প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮
চাঁদপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সওজের জায়গা দখল! খাল ভরাটে বাড়ছে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন চাঁদপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জায়গা দখল করে দোকানঘরসহ নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সড়কের পাশের ছোট ছোট খালগুলো ভরাট করে ফেলার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে মহাসড়কের পাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ করায় সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
|আরো খবর
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ধানুয়া, প্রত্যাশী, ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা ও খেজুরতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশের জায়গায় দোকানঘর ও নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা গড়ে উঠলেও তা বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে সওজের জায়গা অপব্যবহারের কারণে অনেক স্থানে সড়কের পাশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং রাস্তার অর্ধেকজুড়ে পানি জমে থাকছে। ফলে সড়ক দ্রুত ভেঙে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এদিকে খেজুরতলা এলাকায় সড়কের পাশের একটি খাল বালু দিয়ে ভরাট করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, পারভেজ নামের এক ব্যক্তি এ কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খালটি ভরাট করা হলে আশপাশের তিন থেকে চারটি বাড়ির পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দেবে তীব্র জলাবদ্ধতা। স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগেও অল্প বৃষ্টিতে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিলো। তাই খাল ভরাট বন্ধ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা এখনই বন্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে দখলের পরিমাণ আরও বাড়বে। তারা মহাসড়কের পাশে সওজের সরকারি সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ, দখল হওয়া জায়গা চিহ্নিতকরণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়রা আরও জানান, সরকারি জায়গা রক্ষার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের খাল ও নালা দখল বা ভরাটের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। এতে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগও কমবে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সরকারি সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








