প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫
এসব কি ট্রাফিক পুলিশের উদাসীনতা না অন্য কিছু?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ২-৩দিন সরগরম চঁাদপুর শহরে ভুয়া ট্রাফিক পুলিশ নিয়ে। এটা নিয়ে গতকাল চঁাদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে যে সংবাদ, তাতে লিখা হয়েছে, ট্রাফিক পুলিশের পোশাক পরে বা পরিচয় দেখিয়ে সড়কে যানবাহনকে দাবড়ানি দিতো। নিরীহ চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করতো। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে চঁাদপুরে। শেষ পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশা ও অটোবাইক চালকদের তৎপরতায় ধরা পড়ে এক ভুয়া ট্রাফিক পুলিশ। আটক এই প্রতারকের নাম সুমন গাজী, বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলায়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুমন গাজী দীর্ঘদিন ধরে চঁাদপুর শহরের পালবাজার ব্রীজ চত্বর এলাকায় অবস্থান করে নিজেকে ট্রাফিক পুলিশ পরিচয় দিয়ে সিএনজি ও অটোরিকশা থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো।
ঘটনার দিন মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) লোকজন তাকে চ্যালেঞ্জ করলে প্রথমে সে নিজেকে ট্রাফিক পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে আবার নিরাপদ সড়কের সদস্য বলেও দাবি করে। তবে টাকা নেয়ায় চালকদের সন্দেহ হলে তারা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে ডোপ টেস্ট করে। পরীক্ষায় সে মাদকসেবী বলে প্রমাণিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, অসহায় নিরীহ মানুষ ও চালকদের কাছ থেকে চঁাদাবাজির মাধ্যমে আদায় করা টাকায় সে মাদক সেবন করতো। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, কেউ যদি পুলিশের পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে টাকা দাবি করে, তাহলে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত।
চঁাদপুর সদর মডেল থানার পাথর নিক্ষেপ দূরত্বে অবস্থিত পালবাজার ব্রীজ চত্বর। সেখানে ভুয়া ট্রাফিক পুলিশের চঁাদাবাজি চললো, ট্রাফিক পুলিশ ও মডেল থানা পুলিশের কেউই তাকে ধরতে পারলো না। তাকে সাহস করে ধরলো অটোরিকশা ও অটোবাইক চালকরা। চঁাদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে আইদি পরিবহনের রেজিস্ট্রেশনবিহীন বাস চলে। ট্রাফিক পুলিশ ধরতে পারে না। অথচ সেটা ধরেন গণমাধ্যম কর্মীরা এবং সেটা একের পর এক প্রকাশিত হয় সংবাদ আকারে। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে সে ব্যাপারে কোনো ফলোআপ নেই। এসব ঘটনায় চঁাদপুরের ট্রাফিক পুলিশকে কি সচেতন ভাবা যায়? জনবল সঙ্কটের কথা বলে ট্রাফিক পুলিশ দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করে। এই সঙ্কটে তাদের উদাসীনতাকে যদি মেনে নেয়ার যৌক্তিকতা কেউ দেখায়, সেটা কি আদৌ গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
চঁাদপুর শহরে যানজট সমস্যাহেতু ঈদ-পূজার সময় স্কাউট, ক্লীন চঁাদপুর, নিরাপদ সড়ক চাই কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের সদস্যরা এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে জনবল ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কাজ করে। ঈদ-পূজা ছাড়াও সপ্তাহের পঁাচদিন অফিস চলাকালে পৌরসভার কর্মচারীরা ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতার জন্যে কাজ করে। এদের মধ্যে কে সঠিক, কে ভুয়া সেটা জানার কাজটা কিন্তু ট্রাফিক পুলিশকেই করতে হবে। কিন্তু সেটা খুব নিবিড়ভাবে করা হচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে। তার প্রমাণ সড়কে ভুয়া ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি এবং চঁাদাবাজি। আমরা চঁাদপুর শহরে ট্রাফিক পুলিশের জনবল সঙ্কট নিরসন করে তাদের ডিউটি চাহিদা অনুযায়ী যথার্থ করার ওপর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি। নতুবা সড়কে সহযোগিতার নামে ভুয়া ট্রাফিক পুলিশ ও চঁাদাবাজি ঠেকানো যাবে বলে মনে হচ্ছে না। যেহেতু ট্রাফিক পুলিশের জনবল সঙ্কটের পাশাপাশি সচেতনতা ও তীক্ষ্ণ নজরদারির সঙ্কটও রয়েছে। আর তাদের প্রমাণিত উদাসীনতা রয়েছে। এ উদাসীনতা কি অর্থপূর্ণ কারণে দেখেও না দেখার ভান করা থেকে সৃষ্ট, না অন্য কিছু?








