প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ১০:৫৬
হজযাত্রীরা উড়োজাহাজে নামাজ পড়বেন যেভাবে

অন্যান্য সময়ের মতো আকাশপথে ভ্রমণের সময়ও পঁাচ ওয়াক্ত নামাজের সময় হলে নামাজ আদায় করা ফরজ। হজের উদ্দেশ্যে আকাশপথে যারা সৌদি আরবে যাবেন, নামাজের সময়সূচি দেখে উড়োজাহাজে ওঠার আগে বা উড়োজাহাজ অবতরণের পর ওয়াক্তের মধ্যে নামাজ আদায় করা সম্ভব হলে আগে বা পরে নামাজ আদায় করে নিন। কিন্তু যদি নামাজের ওয়াক্তের পুরোটাই বিমানে অতিবাহিত হয়, তাহলে উড়োজাহাজেই নামাজ আদায় করুন।
উড়োজাহাজে যদি নামাজের জায়গা থাকে এবং কিবলামুখী হয়ে, দঁাড়িয়ে, রুকু ও সিজদা করে নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়, তাহলে অন্য সময়ের মতই কিবলামুখী হয়ে দঁাড়িয়ে, রুকু ও সিজদা করে নামাজ আদায় করতে হবে।
উড়োজাহাজে যদি দঁাড়িয়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে বসে রুকু-সিজদাসহ নামাজ আদায় করবেন। বিমানে কিবলামুখী হয়ে দঁাড়িয়ে বা বসে রুকু-সিজদাসহ নামাজ আদায় করলে পরবর্তী সময়ে তা পুনরায় পড়তে হবে না।
বিমানে যদি কেবলামুখী হওয়া এবং রুকু ও সিজদা করাও সম্ভব না হয়, তাহলে যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামাজ আদায় করে নেবেন। এ ক্ষেত্রে বিমান থেকে অবতরণের পর সতর্কতামূলক ওই ফরজ নামাজ আবার পড়ে নেবেন।
বিমানে কিবলার দিক নির্ণয়ের জন্য বিমানের তথ্য পরিষেবা বা কম্পাস ব্যবহার করবেন। কাবার বরাবর ওপরের দিকে পুরো বায়ুমণ্ডলই কেবলা। তাই মাটিতে যেভাবে কাবার দিকে ফিরে কিবলামুখী হন, বিমানেও সেভাবেই কাবার দিকে ফিরে কিবলামুখী হবেন, আলাদা কোনো নিয়ম নেই।
হজযাত্রীরা উড়োজাহাজে কসর নামাজ পড়বেন
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের দূরত্ব যেহেতু ৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটারের অনেক বেশি, তাই বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়ার পথে উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় আপনি মুসাফির গণ্য হবেন। তাই আপনাকে নামাজ কসর করতে হবে। অর্থাৎ জোহর, আসর ও ইশার ফরজ নামাজ চার রাকাতের জায়গা দুই রাকাত পড়বেন। ফজর ও মাগরিবের নামাজ যথাক্রমে দুই রাকাত ও তিন রাকাতই পড়বেন।
অনেকে মনে করেন কসর করা ঐচ্ছিকÑএই ধারণা ঠিক নয়। সফর অবস্থায় ইচ্ছাকৃত কসর না করা গুনাহের কাজ। তাই ইচ্ছাকৃত কসর বাদ দিয়ে পূর্ণ নামাজ পড়া যাবে না।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাদের নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানে মুকিম অবস্থায় চার রাকাত ও সফর অবস্থায় দুই রাকাত নামাজ ফরজ করেছেন। (সহিহ মুসলিম: ৬৮৭)
মুসাফির ব্যক্তি যদি ভুল করে চার রাকাত বিশিষ্ট কোনো ফরজ নামাজ কসর না করে চার রাকাতই পড়ে নেয়, তাহলে দেখতে হবে সে দুই রাকাতের পর বৈঠক করেছে কি না, যদি করে থাকে তাহলে তার ওই ফরজ নামায আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম দুরাকাত ফরজ এবং শেষ দুই রাকাত নফল হবে। নামাজের ভেতরেই যদি এ ভুলের কথা মনে পড়ে, তাহলে নামাজ শেষে সাহু সিজদা দিতে হবে। হাসান বসরি (রহ.) বলেন, কোনো মুসাফির ভুলে জোহরের নামাজ চার রাকাত পড়ে ফেললে সাহু সিজদা করবেন। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক: ২/৫৪১)
নামাজের ভেতরে মনে না পড়লে এবং সাহু সিজদা না দিলেও নামাজ হয়ে যাবে। আবার পড়তে হবে না।
আর যদি চার রাকাত বিশিষ্ট কোনো ফরজ নামাজ চার রাকাত পড়ে এবং মাঝের বৈঠকও করতে ভুলে যায়, তাহলে তার ফরজ বাতিল হয়ে ওই নামাজ নফল হয়ে যাবে। তাকে পুনরায় ওই ফরজ নামাজ পড়ে নিতে হবে। (আদ-দুররুল মুখতার: ২/১২৮)
ছবি-
অজুর বিশেষ মাসআলাগুলো জেনে রাখুন
অজু গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অজু ছাড়া নামাজ হয় না। অজু ছাড়া কোরআন শরিফ স্পর্শ করাও জায়েজ নেই। তাই অজু করার নিয়ম-পদ্ধতি ও অজুর বিভিন্ন মাসআলা জেনে রাখা আবশ্যক। এখানে অজুর বিশেষ কিছু মাসআলা উল্লেখ করা হয়েছে। যেগুলো অনেক সময় যারা অজু করেন, তারা অজুর সময় খেয়াল রাখেন না। মাসআলাগুলো হলো-
এক. নখে এমন কোনো বস্তু লেগে থাকলে যার কারণে নখ পর্যন্ত পানি পেঁৗছতে পারবে না, যেমনÑমোম, আঠা ইত্যাদি তাহলে সেগুলো পরিষ্কার করে এমনভাবে ধৌত করতে হবে, যেন সর্বাঙ্গে পানি পেঁৗছে। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৩৬৭)
দুই . নখের ময়লা ইত্যাদি চামড়া পর্যন্ত পানি পেঁৗছতে প্রতিবন্ধক হয় না। (মজমাউজ জাওয়ায়েদ : ১/২৩৮) অর্থাৎ ময়লা যদি এমন মিহি হয়, যার ভেতর দিয়ে পানি পেঁৗছা সম্ভব, এমন অবস্থায় যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে পানি পেঁৗছা সুনিশ্চিত হয়, ততক্ষণ সন্দেহ না করা ভালো।
তিন. সংকীর্ণ আংটিকে যদি নাড়াচড়া করা ছাড়া ভেতরে পানি না পেঁৗছে, তাহলে তা নাড়াচড়া করতে হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪৪৩)
চার. যদি দাড়ি ঘন হয়, তাহলে ঝুলে থাকা পশম ছাড়া দাড়ির উপরিভাগ ধৌত করা ওয়াজিব। (আসার : ১/২০)
পঁাচ. দাড়ি পাতলা হলে দাড়ির ওপরের ভাগ ধৌত করলে হবে না। বরং দাড়ির ভেতরে চামড়া পর্যন্ত পানি পেঁৗছাতে হবে। (ইবনে আবি শায়বা : ১/১৪)
ছয়. দাড়ির ঝুলে থাকা পশমগুলো ধোয়া ও মাসেহ করা ওয়াজিব নয়। (ইবনে আবি শায়বা : ১/১৪)
সাত. ক্ষত স্থানে ধোয়ার কারণে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে ক্ষতস্থানে লাগানো ওষুধের ওপর মসেহ করলেই হবে। (সুনানে কুবরা : ১১২৯)
আট. অজুতে মাথা মাসেহ করার পর যদি কেউ চুল চেঁছে ফেলে, তাহলে পুনরায় মাসেহ করতে হবে না। (আল ফিকহুল ইসলামী : ১/৩৮৪)
নয়. অজু করার পর যদি কেউ নখ কাটে বা মোছ চেঁছে ফেলে, তাহলে পুনরায় সেগুলো ধৌত করতে হবে না। (বুখারি : ১/৩০১








