীপ্যমান নূরও প্রদর্শন করালেন। অতঃপর সেই নূর স্থাপন করলেন হযরত আদম (আঃ) -এঁর পৃষ্ঠদেশে, যাঁর দেদীপ্যমান ঝলক চমকাতো তাঁর ললাটে। আল্লামা ইউসুফ নাবহানীর আনওয়ারে মুহাম্মদী নামক জীবনী গ্রন্থে’র ১৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-“যখন আল্লাহ তায়ালা হযরত আদমকে পয়দা করলেন, তখন ঐ নূরে মুহাম্মদী (দঃ) তাঁর পৃষ্ঠে স্থাপন করলেন। সে নূর তাঁর ললাটদেশে চমকাতো।” (চলবে)
সূত্র : নূরনবী, লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (রঃ)।







