শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৫

লাইলাতুল ক্বদরের যা করনীয়

অনলাইন ডেস্ক
লাইলাতুল ক্বদরের যা করনীয়

শবে কদরের রাতে (লাইলাতুল ক্বদর) বেশি বেশি পাঠ করার জন্য নবীজী (সা.) যে দোয়াটি শিখিয়েছেন তা হলো:

‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নী’। এর অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’।

দোয়াটি পাঠ করার কারণ: উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) নবীজী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে তখন কোন দোয়া পড়বো?” জবাবে তিনি এই দোয়াটি পড়ার নির্দেশ দেন

এই রাতের মূল আমলই হলো আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা। এটি শবে কদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শেখানো দোয়া।

শবে ক্বদরের আমল:

ইতিকাফ করা, নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার এবং বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় ক্বদরের রাতে নামাজ আদায় করলে আগের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

তওবা ও ইস্তিগফার: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই)

লাইলাতুল কদরের যিকির ও আমল তসবিহ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।

দরুদ শরিফ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

নফল নামাজ: অন্তত ২ রাকাত বা ৮-১২ রাকাত নফল নামাজ।

নামাজের নিয়ম :

লাইলাতুল কদরের রাতে বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; দুই রাকাত করে নফল নামাজ যত বেশি সম্ভব, মনোযোগসহ আদায় করা উত্তম।

এশার পর থেকে ফজর পর্যন্ত সময়ে ২ রাকাত করে নিয়ত করে (নফল নামাজের নিয়ত) কোরআন তেলোয়াত, দোয়া ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে রাতটি কাটানো উচিত।

কদরের নামাজ আদায়ের বিস্তারিত নিয়ম:

নিয়ত : মনে মনে নিয়ত করাই যথেষ্ট “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কদরের রাতের ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করছি”।

পদ্ধতি: সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে নামাজ পড়তে হয়। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাছ, সূরা কদর, আয়াতুল কুরসি বা অন্য কোনো সূরা মিলিয়ে পড়া যায়।

সুন্নত রাকাত: কেউ চাইলে ৮ রাকাত বা ১২ রাকাত বা তার বেশিও পড়তে পারেন।

অন্যান্য আমল: নামাজ ছাড়াও কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তাসবিহ পাঠ এবং আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য মাফ চাওয়ার উত্তম সময় এটি।

সতর্কতা : কদরের নামাজের জন্য বিশেষ কোনো সূরা বা রাকাত নির্দিষ্ট করা নেই ।

রাতের শুরু এবং শেষভাগে নামাজ পড়া এবং দোয়া করা উত্তম।

শবে কদরের রাতগুলো রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখ) খেঁাজার চেষ্টা করা উচিত।

কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির: এই রাতে বেশি বেশি নফল সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার করা।

লাইলাতুল কদর হলো রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর একটি, তাই শেষ দশ দিনই ইবাদতে মশগুল থাকা উচিত।

লাইলাতুল কদরের রাতে বা শেষ ১০ দিনে দান-সদকা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই পবিত্র রাতে দান করলে হাজার মাসের দানের সমান ফজিলত পাওয়া যায়। বিশেষ করে দরিদ্রদের সহায়তা, মসজিদ-মাদ্রাসায় দান এবং ইফতার করানোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়।

তাহাজ্জুদ নামাজের ৪ ফজিলত

ইসমাঈল সিদ্দিকী, ইসলামবিষয়ক গবেষক

তাহাজ্জুদ মুমিনের মর্যাদার সোপান। রবের প্রিয় হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। ফরজ নামাজের পরই তাহাজ্জুদের স্থান। তাহাজ্জুদের মাধ্যমে পাপ মুছে যায়। আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সরাসরি সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তাহাজ্জুদ প্রাণহীন হৃদয়কে সজীব করার শ্রেষ্ঠ উপায়। কোরআন ও হাদিসে তাহাজ্জুদের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, নিচে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হলো:

এক. পাপ মুছে দেয়: হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘তোমরা কিয়ামুল লাইলের প্রতি যত্নবান হও। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অভ্যাস এবং রবের নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। আর তা পাপরাশী মোচনকারী এবং গুনাহ থেকে বাধা প্রদানকারী।’ (তিরমিজি: ৩৫৪৯)

দুই. দোয়া কবুল হয়: নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা রাতের শেষ তৃতীয়াংশে কাছের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছো, দোয়া করবে এবং আমি তার দোয়া কবুল করব। কে আছো, আমার কাছে (তার প্রয়োজন) চাইবে এবং আমি তাকে দান করব। কে আছো, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে এবং আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি: ১১৪৫)

তিন. মর্যাদা বৃদ্ধি পায়: নবী (সা.) বলেন, ‘মুমিনের মর্যাদা কিয়ামুল লাইল তথা রাতে দঁাড়িয়ে তাহাজ্জুদ আদায় ও বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে, আর তার সম্মান মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষিতার মধ্যে।’ (তবরানি: ৪২৭৮)

চার. জান্নাত লাভ করা যায়: নবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই জান্নাতে রয়েছে এমন কিছু প্রাসাদ, যার বাইরে থেকে ভেতরাংশ দেখা যাবে, ভেতর থেকে বাইরের অংশ দেখা যাবে। এগুলো আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন, যারা মানুষকে খাবার খাওয়ায়, কোমল ভাষায় কথা বলে, ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখে, সালামের প্রসার ঘটায় এবং রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তারা নামাজে দঁাড়িয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২২৯০৫) সূত্র : আজকের পত্রিকা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়