প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৫১
সন্ধ্যা হলেই জমজ বোন আরোহী ও আরিসা মাকে খোঁজে
পরকীয়ার জ্বালায় পুড়লো দাম্পত্য-বাঁধন!

আরোহী ও আরিসা। ৫ বছরের দু জমজ বোন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজেরা পুরো বাড়ির আঙ্গিনা জুড়ে দৌড়াদৌড়ি করে, খেলনা নিয়ে নিরিবিলি খেলা করে। দুপুরে দাদী বা বাবা খাইয়ে দেয় আর ঘুম পাড়িয়ে দেয়। কিন্তু রাত নামলেই শুধু মাকে খোঁজে। চারিদিকে 'মা মা' বলে ডাক দেয় আর দুচোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকে এই বুঝি মা এলো। কিন্তু জন্মদায়িনী মমতাময়ী মা পাষাণ হয়ে পরকীয়ার টানে ঘরে ছেড়ে চলে যাওয়ায় ছোট্ট দুটি অবুঝ শিশুর প্রতীক্ষা আর ফুরায় না। এভাবেই গত ১৭টি দিন পার করেছে তারা। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে অসহায় আরোহী ও আরিসার অসহায় বাবা মনির হোসেন তার স্ত্রী রহিমা বেগম (২৭)-এর বিপথগামিতা সত্ত্বেও ফিরে আসলে তাকে মেনে নিবেন বলে জানান। করুণ এই কাহিনী ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রামদাসেরবাগ গ্রামের।
|আরো খবর
থানায় অভিযোগ দিলেও উদ্ধার তৎপরতায় দৃশ্যমানভাবে এগোতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগুচ্ছে জমজ দু শিশু। সুন্দর পরিপাটি গোছালো সংসার হঠাৎ এমন বিষাদময় ঘটনায় বাকরুদ্ধ ভুক্তভোগী স্বামীর পরিবার।
জানা যায়, রামদাসেরবাগ গ্রামের মো. মনির হোসেনের সঙ্গে একই উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের খাড়খাদিয়া গ্রামের হান্নান পাটওয়ারীর মেয়ে রহিমা বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ১০ বছর আগে। এ দম্পতির ঘর আলোকিত করে আরোহী ও আরিসা নামের জমজ দু কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে তাদের বয়স পাঁচ বছর। প্রাকৃতিক পরিবেশে নবনির্মিত বসতঘরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে রেখে স্বামী মনির হোসেন জীবিকার তাগিদে পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ উপজেলায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে গত ৩০ মার্চ রহিমা বেগম সন্তানদের রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে মনির হোসেন বাড়িতে এসে স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে লোকমুখে জানতে পারেন, তার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে চলে গেছেন। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মো. মনির হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ঝগড়াবিবাদ ছিলে না। সে আমার অবুঝ সন্তানদের রেখে গচ্ছিত টাকাপয়সা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। আমি চাই, অন্তত আমার সন্তানদের জীবনের কথা ভেবে হলেও সে ফিরে আসুক।’
রহিমা বেগমের শ্বাশুড়ি আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমার চার পুত্র সন্তান, মেয়ে না থাকায় পুত্রবধূকে মেয়ের মতো করে আদর করেছি। সেই বউ আমাদের সবার কথা ভুলে ফুলের মতো দু মেয়েকে রেখে চলে গেছে। আমরাও চাই, সে নিজের মেয়েদের জীবনের কথা ভেবে ফিরে আসুক।’
এদিকে রহিমা বেগমের বাবার মুঠোফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই পিয়াস বড়ুয়া বলেন, অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্যে পুলিশ কাজ করছে। অভিযান নিশ্চিত হয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ









