প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ০০:৪৮
রামগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরীর লাশ হাজীগঞ্জে উদ্ধার
ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে

হাজীগঞ্জে স্কচ টেপ দিয়ে পিছমোড়া করে বাঁধা অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই লাশের পরিচয়সহ হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যা রহস্য উদঘাটন করা হলেও সাদা রংয়ের একটি মাইক্রোবাস এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু। হত্যার শিকার ফরিদ (৪৮) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ পৌর এলাকার মিজি বাড়ির বাসিন্দা। তিনি শাহজাহান মিজি ও রোকেয়া বেগম দম্পতির সন্তান। তিনি রামগঞ্জ বাজারে নৈশ প্রহরী (নাইট গার্ড)-এর কাজ করতেন। নিহত ফরিদের পরিচয় তার জাতীয় পরিচয়পত্র এর সূত্র ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
|আরো খবর
ক্যাপশন: হাজীগঞ্জে রাস্তার পাশের ঝোপে রামগঞ্জ বাজারের নৈশ প্রহরী ফরিদের লাশ।
জানা যায় , গত শুক্রবার (১ মে ২০২৬) দিনগত রাতের কোনো এক সময় রামগঞ্জ পাট বাজারের নিউ আপন জুয়েলার্সে ডাকাতি র ঘটনা ঘটে।
এদিকে শনিবার (২ মে ২০২৬) সকাল ১১ টার দিকে হাজীগঞ্জের রান্ধুনীমুড়া মুন্সী বাড়ির সামনে ঝোঁপের ভেতর থেকে পিছমোড়া করে হাত-পা ও মুখে স্কচ টেপে বাঁধা অজ্ঞাত লাশ পড়ে আছে এমন খবরে ঘটনাস্থলে ছুটে যান হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকুর চাকমা ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি পিবিআই, সিআইডি র একাধিক টিম কাজ শুরু করে। এ কাজের সূত্রে ঘটনাস্থলের সকল সড়ক ও তৎসংলগ্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা শুরু করে পুলিশ সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাপশন: লাশের সুরতহাল করছে পুলিশ। ইনসেটে ফাইল ছবি।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩ টা ২৫ মিনিটে একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাস রামগঞ্জের দিক থেকে এসে হাজীগঞ্জের রান্ধুনীমুড়া মুন্সী বাড়ির সামনে একটু সময়ের জন্যে থামে। এর খানিকটা সময় পরে মাইক্রোবাসটি আরেকটু সামনে এগিয়ে একটি ঝোপের পাশে থামে। সকাল বেলা এ ঝোপের মধ্যেই লাশের সন্ধান পায় স্থানীয়রা।
লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মুন্সী বাড়ির মঞ্জু মুন্সী জানান, সকালে আমরা লোকমুখে শুনে বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি, ঝোঁপের মধ্যে একজন লোক পড়ে রয়েছে। তার হাত, পা ও মুখ স্কচ টেপে প্যাঁচানো ছিলো। এর পরেই আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ আসে। আমার দেখামতে লোকটি আমাদের এ দিকের কেউ না। আমরা ধারণা করি, অন্য কোনো স্থান থেকে এনে ফেলা হয়েছে।
ক্যাপশন:রামগঞ্জ বাজারের এই স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় বাজারের নৈশ প্রহরী ফরিদকে ডাকাতরা হত্যা করে হাজীগঞ্জে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। ছবি : মো. মাসুদ রানা মনি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, রাস্তার পাশে হাত-পা বাঁধা মৃতদেহ দেখে স্থানীয়দের দেয়া খবরে ঘটনাস্থলে আসি। এর পরেই আমরা তদন্তে নামি। তদন্তে অনেকখানি এগিয়েছি। প্রথমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি, আর জানতে পেরেছি রামগঞ্জের একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়েছে। আর নিহত ব্যক্তি ঐ দোকানের নৈশ প্রহরীর কাজ করতেন। এখন আমরা হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ করছি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) থেকে চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিনিধি মো. মাসুদ রানা মনি জানান, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ডাকাতি করার সময় বাধা দেওয়ায় নৈশ প্রহরীকে হত্যা করে একটি স্বর্ণের দোকানের সার্টারের তালা ভেঙে সিন্দুক লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতরা। আর নৈশ প্রহরী ফরিদের (৪৪) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে হাজীগঞ্জে ফেলে রাখা হয়।
শুক্রবার (১ মে ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টায় রামগঞ্জ পৌর শহরের পাটবাজারে নিউ আপন জুয়েলার্স শিল্পালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে নৈশ প্রহরী ফরিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ফরিদ রামগঞ্জ পৌরসভার মিজি বাড়ির মো. শাহাজাহানের ছেলে। তিনি রামগঞ্জ বাজারে নৈশ প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রামগঞ্জ পুলিশ বক্স থেকে পাটবাজার পর্যন্ত তার দায়িত্বাধীন এলাকা ছিলো।
বাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা জানায়, এটি চুরি নয়, ডাকাতির ঘটনা। সাদা মাইক্রো নিয়ে তারা ডাকাতি করতে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় ফরিদকে ধরে নিয়ে যায়৷ পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রূপন শীল বলেন, আমি ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে কোনোরকম ডালভাত খাই। আমার অঢেল টাকা নেই। ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না। আমার দোকানের সার্টারের তালা ভেঙ্গে সিন্দুক সহ সব নিয়ে গেছে। ডাকাত দল আমার স্বর্ণ ও রূপার অলংকারসহ সিন্দুকটি নিয়ে গেছে। আমাকে শেষ করে দিয়ে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক ইমারত হোসেন বলেন, সকালে অজ্ঞাত হিসেবে ফরিদের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তার বাড়ি রামগঞ্জে। নিহতের পরিবারকে হাজীগঞ্জ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চুরির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কতো টাকার মালামাল চুরি হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদের লাশ উদ্ধার নিয়ে থানার ওসি বলেন, হাজীগঞ্জে রাস্তার পাশ থেকে ফরিদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে শুনেছি। সেখানে তার ময়নাতদন্ত হবে। সেখানে মামলা হবে। এছাড়া আমরা বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ











