শুক্রবার, ০১ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ১০:৪৯

জান্নাতুল বাকি মুসলমানদের ঐতিহাসিক কবরস্থান

ড. আব্দুস সাত্তার
জান্নাতুল বাকি মুসলমানদের ঐতিহাসিক কবরস্থান

জান্নাতুল বাকি হলো সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত মুসলমানদের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কবরস্থান। এটি মসজিদে নববীর দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থিত। এই কবরস্থানটিকে আরবি ভাষায় বাকি আল-গারকদ বলা হয়। প্রায় ১,৪০০ বছরের প্রাচীন এ কবরস্থানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকটাত্মীয়, সাহাবি এবং ইসলামের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও হাররা যুদ্ধের শহীদরা সমাহিত আছেন। ৬২২ সালে মদিনায় হিজরতের পর এই স্থানটি মরুভূমি থেকে কবরস্থানে রূপান্তরিত হয়। জান্নাতুল বাকি সাধারণ কোনো কবরস্থান নয়। এটি মদিনার ইতিহাস ও ইসলামের মহিমার জীবন্ত দলিল। এখানে শায়িত আছেন নবিজি (সা.)-এর পরিবার, সাহাবায়ে কেরাম ও অসংখ্য অলোকিত ব্যক্তিত্ব। তাই মুসলমানদের জন্য এ স্থান শুধু স্মৃতিবিজড়িত স্থানের পাশাপাশি ঈমানি আবেগ ও দোয়ার পবিত্র ঠিকানা।

মসজিদে নববী নির্মাণের সময় তিনি মসজিদের স্থানটি দুজন এতিম শিশুর কাছ থেকে কিনে নেন। তার এক সাহাবি আসাদ বিন জারারার মৃত্যুর পর মুহাম্মদ (সাঃ) কবরস্থানের জায়গা নির্ধারণ করেন। আসাদ বিন জারার ছিলেন এখানে দাফন হওয়া প্রথম আনসার ব্যক্তি। উসমান বিন মাজুন এখানে দাফন হওয়া প্রথম মুহাজির ব্যক্তি। তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফানের মৃত্যুর পর তাকে এখানে দাফন করা হয়। তখন তার কবরটি পার্শ্ববর্তী ইহুদি কবরস্থানের মধ্যে পড়ে। খলিফা প্রথম মুয়াবিয়া তার সম্মানে এই স্থানকে জান্নাতুল বাকির অংশ করে নেন। উমাইয়া খিলাফতের সময় তার কবরের উপর প্রথম গম্বুজ নির্মিত হয়। অন্যান্য সময়েও এখানকার বিভিন্ন কবরের উপর গম্বুজ ও স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভ গুলো ১৮০৬ সালে প্রথম ভেঙ্গে এবং এবং ১৯২৫ বা ১৯২৬ সালে আবার ধ্বংস করা হয়েছিল। আল সৌদির একটি জোট এবং দিবিয়া আমিরাত নামে পরিচিত ওয়াহাবি আন্দোলনের অনুসারীরা প্রথম প্রথম ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। নজদ সালতানাত আল সৌদ দ্বারা শাসিত এবং ওয়াহাবি আন্দোলনের অনুসারীরা দ্বিতীয় ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করেছিল। উভয় ক্ষেত্রেই, ধ্বংসযজ্ঞ যারা চালিয়েছিল তারা ইসলামের ওয়াহাবি ব্যাখ্যা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল, যা কবরের উপর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ নিষিদ্ধ করে। বর্তমানে জান্নাতুল বাকি কবরগুলো সমতল। সরকার এখানে কোনো স্থাপনা বা গম্বুজ না রেখে সব কবর সমতল করে দিয়েছে। বর্তমানে কবরগুলো চিহ্নিত করার জন্য কোনো নামফলক নেই এবং কোনটি কার কবর তা আলাদাভাবে চেনার উপায় নেই, কেবল মাটির ঢিবি বা পাথর দিয়ে চিহ্নিত করা।

আগে সারাদিন জান্নাতুল বাকি খোলা থাকত এবং কোন বাউন্ডারি ছিল না। বর্তমানে প্রতিদিন ফজর ও আসরের নামাজের পর জিয়ারতের জন্য গেইট খুলে দেওয়া হয়। পুরুষের কবরস্থানের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান। নারীরা কবরস্থানের বাইরে থেকে বা বেড়ার বাইরে থেকে যিয়ারত করতে পারেন। এই কবরস্থানের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে বহু হাদিস পাওয়া যায়। যেমন হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) চুপিসারে ঘর থেকে বের হলেন। আমি তঁার পিছু নিলাম। দেখি তিনি জান্নাতুল বাকিতে দঁাড়িয়ে দীর্ঘ সময় হাত তুলে দোয়া করছেন। পরে তিনি বললেন, হে আয়েশা! জিবরাইল আমার কাছে এসে আদেশ দিয়েছিলেন, বাকিবাসীদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৭৩)।

জান্নাতুল বাকি কেবল মদিনার নয়, বরং সমগ্র ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য অংশ। প্রতি বছর লাখো মুসলমান এ স্থান পরিদর্শন করে তঁাদের জন্য দোয়া করে থাকেন।

ড. আব্দুস সাত্তার : অয়াসিংটন ডি সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়